বুধবার ৫ অগাস্ট ২০২০


জরইনে এখন আলোর উৎসব


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.07.2020

মাসুদ আলম ।।
জরইন। গ্রামটি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদর ইউনিয়নে অবস্থিত। পাশের গ্রাম গুলো থেকে জরইন আয়তনে ছোট। তবে ছোট গ্রামের একদল তরুণ বড় একটি কাজ করেছেন। আলো জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করেছেন। গ্রামটিতে শতভাগ বিদ্যুৎ থাকলেও ছিল না কোন সড়কবাতি। সন্ধ্যা নামলে দেশের প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের মতো জরইনেও নেমে আসেতো ঘুটঘুটে অন্ধকার। গ্রামের রাস্তাঘাটগুলো ভাঙাচোরা। বাসন্দিাদের ওই রাস্তায় পথ চলাটা ছিলো কষ্টের। নিতান্ত প্রয়োজনে রাতে ঘর থেকে বের হলে মোবাইল ফোন কিংবা টর্চের আলোতেই ভরসা করতে হতো। অন্ধকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রামটিতে প্রায়ই ঘটতো চুরিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদে সৌরচালিত সড়কবাতি পাওয়ার দাবি দীর্ঘদিনেও পূরণ হয়নি। পরবর্তীতে জরইন স্টুডেন্টস ফোরাম (জেএসএফ) নামে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে গ্রামের তরুণ, যুবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বৈদ্যুতিক সড়কবাতির মাধ্যমে গ্রামের অন্ধকার দূর করেন তারা।
জরইন স্টুডেন্টস ফোরামের সদস্য ও উদ্যোক্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎচালিত সড়ক বাতি বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিদ্যুতের লাইন আসবে কোথা থেকে? অনেক চিস্তা-ভাবনার পর সমাধানের একটা পথ বের করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, যেখানে সড়কবাতি দেয়া হবে, বিদ্যুতের লাইন নেয়া হবে সেই পয়েন্টের কাছাকাছি কোনো বাড়ি থেকে। বিনিময়ে প্রতিমাসে সংশ্লিষ্ট মিটার মালিককে একটি বাল্বের বিদ্যুৎ বিল দিয়ে দেয়া হবে।
এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ান গ্রামের সামর্থ্যবান, কর্মজীবী ও প্রবাসীরা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়কবাতি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠন করা হয় আলাদা একটি ফান্ড। সেই ফান্ড থেকে কেনা হয় সড়কবাতি, খুঁটি, বৈদ্যুতিক তারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। গত শনিবার ধাপে ধাপে শুরু হয় সড়কবাতি বসানোর কাজ। দুই দিনে গ্রামের ২০টি পয়েন্টে বসানো হয় সড়ক বাতি। প্রতিটি বাতির পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।
পরে রবিবার সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে জরইন গ্রামে জ্বলে উঠে সড়ক বাতি। গ্রামজুড়ে এখন আলোর উৎসব। গ্রামবাসীর মধ্যে এখন বইছে স্বাচ্ছন্দ্যে পথ চলার আনন্দ।
সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক কামরুল ইসলাম জিয়াদ জানান, তাদের জরইন গ্রামে ছোট-বড় সাতটি রাস্তা রয়েছে। গ্রামের প্রতিটি সড়কের অন্ধকার দূর করতে অর্ধশত সড়ক বাতির প্রয়োজন। উদ্যোগে যেহেতু সফল হয়েছেন আস্তে আস্তে গ্রামের প্রতিটি সড়ক আলোকিত করতে কর্মকা- চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও জানান, তাদের গ্রামের অন্ধকার দূর কারার এই কর্মকান্ড দেশে পাশর্^বর্তী হরিপুর, রাজাপুর, পূর্ণমতি ও বুড়িচংসহ আশপাশের গ্রামের মানুষরা উদ্বুদ্ধ ও আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
এদিকে গ্রামবাসী মনে করছেন, সড়কবাতি বসানোর ফলে গ্রামে চুরিসহ অপরাধমূলক নানা কর্মকা- বন্ধ হবে। তারা মনে করেন জরইন স্টুডেন্টস ফোরামের এমন উদ্যোগ দেশের অন্য অনেক গ্রামের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।