শনিবার ৮ অগাস্ট ২০২০


ডা. খুরশীদ মহাপরিচালক হওয়ায় কুমিল্লায় খুশির আমেজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.07.2020

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লার চান্দিনার পানিপাড়া গ্রামের কৃতী সন্তান ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি ১৯৭৬ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ১০তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি কলেজের অধ্যক্ষ ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ বিতর্কের মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদ থেকে ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করলে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডা. খুরশীদ আলমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘোষণাটি আসার পর থেকে কুমিল্লা জেলায় আনন্দের সঞ্চার হয়। ফেসবুকে বইছে শুভেচ্ছার ¯্রােত। এই ক্রান্তিকালে কুমিল্লার একজন মেধাবী সন্তান স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তন আনবেন বলে বিশ্বাস কুমিল্লার বিশিষ্টজনদের। সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সততার মাধ্যমে তিনি বিজয়ের মালা পরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ। এনিয়ে কথা হয় কুমিল্লার আটজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে । মতামতগুলো গ্রহণ করেছেন দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার তৈয়বুর রহমান সোহেল।

কুমিল্লার সন্তানরা ব্যর্থ হয় না- প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব, প্রধান বিচারপতি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা তাদের মেধা দিয়ে কুমিল্লার মুখ উজ্জ্বল করেছেন ও করছেন। সম্প্রতি কুমিল্লার আরেক সন্তান নৌ-বাহিনী প্রধান হয়েছেন। ডা. খুরশীদ আলমও পারবেন। কোনো সিন্ডিকেটই তাকে আটকাতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। স্বাস্থ্য খাতের যে সকল নেতিবাচক দিকগুলো ছিল, তা পরিবর্তন করে তিনি দেখিয়ে দিবেন কুমিল্লার সন্তানরা ব্যর্থ হয় না। তার এ অর্জন আমাদের জন্য গৌরব বয়ে আনুক।

কোথায় কী অনিয়ম, সবই তার জানা- প্রফেসর আব্দুস সালাম
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুস সালাম মানিক বলেন, যেখানে যত সিন্ডিকেটই থাকুক, ডা. খুরশীদ আলম তা ভেঙে দিবেন। আমার বিশ্বাস তা তিনি পারবেন। স্বাস্থ্য বিভাগে কোথায় কোন অনিয়ম আছে, এতদিনে তা তার নখদর্পণে আছে। তিনি একজন মেধাবী সন্তান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকও তিনি। সব অনিয়ম দূর করে তিনি কুমিল্লাবাসীকে গর্বিত করবেন।

মন্ত্রী ও সচিবকে ডিঙিয়ে সে একা কাজ করতে পারবে না- ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ডা. খুরশীদ আলম চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বেশি ডিগ্রিধারীদের একজন। সে অত্যন্ত জ্ঞানী একজন চিকিৎসক ও শিক্ষক। আমি অধ্যক্ষ থাকতে সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান ছিল এবং আমার অনুরোধ রক্ষা করতে গিয়ে ওই সময়ে সে ঢাকা ট্রান্সফার হয়নি। আমি বলব, সে চিকিৎসকদের চিকিৎসক। এত দারুণ তার প্রজ্ঞা। কিন্তু সমস্যা হলো, মন্ত্রী ও সচিবদের ডিঙিয়ে সে একা কাজ করতে পারবে না। অনিয়ম যদি সবাই মিলে করে, দোষ পড়ে একা ডিজির। এমন হলে তো তাকে চাকরির শেষ সময়ে কাদা মেখে বের হতে হবে। সবাই মিলে টেন্ডারবাজ ও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়লে তার একার মেধা কোনো কাজে আসবে না।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সৎসাহস তার আছে- ডা. মুজিবুর রহমান
কুমিল্লার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, শল্য চিকিৎসার লিজেন্ড ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। তিনি সৎ, নির্মোহ ও মেধাবী ব্যক্তিত্ব। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। সেসময়ে ওনার প্রশাসনিক দক্ষতা টের পেয়েছি। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সৎসাহস তার আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল, ডা. খুরশীদ যদি তার মেধার সামান্যটুকুও প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। অধিদপ্তরে এমন সৎ ব্যক্তিকে পেয়ে চিকিৎসকরা গর্বিত। তার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

