বুধবার ৫ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » কুমিল্লা নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা


কুমিল্লা নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে প্রবাসীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.07.2020

মাসুদ আলম।।
কুমিল্লা অঞ্চলের প্রবাসীরা করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাচ্ছেন না। দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে নমুনা পরীক্ষার সিডিউল পেতে। বাড়তি অর্থ না দিলে মিলছে না করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল কিংবা সিডিউল। সরকার বিদেশগামীদের জন্য কোভিড নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করলেও সব জেলায় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বৃহত্তর কুমিল্লার নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রবাসীদের ভুগতে হচ্ছে। বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ফি, নমুনা গ্রহণ ও সার্টিফিকেট নিতে নিয়মের বেড়াজালে যাত্রার আগে ঘাম জরিয়ে টানা তিন দিন ছুটাছুটি করছেন এই রেমিটেন্স যোদ্ধারা। শেষ মুহূর্তে টিকিট যোগাড় হলেও সময়মতো করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারায় যাত্রা বাতিল হচ্ছে অনেকের।
জানা যায়, বিদেশযাত্রীদের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য সরকারিভাবে একমাত্র কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ছয় জেলার প্রবাসীদের নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। কুমিল্লা ছাড়াও অপর পাঁচ জেলা নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনীর প্রবাসীদেরও কুমিল্লায় আসতে হচ্ছে এই পরীক্ষার জন্য।
প্রবাসীরা বিমানের টিকেট কনফার্ম করার পর তিন দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা হাতে পান সার্টিফিকেট। গত ২০ জুলাই থেকে কুমিল্লায় শুরু করা হয় নমুনা সংগ্রহ। বিদেশযাত্রীদের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার একমাত্র স্থান হচ্ছে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব। গত মঙ্গলবার থেকে ওই ল্যাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও নমুনা সংগ্রহ হয় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে। রিপোর্টও প্রদান করা হচ্ছে এই কার্যালয় থেকে। রেজিস্ট্রেশন, নমুনা প্রদান ও রিপোর্ট গ্রহণের জন্য পরপর তিনদিন ব্যয় করতে হচ্ছে বিদেশযাত্রীদের। এ কারণে ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক বৃদ্ধ, বৃদ্ধা যাত্রীকেও বাধ্য হয়ে আসতে হচ্ছে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, কুমিল্লায় ছয় জেলার বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের সরকারি নিয়ম কানন মেনে করোনা সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। গত ২০ জুলাই থেকে প্রায় ৫০০ প্রবাসীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে ৪০০ প্রবাসীকে। নয়জন প্রবাসীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
আবর আমিরাত (দুবাই) প্রবাসী জসিম উদ্দিন কুমিল্লা ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থেকে এসেছেন করানা সার্টিফিকেটের জন্য। তিনি গত শনিবার কুমিল্লা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নমুনা দিয়ে গেছেন। তার ফ্লাইট সোমবার বিকেল ৫টায়। তিনি জানান, সোমবার ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে ফেনী থেকে কুমিল্লা এসেছি করোনা সার্টিফিকেট নিতে। রিপোর্ট ফেলেই যেতে ঢাকা বিমান বন্দরে। তার দাবি এক হয় সময় বাড়ানো হোক, না হয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
অন্যদিকে গত শনিবার মিজানুর রহমান নামে এক প্রবাসী নমুনা দিতে এসে মলমপার্টির কবলে পড়েছেন কুমিল্লা নগরীর চকবাজার বাস স্ট্যান্ডে। তিনি চৌদ্দগ্রাম মিয়া বাজার থেকে এসেছেন। তার ভাই নূরুন নবী জানান, অনেক যুদ্ধের পর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নমুনা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মলমপার্টি কবলে পড়ে তার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ফেনী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ আবর আমিরাত (দুবাই) যাবেন। ফ্লাইট বিকেল ৫টায় কিন্তু ৪০ ঘন্টায় করোনা সার্টিফিকেট পাননি।
লক্ষীপুর থেকে নমুনা দিতে এসেছেন বাহারাইন প্রবাসী ইকবাল হোসেন জানান, সকাল ৮টায় এসে দাঁড়িয়ে আছি নমুনা দেওয়ার জন্য। রেজিস্ট্রেশন হলেও ৬ ঘন্টা অপেক্ষার পরও নমুনা দেয়া সম্ভব হয়নি। ২৯ তারিখ আমার ফ্লাইট। আজ নমুনা দিয়ে ফ্লাইটের আগের দিন সার্টিফিকেট পাবো কি না সেই চিন্তায় ঘুম আসছে না। কারণ বিমানের টিকেট কেটে ফেলছি। তার দাবি রেজিস্ট্রেশন, নমুনা সংগ্রহ এবং রিপোর্ট দেয়া হলে তাদের দুর্ভোগ কমবে।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, কুমিল্লায়সহ ছয় জেলায় এই পর্যন্ত প্রায় ৫০০ প্রবাসীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারমধ্যে ৪০০ প্রবাসীকে করোনা সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। যাদের করোনা পজিটিভ এসেছে তাদেরকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের যেসব সমস্যা হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। তবে দালাল কিংবা কারো দ্বারা কেউ যাতে প্রতারিত না হন সে কারণে তারা নিজেরা আসতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি ৩০ কিংবা ৩৬ ঘন্টার মধ্যে প্রবাসীদের করোনা সার্টিফিকেট দিতে।