মঙ্গল্বার ১১ অগাস্ট ২০২০


কুমিল্লায় হাটে পশু আছে ক্রেতা নেই


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.07.2020

মাসুদ আলম।।
এখনও জমে উঠেনি কুমিল্লার হাট। হাটে গরু থাকলেও বিক্রি কম। ঘুরাঘুরি করছেন ক্রেতারা। শেষ সময়ে দাম কমার আশায় বসে আছেন। তবে বিক্রেতারা কাঙ্খিত দামে পৌঁছা পর্যন্ত পশু ছাড়ছেন না। জেলা প্রশাসন বলছে কুমিল্লায় অনলাইন এ্যাপসের মাধ্যমে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সাড়া মিলছে। তবে খামারীরা বলছেন তেমন সাড়া নেই।
কুমিল্লার চৌয়ারা বাজারে পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, নানা দাম ও রঙের পশু হাটে উঠেছে। তার মধ্যে দেশীয় পশুর সরবরাহ বেশ ভালো। কিন্তু বিক্রেতারা ক্রেতা পাচ্ছেন না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে অবস্থানের পর বিক্রি না হওয়ায় পশু নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়া জেলার লাকসাম,মনোহরগঞ্জ, চান্দিনা, সদর ও বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ব্যবসায়ী এবং খামারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকেও বেপারীরা পশু নিয়ে আসছেন হাটগুলোতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর অনলাইনে কোরবানি পশু ক্রয় করার জন্য অনলাইন এ্যাপস চালু রয়েছে। এতে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বল্প পরিসরে হাটে যাওয়ার জন্য এবং অনলাইনের মাধ্যমে গরু ক্রয় করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে শহরের কিছু মানুষ অনলাইনে গরু কিনলেও গ্রামের মানুষের ভরসা কোরবানির হাট।
ক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কম। আমরা গরু দেখছি। আজ বুঝে হলে কিনবো না হলে আরও একটা বাজার দেখার পর কিনবো। এখনোতো কোরবানির এক সপ্তাহ সময় আছে।
লালমাই উপজেলার খামারী আবদুল আজিজ বলেন, এক সপ্তাহ আগে ১৫টি গরুর ছবি ও তথ্য অনলাইনে দিয়েছি। একজন মাত্র জানতে ফোন করেছে। এবার কোরবানির জন্য ৬০টি গরু প্রস্তুত করেছি। বাজারে ক্রেতা কম। ভালো দামের অপেক্ষায় আছি।
চৌয়ার গ্রামের গরু বিক্রেতা আনু মিয়া জানান, করোনা সংকটে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু পালন কষ্টকর হয়ে গেছে। ক্রেতা নেই বলে গরু বিক্রি করতে পারছেন না। দিন যত এগুচ্ছে তাদের কপালের চিন্তার ভাঁজ প্রসারিত হচ্ছে।
চৌয়ারা কোরবানির হাটের ইজারাদার দুলাল মাস্টার বলেন, হাটে আশপাশের প্রচুর গরু উঠেছে। এবার হাট নিয়ে কাঙ্খিত লাভ দূরে থাক, আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আশংকা করেন। এ বাজারে প্রতিদিন হাট বসলেও আজ মঙ্গলবার হাটে কাঙ্খিত বেচা-বিক্রি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে আমাদের কমিটির লোকজন প্রবেশ দ্বারে মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। বেলা ২টার পর ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমের কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পিন্টু বেপারী জানান, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়িয়ে অনলাইন এ্যাপসে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে মানুষের মাঝে সাড়া পড়েছে। এপর্যন্ত প্রায় ২শ এর অধিক পশু জেলা প্রশাসনের এ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। খামার থেকে জেলা প্রশাসনের লোকজন পছন্দের পশুর ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করে দেয়া হয়। সাথে বিক্রেতার মোবাইল ফোন নম্বর। পশু পছন্দ করে ক্রেতা-বিক্রেতা সমন্বয় করে কেনা-বেচা করেন। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পশু বিক্রি হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকার ক্রেতা বেশি।
কুমিল্লা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হাটে রুগ্ন গরু ও ওষুধ প্রয়োগে মোটা করা গরু বিক্রি ঠেকাতে ৫০টি ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে। কোরবানিতে জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার, মজুদ রয়েছে দুই লাখ ৩১ হাজার পশু। স্বাস্থ্য বিধির যেন ব্যাঘাত না ঘটে সেকারণে অনলাইনে এবার পশু বিক্রি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাড়াও মিলেছে।