শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০


লেবাননে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রনির মৃত্যু


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.08.2020

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।
লেবাননে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার ভাদেশ্বরা গ্রামের মেহেদী হাসান রনির বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বোমা বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রনির বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল তার সঙ্গে আমি ও তার মার কথা হচ্ছিল। এসময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে শঙ্কায় পড়ে। পরে পরিচিত এক স্বজনের মাধ্যমে জানতে পারি, বোমা বিস্ফোরণে রনি মারা গেছে।’
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের মৃত্যুতে বাবা-মা ও স্বজনেরা কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন। তারা রনির মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনেরা জানান, গত ২০১৪ সালের ৯ মার্চ পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে লেবাননে পাড়ি জমায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের তাজুল ইসলামের বড় ছেলে মেহেদী হাসান রনি (২৫)। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি শপিং মলের সুপারশপের বিক্রয় কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। বিদেশের মাটিতে পা রাখার পর আর দেশে আসেননি। এ বছর ঈদে দেশে আসার কথা থাকলেও করোনার প্রভাবের কারণে আর দেশে আসা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে বোমা হামলায় নিহত হবার খবরে রনির বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
রনির ছোটবোন জেসমিন আক্তার হ্যাপী বলেন, ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
খবর পেয়ে এলাকাবাসী স্বজনসহ জনপ্রতিনিধারা নিহত রনির বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানান। মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিনুল হক পাভেল জানান তার লাশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি ভাদেশ্বরা দক্ষিণ পাড়া মানবিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা সহযোগিতার ঘোষণা দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া ভাদেশ্বরা গ্রামের প্রবাসী রনির বাড়ি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দেন।
এছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে লাশ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলবেন।
তাজুল ইসলামের পরিবারে চার সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রনি সবার বড় ছিলেন।