বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০


‘সন্তান হারানোর কষ্ট আর কত বয়ে বেড়াবেন’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.08.2020

মাহফুজ নান্টু।।
দীর্ঘ আট মাস পার হলো। এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে আইটি স্পেশালিস্ট শাবাত খানের খুনিরা। রসহ্যাবৃত হয়ে আছে খুনের ঘটনাটি। এনিয়ে হতাশায় দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা। আদৌ খুনিরা ধরা পড়বেতো। নাকি সময়ের আবর্তে ফাইলে ধুলো জমা হবে। অধরাই রয়ে যাবে খুনিরা। তার পিতা-মাতার প্রশ্ন,সন্তান হারানোর কষ্ট আর কত বয়ে বেড়াবেন তারা।

কুমিল্লা মহানগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা ডাঃ লিয়াকত আলী খানের ছেলে শাবাত। গত ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে নিখোঁজ হয় তার ছেলে । ৩১ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষ থেকে এটি নিখোঁজ ডায়রি করা হয়। পর দিন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি সকালে গোমতী নদীর পালপাড়া ব্রিজের নিচে হাতে স্কচটেপ বাধা অবস্থায় শাবাত খানের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সন্তানের লাশ দেখে তাদের নতুন বছর শুরু হয়। সেই কষ্ট এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। কবে সেই কষ্ট দূর হবে তা তারা জানেন না। শাবাত খানের বাবা লিয়াকত আলী খান বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই‘তে(পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তর করা হয়। কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও পিবিআইয়ের তদন্ত মিলিয়ে ৮ মাস পার হয়। এখনো হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচিত হয়নি।
কুমিল্লা মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রাফেয়া আক্তার ডেইজি শাবাতের মা। এ প্রতিবেদকের কাছে কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে সম্ভাব্য সব তথ্য উপাত্ত দিয়েছি। তবুও তারা খুনিদের ধরতে পারছে না। আমার ছেলে খুব ভালো ছিলো। কারো সাথে তার শত্রুতা ছিলো না। আইটি স্পেশালিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলো। ছেলের খুনের ঘটনার পর থেকে অসুস্থ রাফেয়া আক্তার ডেইজি। এখন দিনের বেশীর ভাগ কাটে বিছানায়। চেয়ে থাকেন বাইরে। ছেলের স্মৃতি তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তিনি বলেন, ছেলেকে তো আর ফিরে পাবো না, তবে তার হত্যার বিচার দেখে শান্তি পেতে চাই।

ভাইয়ের জন্য এখনো ডুকরে কেঁদে উঠেন বোন ডাঃ শারমিন খান শম্পা। শাবাতের কাছেই বেশী সময় থাকতো বোন শম্পার ছেলে মেয়েরা। আপন ছোট ভাইয়ে নির্মম খুনের ঘটনায় মুষড়ে পড়েছেন ডা. শম্পা। আর এদিকে গত ৮ মাস ধরে মামা শাবাত খানকে তার রুমে খুঁজে ফিরে শাবাত খানের ভাগ্নে ছোট্ট নাভিদ। আধো আধো মুখে জানতে চায় মামা ফিরবে কখন।
তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলো শাবাত খান। পরিবারের আদরের সন্তান। ছোট ছেলের খুনের ঘটনার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ডাঃ লিয়াকত আলী খান। মৃদু স্বরে জানালেন, তার সাথে কারো শত্রুতা নেই। কেন তার ছেলেকে খুন করা হলো। তিনি ছেলের খুনিদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

এই ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মতিউর রহমান। তিনি জানান, শাবাতকে খুন করা হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ৭/৮ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা চেষ্টা করছি।