বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০


কুমিল্লার গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, যাত্রীদের ঘাড়ে বর্ধিত ভাড়া


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.08.2020

মাসুদ আলম।।
স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব কোনটাই মানা হচ্ছে না কুমিল্লার অধিকাংশ গণপরিবহনগুলোতে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রত্যেক বাস ও মিনিবাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কুমিল্লার শাসনগাছা, চকবাজার এবং জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনালের কোন পরিবহনে তা মানতে দেখা যায়নি। তবে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বোঝা টানতে হচ্ছে যাত্রীদের। পাশাপাশি দুইজনের সিটে একজন বসার বিধান থাকলেও কোন পরিবহন সেই শৃঙ্খলা মানছেন না। এছাড়া জীবাণুনাশক স্প্রে এবং আনুষাঙ্গিক কোন কিছুরই ব্যবহার করছেন না পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা, না মানা এবং ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে পরিবহন চালক ও যাত্রীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগেরও শেষ নেই। বেশি বেহাল অবস্থা শাসনগাছা থেকে ছেড়ে যাওয়া পরিবহন গুলোর।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার শাসনগাছা, চকবাজার এবং জাঙ্গালিয়া তিন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে কোন পরিবহন স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। সরকারি নির্দেশনাকেও তোয়াক্কাই করছেন না।
বেলা সাড়ে ১১টা শাসনগাছা বাস টার্মিনাল থেকে তিশা পরিবহনের একটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে মাত্র রওনা হয়েছে। বাসের ভিতরে উঠে দেখা গেল কোন সিট খালি নেই। প্রত্যেক সিটে যাত্রী বসানো হয়েছে। পূর্বের পরিবেশ যেন পরিবহনে ঝুঁকি নিয়ে ফিরেছে। চালকের সহকারীকে জিজ্ঞাসা করলে সিফাত নামে ওই ব্যক্তি বলেন, ভাই সিট খালি নেই। পরের গাড়িতে যেতে পারবেন।

শতভাগ যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে তিশা পরিবহনের চালক সহকারী সিফাত জানান, কোরবানির ঈদের আগ থেকেই তারা শতভাগ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-কুমিল্লায় আসা-যাওয়া করছেন। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ায় অনীহা প্রকাশে পরিবহন মালিকদের নির্দেশে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে একই টার্মিনালে এশিয়া পরিবহনের সামনেই হালকা জট রয়েছে। এশিয়া লাইন পরিবহনের একটি বাস ঢাকা উদ্দেশ্যে মাত্র ছেড়েছেন। এই বাসেও বিন্দুমাত্র স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও শতভাগ যাত্রী নিয়ে ঢাকা উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বাসটি। এই বাসের হেলপার জানায়, লোকসানের কারণে পরিবহনের মালিকপক্ষের নির্দেশে স্বাভাবিক অবস্থার মত শতভাগ যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে।
তিশা এবং এশিয়া লাইন পরিবহনের মত একই অবস্থা শাসগাছা টার্মিনালের প্রত্যেকটি দূরপাল্লার বাস এবং মিনিবাসে।
এশিয়া লাইন পরিবহনের অন্য একটি বাসে করে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসেছেন মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, বাসে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব কোনটাই মানা হচ্ছে না। তারপরও নেয়া হচ্ছে ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া। পরিবহনগুলো সরকারের নির্দেশনার মধ্যে বর্ধিত ভাড়ার বিষয়টি মানলেও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি যথাযতভাবে মানছে না।
সরেজমিনে গিয়ে শাসনগাছার মত কুমিল্লা অন্য দুই টার্মিনাল জাঙ্গালিয়া এবং চকবাজারে বাস-মিনিবাসে একই পরিবেশ দেখা গেছে। কুমিল্লা-নোয়াখালী রোডের উপকূল পরিবহনের একটি বাসে চড়ে লাকসাম থেকে তারেক মনোয়ার নামে এক শিক্ষার্থী কুমিল্লা এসেছেন। সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে তিনি জানান, সেই লাকসাম থেকে দুই সিটের ভাড়া দিয়ে বাসে উঠেছেন। কিন্তু কিছু দূর আসার পর আরও এক যাত্রী উঠিয়ে তার পাশের সিটে বসান কন্ট্রাকটার। তার অভিযোগ, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ৬০% বেশি ভাড়া দিয়েও সামাজিক দূরত্ব মেনে কুমিল্লা আসতে পারেনি।

দূরপাল্লার এবং আঞ্চলিক পরিবহনগুলো চলাচলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব মো. তাজুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসনের নানা প্রচারণার পরও কোন পরিবহন সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। আমরা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলছি সরকারের নির্দেশনা মেনে চলাচলা করা জন্য। কিন্তু তারা জানায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলে তাদের লোকসান হচ্ছে। তারপরও আমরা বসে নেই। করোনা সংক্রামণ রোধের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করবো।
পরিবহনে সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাচলের জন্য কুমিল্লার সকল পরিবহনের সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া তিশা এবং এশিয়া লাইন পরিবহনসহ শাসনগাছা বাস টার্মিনালের সকল পরিবহনের উপর বাড়তি নজরদারী বাড়িয়ে অভিযান অব্যাহত রাখবেন।