বুধবার ৫ অগাস্ট ২০২০


১৮ বছর সংস্কার হয়নি বাতাকান্দি-বাহেরচর সড়ক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.07.2020

মো. মহসিন হাবিব,তিতাস।।
কুমিল্লা তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি-বাহেরচর সড়কের বেহাল দশা। রাস্তার খানা-খন্দে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। বাতাকান্দি বাজার হতে বাহেরচর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এই সড়কটির এসব গর্তের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়াও দ্বিগুণ গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। ১৮ বছর ধরে সড়কটি সংস্কার হয়নি।
সরজমিনে দেখা যায়, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্কুলে পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী এবং জরুরী রোগী নিয়ে উপজেলা সদরে যাওয়া আসা করতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এখানে রয়েছে দুইটি পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতাল, তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক, মোহনপুর দাখিল ও ফাজিল মাদ্রাসা, একটি কারিগরি বিদ্যালয়সহ দুটি হাই স্কুল। প্রতিবেশী মেঘনা থানা ও দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর ইউনিয়নসহ তিতাস উপজেলার মজিদপুর, জগতপুর, সাতানী এ চারটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।
প্রায় দেড় যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ায় বাতাকান্দি-বাহেরচর সড়কটির এমন বেহাল দশা। রাস্তা খারাপ হওয়ায় সাধারণ জনগণের পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। খানা-খন্দে ভরা রাস্তায় প্রায়ই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
নয়াকান্দি বাজারের মুদি দোকানী মোবারক হোসেন জানান, কোন না কোন কাজের জন্য যাতায়াত করতে হয় বাতাকান্দি বাজার হয়ে জেলা শহরে। স্বল্প সময়ে যাতায়াতের একমাত্র পথ বাতাকান্দি বাজার হতে ভাটেরচর সড়ক। কিন্তু প্রায় দেড় যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গেছে, ভরে গেছে খানা-খন্দে। মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় যাত্রীদের। দ্রুত সড়কটি সংস্কার হলে কমবে ৩০ হাজার মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগ।
সড়ক খারাপ হওয়ায় পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়। গাড়ি ভাড়া পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে অনেক সময়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সড়কটি নিয়ে খুবই বিপদে আছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান এই ব্যবসায়ী।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সামসুল হক সরকার জানান, বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন সরকার পূর্বে চেয়ারম্যান থাকাকালীন রাস্তাটির কিছু অংশে কাজ হলেও এর পূর্বে ও পরে রাস্তাটির দিকে কেউ তাকিয়ে দেখেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় সড়কটি। রাস্তায় পানি জমে থাকলে কোন জায়গাটা ভাঙা তা বোঝা যায় না। যানবাহনের চাকা ভাঙা স্থানে পড়ে ঘটে দুর্ঘটনা। মাঝে মধ্যেই যানবাহন যাতায়াতকালে খানা-খন্দে পণ্যবাহী বড় যানবাহন আটকা পড়ে, এ ভাবেই রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে উক্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ মুহীব উল্লাহ বলেন, বাতাকান্দি-বাহেরচর রাস্তাটি লুনা ট্রের্ডাস নামক কোম্পানি একটি টেন্ডার ড্রপ করেছিল। কিন্তু ঠিকাদার কাগজপত্র ঠিকমত দেয়নি সে কারণে টেন্ডার বাতিল হয়ে গেছে। এটি পুনরায় রি-টেন্ডার হবে।