বুধবার ৫ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » এলজিইডি সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ


এলজিইডি সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.07.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার শফিকুর রহমানের বেপরোয়া দুর্নীতিতে এখানে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক হরিলুট হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করিয়েই সংশ্লিষ্টদের বিল উত্তোলনে সহায়তা করা, নামমাত্র কাজ করিয়ে পুরো বিল উত্তোলন, প্রকল্পে কাজ না হলেও শতভাগ কাজের প্রত্যয়নপত্র দেয়া, পুরনো কাজ দেখিয়ে নতুন বরাদ্দের উন্নয়নকাজের বিল দেওয়ায় এলজিইডির সার্ভেয়ার শফিকুর রহমান এবার ফেঁসে যাচ্ছেন ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপির বরাদ্দে তার করা দুর্নীতির জালে।
জানা গেছে, সরাইল উপজেলায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি টেন্ডার ও পিআইসি প্রকল্প কাজে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। এ উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে অন্তত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমন অভিযোগ এনে বুধবার (২২ জুলাই) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা সদর ইউপির সৈয়দটুলা গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ উদ্দিন ও কুট্টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবুল কালাম।
এ অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের তথ্যমতে এই দুর্নীতির মূল হোতা সরাইল এলজিইডির সার্ভেয়ার শফিকুর রহমান। এখানে যেসকল প্রকল্পে কাজ হয়নি, অথচ কাগুজে কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, এসবের সকল অপকর্মের হোতা সার্ভেয়ার শফিকুর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সার্ভেয়ার শফিকুর রহমান সরাইল এলজিইডিতে এক কর্মস্থলে প্রায় ১৬ বছর। দীর্ঘ সময় এক কর্মস্থলের সুবাদে এখানে কিছু দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে। সুযোগে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ কাজে হেরফের করে নিজে যেমন আখের গুছিয়েছেন, তেমনি কিছু দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সরাইলে চাকুরির সুবাদে শফিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মেড্ডা এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়েছেন। নিজে সরকারি চাকরি করেও এখানে তিনি তার পছন্দের ঠিকাদারদের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারি করে যাচ্ছেন নেপথ্যে থেকে।
সার্ভেয়ার শফিকুর রহমানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। নিজ জেলায় চাকুরির সুবাদে তিনি এখানে যা খুশি তাই করে চলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সরাইল এলজিইডির সার্ভেয়ার শফিকুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,সব কাজ আমি একা দেখিনা, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদারকি করেই কাজের বিল দেন। সরকারি অর্থ কেলেংকারি সাথে যে অভিযোগ এখানে আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমি ১২বছর যাবত এখানে আছি এটা সত্য। জেলা প্রশাসক বরাবর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে তা লোকমুখে শুনেছি। শহরের মেড্ডায় আমার বাড়ি আছে এটা সত্য।
সরাইল এলজিইডির প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াছমিন(অতিরিক্ত দায়িত্বে) জানান, আমি এখানে এসেছি বেশিদিন হয়নি। এখানে আসার পর থেকেই দেখছি, সার্ভেয়ার শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একেক সময় একেকজন নানা অভিযোগ তুলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অবগত আছেন। তার বিষয়টি তাঁরাই (এলজিইডির ঊর্ধ্বতনগণ) দেখছেন।