বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০


কুমিল্লায় আলুর দাম বেড়েছে, কমেনি মরিচের ঝাল কমছে সবজির দাম


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.08.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
কুমিল্লায় কাঁচা মরিচ, লাউ, আলু ও পেঁপে ছাড়া বাকি কাঁচা তরকারিগুলোর দাম কমতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তরকারির দাম কমেছে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ২০টাকা পর্যন্ত। আগামী এক সপ্তাহ টানা খরা থাকলে দাম আরও অনেক কমে যেতে পারে বলা ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ,চকবাজার, নিউ মার্কেট,রানীর বাজার,টমছমব্রিজ বাজার,বাদশা মিয়ার বাজারসহ কয়েকটি প্রসিদ্ধ বাজারে সরেজমিন গিয়ে পাওয়া যায় এমন তথ্য।
কুমিল্লা নগরীর অন্যতম কাঁচা বাজার বাদশা মিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, গত তিন দিনের খরার কারণে তরকারির দাম অনেক কমে গেছে। আজ (শুক্রবার) নিমসার পাইকারি বাজারে গিয়ে খুব স্বস্তি পেয়েছি। কয়েকদিন বৃষ্টি না হলে কাঁচা মরিচের দামও কমে আসবে।
অবশ্য ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। একই বাজারে আলী আকবর নামে এক ক্রেতা জানান, কোরবানির কারণে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় তরকারির দাম নাগালের মধ্যে রয়েছে। চাহিদা বাড়ার ওপর বুঝা যাবে বাজারের আসল পরিস্থিতি।
বাজারভেদে তরকারির দামে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে মাছের বাজার। রুই, মৃগেল, পাঙাশ, ইলিশ, তেলাপিয়া, সিলভারকার্প, বিগহেড কার্প, কমন কার্প ও সামুদ্রিক মাছের দাম না কমলেও স্থিতিশীল রয়েছে। কমেছে কই, মলা মাছ, শিং, মাগুর, পাবদাসহ দেশি মাছের দাম। ব্রয়লার মুরগি ও সোনালি মুরগির দামও কমেছে প্রতিকেজিতে ৩০ থেকে ৪০টাকার মতো।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহের মতো বর্তমানেও কাঁচা মরিচ ২০০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পূর্বে সবুজ কাঁচা মরিচের চেয়ে কালো মরিচ কেজিতে ৫০টাকা বেশি দরে বিক্রি করা হলেও শুক্রবার দুই প্রকারের মরিচই ২০০টাকা কেজিকে বিক্রি করতে দেখা গেছে। লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ১০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০টাকা দরে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০টাকা কেজিতে। আর আলুর দাম গত সপ্তাহের মতো ৩৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও আলুর দাম দুই সপ্তাহ পূর্বে ৩০টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া বরবটির দাম ৬০টাকা থেকে কমে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পটল ৩৫টাকা থেকে কমে ২৫টাকা, শিংনাথ বেগুন ৪০টাকা থেকে কমে ২৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ৩০ থেকে ৪০টাকা, কলমি শাক প্রতি আঁটি মানভেদে ৫থেকে ১০টাকা, পুঁইশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, ডাটাশাক ১৫ থেকে ২০টাকা, গাজর ৩০টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১১০এবং সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০টাকা কেজিতে।
কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী আলী নুর জানান, উত্তরাঞ্চলের বন্যার প্রভাব ফেলছে কাঁচা মরিচের বাজারে। আমাদের এসব এলাকার বেশীর ভাগ কাঁচা মরিচ আসে উত্তরাঞ্চল থেকে। বন্যার কারণে সেখানে মরিচের জমি ব্যাপক ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তিনি বলেন, বন্যা ও বৃষ্টি কমে আসার সাথে সাথে কাঁচা মরিচের দামও কমতে শুরু করেছে।