মঙ্গল্বার ১১ অগাস্ট ২০২০


কোনোদিন পৈতৃক ভিটায় ফেরা হবে কিনা জানি না!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.07.2020

চাঁদপুর প্রতিনিধি।।

পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর ইউপির চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। ভিটেবাড়ি হারিয়ে কোথায় যাবে, এমনি অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের এখন দিন কাটছে।

গত দুইদিনে আরো কয়েকশ পরিবারের শেষ সম্বল বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনের ভয়াবহ ভাঙনে এরইমধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাদ পড়েনি ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ছোট বাজারও।

সহায় সম্বল হারানো মজিদকান্দি এলাকার জেলে রহমান মিয়া, কাজল গাজী ও খালেক বাউল বলেন, নদীতে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপাতত এক আত্মীয়ের বাড়ি আশ্রয় নেব। কিন্তু পরে কোথাও যাব কি করবো তা বলতে পারছি না।

তারা আক্ষেপ করে বলেন, আর কোনোদিন পৈতৃকভিটায় ফেরা হবে কিনা জানি না।

এদিকে চারপাশ নদীগ্রাস করলেও এখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে রাজরাজেশ্বর ওমর আলী হাই স্কুল কাম তিনতলা সাইক্লোন সেন্টারটি। তবে যেকোনো সময় সেটি বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে চরাঞ্চলবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন ধরে চাঁদপুরের দুর্গম চর রাজরাজেশ্বরের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মার ভয়াল থাবায় বিলীন হতে চলেছে। উজানের তীব্র পানির চাপ দক্ষিণের সাগরে নামতে গিয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে পদ্মা নদীর চাঁদপুর অংশটি। এতে নদীপাড়ের রাজরাজেশ্বর ইউপির মান্দেরবাজার, ঢালিকান্দি, রাজারচর, মজিদকান্দি, লক্ষ্মীমারার চরসহ আরো কয়েকটি চর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে।

রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী জানান, প্রতি বর্ষায় চরে ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবারের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এরইমধ্যে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের বসতবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাই সহায় সম্বল হারানো ওইসব মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনসহ বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

চাঁদপুর সদরের ইউএনও কানিজ ফাতেমা বলেন, প্রতি বছরই চরাঞ্চলে কম বেশি ভাঙন সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবারের ভাঙ্গনে শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারা হয়ে পড়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখবো ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কিছু করা যায় কিনা। চরাঞ্চলে ভবিষ্যতে বহুতল ভবন না করে ভাসমান বা টিনশেড ভবন করা হবে।