বুধবার ৩০ †m‡Þ¤^i ২০২০


নগরীতে সড়কে অবৈধ স্ট্যান্ডে বাড়ছে দুর্ভোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.09.2020

মাহফুজ নান্টুঃ নগর কুমিল্লার প্রাণ কেন্দ্র কান্দিরপাড়। সকাল থেকে দুপুর,বিকেল থেকে রাত। এখানে ক্ষণে ক্ষণে লেগে থাকে যানজট। টমছমব্রিজ ও চকবাজারেও একই অবস্থা। নগরীর প্রধান সড়কের উপর তিনটি সিএনজি অটো রিকশার স্ট্যান্ডের কারণে দিনভর যানজট লেগে থাকে। বিভিন্ন সংগঠন এসব ভাড়া আদায় করে। সরকারি অনুমতি ছাড়াই চলছে এসব অবৈধ সিএনজি অটো রিকশার স্ট্যান্ড।
কান্দিরপাড়ে কাক ডাকা ভোর থেকে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সিএনজি চলাচল করে। তাই কান্দিরপাড়ে যানজট এখন নিত্য চিত্র। সকাল ৯ টার পরেও টমছমব্রিজ ও চকবাজারে যানজট শুরু হয়। চলে রাত অবধি।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টা। যানবাহনের চাপে পুরো কান্দিরপাড় স্থবির হয়ে পড়ে। যানজটে আটকে পড়ে রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স। পূবালী ব্যাংকের পাশের অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিক্সার কারণেই এমন ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই সিএনজি স্ট্যান্ডটি সিটি কর্পোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চলে আসছে।
শুধু মাত্র কান্দিরপাড় পূবালী ব্যাংকের পাশের স্ট্যান্ডটি থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হয়।
এক অনুসন্ধানে জানা যায়, কান্দিরপাড় পূবালী ব্যাংকের পাশে গড়ে উঠা সিএনজি অটো রিকশা স্ট্যান্ডে দৈনিক আড়াইশ’টি সিএনজি চলাচল করে। সে হিসেবে আড়াই’শটি সিএনজি অটো রিকশা থেকে গড়ে ৩৫ টাকা করে আদায় করলে দৈনিক ৮ হাজার ৭৫০ টাকা উত্তোলন করা হয়। শুধু কান্দিরপাড় পূবালী ব্যাংকের পাশের সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে মাসে ভাড়া আদায় হয় ২ লাখ ৬২ হাজার ৫শ টাকা।
কান্দিরপাড়ের অবৈধ এ স্ট্যান্ডটি পরিচালনা করেন হাবিব মিয়া। তার বাড়ি কোটবাড়ি কালিরবাজারে। তাকে সবাই হাবিব কেরানি নামে চিনেন।
হাবিব মিয়া জানান, এখানের উত্তোলন করা ভাড়া পরিচালনা করেন সিএনজি মালিক সমিতি সংগঠন (১৫৬৯) এর সাধারণ সম্পাদক আলম হাওলাদার। তবে আলম হাওলাদার জানান, কান্দিরপাড় স্ট্যান্ডের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। সিএনজি মালিক সমিতি সংগঠন (১৫৬৯) এর মাধ্যমে রামঘাট ও টমছমব্রিজ সিএনজি স্ট্যান্ড পরিচালিত হয়।
এসব স্ট্যান্ড কি বৈধ এমন প্রশ্নের জবাবে কেরানী হাবিব ও সিএনজি মালিক সমিতি সংগঠন (১৫৬৯) এর সাধারণ সম্পাদক আলম হাওলাদার জানান, কোন সিএনজি স্ট্যান্ডেরই বৈধতা নেই।
সূত্র জানায়, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা সংগঠনের বিভিন্ন নেতারা কান্দিরপাড়, টমসমব্রিজ ও চকবাজারে মিলে তিনটি স্ট্যান্ড পরিচালনা করেন। যেখানে তিনটি স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত সাড়ে ৫ লাখ টাকা মাসিক ভাড়া আদায় করেন।
তবে নগরীর রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন সড়কে আরো অন্তত দশটি সিএনজি চালিত অটোরিকসা স্ট্যান্ড পরিচালিত হয়। তবে কান্দিরপাড়, টমছমব্রিজ ও চকবাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের কারণেই পুরো নগরীজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক পরিদর্শক কামাল উদ্দিন জানান, যানজটের জন্য দায়ী অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠা এসব সিএনজি অটোরিকশার কারণে নগরীজুড়ে দিনভর যানজট লেগে থাকে। আমরা অনুমতি পেলে এসব সিএনজি স্ট্যান্ড ১০ মিনিটেই উচ্ছেদ করে ফেলবো।