মঙ্গল্বার ২৪ নভেম্বর ২০২০


তিনজনের মৃত্যু, অপর দুই সন্তানকে বাঁচাতে বাবার আকুতি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.08.2020

নাসির উদ্দিন চৌধুরী,লাকসাম।।
কুমিল্লার লাকসামে অস্ত্রোপচার ছাড়া জন্ম নেয়া পাঁচ সন্তানের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন। রোববার রাতে সর্বশেষ এক ছেলে মারা যায়। এখন এক ছেলে ও এক মেয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। বাবা মিজানুর রহমান সন্তানদের বাঁচাতে সকলের সহিযোগিতা চেয়েছেন।
সূত্র জানায়,গত বুধবার জেলার লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন মিজানুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তার। এর মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। জন্মের পর শিশুদের ওজন কম হওয়ায় তাদের নিয়ে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। পথে অক্সিজেনের অভাবে এক ছেলে ও এক মেয়ে মারা যায়। অপর তিনজনকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালের ইনকিউবেটরে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার তাদের ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে শয্যা না পেয়ে পরে ধানমন্ডির উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেন জেনারেল হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার রাতে মারা যান এক ছেলে। বর্তমানে অপর দুই শিশু ওই হাসপাতালের ইনকিউবেটরে আছে। তাদের চিকিৎসা বাবদ প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এত টাকা খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই মাদ্রাসার শিক্ষক মিজানুর রহমানের।
লাকসাম জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ লতিফা আক্তার বলেন, ওই প্রসূতি নারী সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। হাসপাতালে আসার পর তাঁর আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। এতে দেখা গেছে তাঁর পেটে চারটি বাচ্চা আছে। এরপর তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়। তিনি স্বাভাবিকভাবে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন। ৭ থেকে ১০ মিনিটের ব্যবধানে বাচ্চাগুলো একে একে ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু ওদের ওজন কম ছিল। মা ও বাচ্চাগুলোকে উন্নত পরিবেশে ইনকিউবেটরে রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
নবজাতকদের বাবা কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পৌলাইয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চান্দিশকরা নুরানি মাদ্রাসার শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর প্রথম ছেলে সন্তান দুই বছর আগে মারা যায়। এবার পাঁচ সন্তান হওয়ায় তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে কুমিল্লায় আনার পথে দুইজন এবং ঢাকায় একজন মারা গেছে। মাদ্রাসা থেকে মাসে ছয় হাজার টাকা বেতন পান। এই টাকায় সংসারই চলে না। এরই মধ্যে সন্তানদের চিকিৎসা পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে, বিত্তবানদের সহায়তা পেলে হয়তো দুই সন্তানকে বাঁচাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।