বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০


খাল নয় এটি একটি সড়ক!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.08.2020

মো. মহসিন হাবিব , তিতাস।।
অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ করায় কুমিল্লার তিতাস উপজেলা ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আওতাধীন দড়িকান্দি বেড়ি বাঁধ থেকে কালিপুর পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক প্রায় ৩ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এলাকায় নতুন আসা যে কেউ প্রথম দেখায় এটিকে রাস্তা না ভেবে খাল মনে করে ভুল করবেন।
বর্ষার আসার সাথে সাথেই দড়িকান্দি বেড়ি বাঁধ থেকে ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এক কিলোমিটার পুরো সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ কারণে বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পানির লেভেল থেকে প্রায় ২/৩ ফুট নীচে তলিয়ে যাওয়া নির্মাণাধীন রাস্তায় কোথাও কোমর পানি আবার কোথাও হাঁটু পানি। এ কারণে ইউনিয়নের দড়িকান্দি, ছালিয়াকান্দি, কালিপুর, শ্যাম্বুপুর, গাজিপুর, হাইদরকান্দি, রোগনাথপুর গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ১২ হাজার মানুষের ফলে দ্বিগুণ ভাড়ায় তাদের চলতে হচ্ছে নৌকা যোগে ও বিকল্প রাস্তা দিয়ে।
ওই ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির নেতা ও দড়িকান্দি গ্রামের বাসিন্দ মো. রফিকুল ইসলাম জানান , সড়কটি প্রথম অবস্থায় সরু ছিল। সেই সরু সড়কটি চওড়া করার জন্যে মের্সাস লোকমান হোসেন ফার্মের ঠিকাদার ইয়াছিন অন্যত্র থেকে মাটি না এনে সরু সড়কটির মাটি দুই পাশে ছড়িয়ে দেয়ার কারলে রাস্তাটি ৩ ফুট নীচু হয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে পুরো ১কিলোমিটার রাসÍাটিতে আজ কোথাও কোমর পানি আবার কোথাও হাটু পানি। রাস্তাটি ৩ ফুট নীচু করে কাজ করার সময়ে আমরা সর্বস্তরের জনগণ মিলে ঠিকাদার ইয়াছিনকে অনুরোধ করি এটি না করার জন্য । কিন্তু ইয়াছিন করো কথায় কর্ণপাত না করে দুটি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে রাস্তাটি নীচু করে ফেলে। তাছাড়া রাস্তায় নি¤œমানের সামগ্রীও ব্যাবহার করা হচ্ছে।
বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও শিক্ষক আদিলুজ্জামান জানান , প্রতিদিন চারবার করে এই পথ পাড়ি দিয়েই হেঁটে চলাচল করতে হয়। রাস্তাটিতে হাটুর উপর পানি থাকায় চলাচলের কারণে অনেকেরই পায়ে ঘা হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে মের্সাস লোকমান হোসেন ফার্মের ঠিকাদার ইয়াছিন বলেন, আমি রাস্তার বালু সরাইনি। রাস্তা নীচুও করিনি। তবে রাস্তার দুই পাশে পানি থাকায় ইট ,সুরকি, বালুর গাড়ি যাতায়াতকালে রাস্তার মাটি নিচে সরে রাস্তাটি নীচু হয়ে গেছে। এখন বর্ষাকাল চাইলেই সড়কের কাজ ধরতে পারবনা। বর্ষার পানি চলে গেলেই সড়কের কাজ করব।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মুিহব উল্লাহ বলেন, এ বিষয়টি আমাদের কানে আসার সাথে সাথেই পরির্দশনে যাই। কাজ বন্ধ রাখি। তাছাড়া বন্যাজনিত কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পানি বেশি হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমে রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ শুরু করা যাবে বলে আমি আশা করছি।