আমাদের ডিজি, আমাদের গর্ব- ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, কুমিল্লার বাসিন্দা ডিজি মহোদয় আমাদের গর্ব। ডা. খুরশীদ আলমের মতো ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন, এ দুর্যোগময় সময়ে এরচেয়ে আনন্দের আর কোনো সংবাদ হতে পারে না। কুমিল্লার স্বাস্থ্য খাতেও তিনি ব্যাপক অবদান রাখবেন। এটা আমাদের জন্য বিরাট সুযোগ। আমরা ডা. খুরশীদের কাছে কিছু চাইলে তিনি আমাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন না। তিনি সততা ও দক্ষতা দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সংস্কার করবেন।

টিম ওয়ার্কটা জরুরি- আবুল খায়ের মুন্সী
মাধ্যমিক ও উচশিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল খায়ের মুন্সী বলেন, সব মন্ত্রণালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের একটা ব্যাপার থাকে। যদি এমন হয়, তবে ডা. খুরশীদের পক্ষে কাজ করাটা মুশকিল হবে। এখানে অল্পসময়ে সংস্কারের একট চ্যালেঞ্জ থাকবে। আশেপাশে শক্তিশালী লোক না থাকলে সব আগের মতো থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। সবার আগে টিম ওয়ার্কটা জরুরি। ভালো টিম ওয়ার্ক থাকলে, তিনি তার মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে পারলে পরিবর্তন সম্ভব।

স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে- ডা. বাকী আনিস
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পাবেন না ডা. খুরশীদ। সেখানে মন্ত্রী ও দুইজন সচিবের নিয়ন্ত্রণ আছে। আপনারা একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেট দেখেছেন। সব প্রভাবকে দূরে ঠেলে স্বাধীনভাবে কাজ না করতে পারলে অধিদপ্তরে পরিবর্তন আনাটা দু:সাধ্য হবে বলে মনে করেন বিএমএ কুমিল্লার সভাপতি ডা. বাকী আনিস। তিনি জানান, মেধায় ডা. খুরশীদ অনন্য। তিনি ডায়নামিক ও সৎলোক। কুমিল্লায় আমরা তার দারুণ প্রশাসনিক দক্ষতা দেখেছি। সমস্ত এশিয়ার ডাক্তাররা তাকে এক নামে চিনে। তিনি সিন্ডিকেটের কথা না শুনে যদি স্বাধীনভাবে কাজ করেন, তবে পরিবর্তন আসতে বাধ্য।

তিনি সংস্কৃতিমনা ও যোগ্য মানুষ- ডা. আতাউর রহমান জসিম
বিএমএ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসিম জানান, ডা. খুরশীদ আলম সংস্কৃতিমনা ও অতিযোগ্য মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন এক যোগ্য ব্যক্তিকেই পছন্দ করে এখানে বসিয়েছেন। যদিও তার চাকরির মেয়াদ মাত্র ছয়মাস আছে, তারপরও এটা দেশের মানুষের জন্য আর্শীবাদ। কুমিল্লার মানুষের জন্য বিরাট সুযোগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মারাত্মক সিন্ডিকেট আছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্লেসিং তার ওপরে আছে। এ অধিদপ্তরের সিন্ডিকেট ভাঙতেই হবে। ডা. খুরশীদ আলম প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিবেন বলে আমার ধারণা। অনেক সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে তিনি স্বাস্থ্যখাতের বদনামটা ঘুচিয়ে দিবেন। কুমিল্লার ঝাউতলায় ৭০-৮০বছর ধরে তিনি ও তার পরিবার বসবাস করে আসছেন। কুমিল্লার মানুষ তাকে নিয়ে গর্বিত ।