বুধবার ৩০ †m‡Þ¤^i ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ইতিহাসের কলঙ্কিত দিনটিকে যেভাবে দেখছেন কুমিল্লার রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ


ইতিহাসের কলঙ্কিত দিনটিকে যেভাবে দেখছেন কুমিল্লার রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
14.08.2020

১৫ আগস্ট বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম একটি কালো দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল বিপদগামী সদস্য সপরিবারে হত্যা করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় এই দিনটিকে কীভাবে দেখছেন কুমিল্লার রাজনীতিবিদগণ তা জানতে এবং জানাতেই আজকে আমাদের এই আয়োজন। তাদের সাথে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আমাদের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ নান্টু।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছিলেন
-আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, বীর মুক্তিযোদ্ধা

সংসদ সদস্য,কুমিল্লা-৬ ও সভাপতি: কুমিল্লা মহানগর আ.লীগ
বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তারা পরবর্তীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের ক্ষমতায় ছিলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় সরাসরি জড়িত জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার রোহিত করে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় যারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলো জিয়া পরিবার। তারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছিলেন। তবে যারা ভেবেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশকে নিঃশেষ করে দিবেন তারা ভুল করেছিল। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই। বঙ্গবন্ধু শাশ্বত। তার কারণ আজকের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ও যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন। আমরা তার আদর্শে উজ্জীবিত।
আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। এই শোক এখন আমাদের শক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে। আমরা এগিয়ে যাবো। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের বেহেশত নসিব করুন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ওরা স্বাধীন দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলো
– আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপি

সহসভাপতি,কুমিল্লা মহানগর আ.লীগ
বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, তবে আমি আমার বাবা অধ্যক্ষ আফজল খান থেকে শুনেছি। সেদিন কী নির্মমতা দেখিয়েছিলো পাকিস্থানের দোসররা। ছোট বয়সে বুঝতে পেরেছি বঙ্গবন্ধুকে খুনের মধ্য দিয়ে আবারো স্বাধীন দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলো তারা।
পরে আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি প্রধানমন্ত্রীর মাঝেই বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। কী দেশ প্রেম, কী দৃঢ়তা দেখেছে জননেত্রী শেখ হাসিনার মাঝে,যা আজও বিদ্যমান রয়েছে। আর এ কারণেই ১৫ আগস্টের দোসররা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর বারংবার হামলা করেছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা পরম দয়ালু। তিনি শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়েছেন। শত্রুপক্ষ যা ভেবেছিলো তা হয়নি। আজ সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
তাই আমি মনে করি ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক হোক আগামীর সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার হাতিয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে প্রিয় বাংলাদেশ। জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।

সে দিন আমরা শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম
আলহাজ মো.ওমর ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা
সাবেক প্রশাসক,জেলা পরিষদ,কুমিল্লা।
আমার মনে পড়ে। খুব মনে পড়ে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমি ও আমরা শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তখন কী অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিলো তা বলে বোঝাতে পারবো না। যে বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই স্বাধীন দেশেই একদল হায়েনার নির্মমতায় বঙ্গবন্ধু রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।

তবে প্রকৃতি কাউকে ছাড়ে না। প্রকৃতির বিচার খুব নিরপেক্ষ হয়। যে জিয়াউর রহমান, মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর খুনের সাথে জড়িত তারাও রেহাই পায়নি। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার পরেও জিয়া হত্যার বিচার করতে পারেনি। আর অন্য দিকে মোস্তাক পাগল হয়ে মারা গেছে।
এখন মনে হয় বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও স্বপ্নটা স্বার্থক হতে চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রত্যয়ে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরে যেভাবে দেশকে নেতৃত্বে দিচ্ছিলেন সেভাবে চললে হয়তো এখন দেশটা উন্নত দেশ হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সে পথেই আছেন। অচিরেই আমরা একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে পারবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও দক্ষ ও নেতৃত্বে তা সম্ভব হবে। তখন হয়তো বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবেন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়
এড.আমিনুল ইসলাম টুটুল
চেয়ারম্যান,আদর্শ সদর উপজেলা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা- কখনোই রাজনৈতিক কারনে সংঘটিত হয়নি। এটা ছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আর সেই ষড়যন্ত্রকে বাস্তবে রূপদান করেছে এদেশীয় এজেন্টরা। যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে শুধু বাংলাদেশ না উপমহাদেশটাকেও এগিয়ে নিতেন তিনি। কারণ বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় নেতৃত্ব, মমত্ববোধ ও দেশপ্রেমের কারনে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো। তাই এসব কারণেই মূলত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তবে যারা ভেবেছিলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে নিচিহ্ন করে দিয়েছে তারা ভুল ছিলো।

শত্রুদের ধারণা ভুল ছিলো এটা প্রমাণিত। কারণ বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশে^র বুকে সম্মানের সাথে বিবেচিত হয়। যারা বলেছিলো বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি তারা আজ দেখেছে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে অন্যতম রাষ্ট বাংলাদেশ। পোষাক শিল্পে অন্যতম রাষ্ট্র, মাছ উৎপাদনে বিশে^ দ্বিতীয় অবস্থানে। স্বাধীনতায় আমরা বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছি। স্বাধীনতার পরে আমরা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে পেরেছি। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের জন্য। যার শরীরে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর রক্ত। এখন শত্রুরা আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনাকে টার্গেট করেছে। বারংবার হামলা করছে। মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো আছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আর এই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত
এড. সৈয়দ নুরুর রহমান
সাবেক সেক্রেটারি,কুমিল্লা প্রেস ক্লাব ও জেলা আইনজীবী সমিতি।
এদেশের কিছু স্বার্থপর মানুষ বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত। তার মধ্যে জিয়াউর রহমান অন্যতম ছিলেন। যে কারণে জিয়াউর রহমান আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে চেয়েছেন। এমনকি যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় অংশ নিয়েছে তাদের পুরস্কৃত করেছেন। এতে করে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত। তবে প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম।
জিয়াউর রহমানকেও হত্যা করা হয়। তার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার পরেও জিয়া হত্যার বিচার করেননি। এরচেয়ে জঘন্য আর কী হতে পারে।
আরেকটা বিষয় বলতে চাই। যারা মনে করেছিলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। তারা কতটা ভুল ছিলো তা এখন প্রমাণিত। বঙ্গবন্ধুর তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নত অবস্থানে রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা সোনার বাংলা বিনির্মাণ করছেন। আজ ১৫ আগস্ট। আমাদের জন্য শোকের দিন। বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।