বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০


লালমাই পাহাড়ের মাথায় উদ্ভিদের যাদুঘর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.08.2020

মাহফুজ নান্টু।।

উচু-নিচু টিলা। তার চারপাশে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। ফুল-ফলের পাশাপাশি ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে। উদ্যানের রাস্তার পাশেই টানানো বোর্ডে রয়েছে উদ্ভিদের বর্ণনা। ক্যাকটাসের স্থির সৌন্দর্য- পাশাপাশি রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ ঝাড়। দিনভর লেগে থাকে নানান প্রজাতির পাখির কিচির মিচির ডাক। ফুলে উড়াউড়ি করে ভ্রমর-মৌমাছি। এমন নান্দনিক সৌন্দর্য এখন চোখে পড়ে কুমিল্লা লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে। বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ আছে বলেই অনেকে উদ্ভিদের যাদদুঘর বলেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের ময়নামতি যাদুঘরের সন্নিকটে সালমানপুর নামক স্থানে অবস্থিত লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ১৭ একর জমিতে নির্মিত হয় উদ্যানটি। বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক উদ্ভিদ রয়েছে উদ্যানটিতে। যার মধ্যে বিরল প্রজাতির অশোক, অর্জুন, আগর, আমলকি, কনক, কাঞ্চন, বনপেয়ারা, খাটজারুল, গর্জন, গোলাপজাম, চন্দুল, তুন, ঢাকিজাম, তেলশুর, নাগেশ^র, নাগলিঙ্গম, বাসক, বৌদ্ধনারকেল, বৈলাম, মহুয়া,শরতীলেবু, সফেদা, সজিনা, সাতকরা, সিভিট, হরিতকি, জিলসহ আরো নানান প্রজাতির উদ্ভিদ।
উদ্যানটি ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের জন্য পাহাড়ের চূড়ায় বিশ্রাম নেযার জন্য আসন তৈরী করা হয়েছে। যেখান থেকে পুরো উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। ভেষজ উদ্ভিদের পাশাপাশি ফুলের বাগান রয়েছে। বিশেষ করে উদ্যানে নানান প্রজাতির গোলাপ, জারুল, সোনালু, বকুল, টগর ফুলের গন্ধে মোহিত হতে হয় সবাইকে। ফুলের উপর প্রজাপতি মৌমাছির উড়াউড়ি মিলিয়ে এক অপূর্ব প্রকৃতি নজর কাড়বে পর্যটকদের।
এক দিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য অন্যদিকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চেনা জানা যাবে। কোন গাছে কি ঔষুধ রয়েছে, কোন গাছ কখন ফুল দেয়, কখন ফল দেয়। উদ্যানের এমন সব বিস্তারিত তথ্যও উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে বোর্ডে লিখা রয়েছে। এত বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের কারণে উদ্যানটি হয়ে উঠবে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষনার ক্ষেত্র। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য প্রকৃতির মধ্যে অবসর কাটানোর সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। যে কজন দর্শনার্থী এসেছেন উদ্যানে ঘুরতে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আজম মাহমুদ, সুবায়াত শিরিন, মাসুম মল্লিক জানান, লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে নানান প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এখানে সৃজন করা উদ্ভিদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন বিপন্ন প্রায়। তাই শিক্ষা ও গবেষণার জন্য নিশ্চযই লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান হতে পারে এক বিশাল ক্ষেত্র।

উদ্যানের প্রবেশ দ্বার থেকে শুরু করে ঘুরে দেখার জন্য নানান আয়োজন করা হয়েছে। পাহারের চুড়ায় আসন তৈরি করা হযেছে। একটি লেক তৈরি করা হয়েছে। তাই অবসর কাটানোর জন্যও একটি উত্তম স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান।
লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে ঘুরতে আসা পিরোজপুর ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহিবুল হক ছোটন জানান, লালমাই উদ্ভিদ নিঃসন্দেহে পারিবারিক ভ্রমণের জন্য উত্তম স্থান। এছাড়াও শিশুদের সাথে এখানে গাছ ফুল ফলের সাথে পরিচয় হবে। সবমিলিয়ে সামাজিক বনবিভাগের একটি অসাধারণ আয়োজন।
এদিকে উদ্যানটির পরিসর আরো বড় হলে আরো বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সৃজন করা যেত। এত করে বন্য পশু-পাখির আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে উদ্যানটি। তাই উদ্যানটির পরিসর বিস্তৃত করতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে কি না এমন বিষয় নিয়ে কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা কাজী মোঃ নুরুল করিম জানান, এখন ১৭ একর এর উপর তৈরি করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে উদ্যানের পরিধি আরো বিস্তৃত করে একটি মাস্টার প্ল্যান করা হয়েছে। আরো বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের সংগ্রহ বাড়ানো হবে। জমি অধিগ্রহণ করা হলে উদ্যানের পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি সৌন্দর্যও বাড়বে।