শুক্রবার ২৫ †m‡Þ¤^i ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিন চাকার যান, দুর্ঘটনার ঝুঁকি


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিন চাকার যান, দুর্ঘটনার ঝুঁকি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.09.2020

আবদুর রহমান।। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচলের কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মহাসড়কটির কুমিল্লা অংশের ১০৫ কিলোমিটার এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকাতেই চলছে ইঞ্জিন চালিত থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যেই চলছে নছিমন, করিমন, ভটভটিও।
হাইওয়ে পুলিশের দাবি, তাঁদের চোখ এড়িয়ে অনেকটা গোপনে চলাচল করে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। আর এসবের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছেন তাঁরা।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে দেশের ২২টি মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপর হাইকোর্ট গত বছর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ১০ জেলার মহাসড়কে তিন চাকার বাহন না চালানোর নির্দেশ দেয়। এরপর গত বছরের আগস্ট থেকে মহাসড়কে তিন চাকার যান নিষিদ্ধ করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে এতো কিছুর পরও দাবিয়ে রাখা যায়নি এসব অবৈধ তিন চাকার যানবাহনকে।
সরেজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কের ওপরেই সারি সারি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। এসব তিন চাকার যানবাহনের চালকেরা ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছেন বিভিন্ন গন্তব্যের। এরপর মহাসড়ক হয়েই এসব যানবাহন চলাচল করছে বিভিন্ন স্থানে। এই এলাকায় মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামগ্রামী দু’টি লেনই অবৈধ তিন চাকার যানবাহনের দখলে। যার কারণে মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে, ঘটে দুর্ঘটনাও। এছাড়া জরুরি যান চলাচলে সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধকতা।
মহাসড়কের চৌদ্দগামের মিয়াবাজার এলাকায় গিয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন মালামাল নিয়ে নছিমন, করিমন ও ভটভটি অবাধে চলাচল করছে। মিয়াবাজারেও মহাসড়কের উপর সারি সারি তিন চাকার যান দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কের উপরেই সিএনজি চালিত অটোরিকশার অঘোষিত ‘স্ট্যান্ড’। এখান থেকে যাত্রী তুলে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে।
মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, কোটবাড়ি বিশ্বরোড, আলেখারচর বিশ্বরোড, সেনানিবাস এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ক্রসিং দিয়ে প্রতি মুহূর্তেই এপার-ওপার চলাচল করছে নিষিদ্ধ তিন চাকার যান। এসব ক্রসিং দিয়ে অবাধে তিন চাকার যান চলাচল করায় যানবাহনে চলাচলে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনাও। এসব স্থানে উল্টো পথেও চলাচল করে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। যদিও আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকার ৫’শ মিটার উত্তর দিকেই রয়েছে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের থানা। এছাড়া মহাসড়কের চান্দিনা, ইলিয়টগঞ্জ, গৌরিপুরসহ দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকাতেও অবাধে অবৈধ তিন চাকার যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
তবে আবুল বাশার, দ্বীন মোহাম্মদসহ এসব তিন চাকার যানবাহনের বেশ কয়েকজন চালক দাবি করেন, মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করলে দ্রæত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছা যায়। এছাড়া এমন কিছু স্থান আছে যেগুলো মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। এছাড়া তাঁরা মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলের জন্য আলাদা লেন চান।
নাম-পরিচয় প্রকাশ না শর্তে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কয়েকজন সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক জানান, মহাসড়ক দিয়ে সিএনজি চালাতে হলে অনেক সমস্যায়ও পড়তে হয় আমাদের। অনেক সময় দেখা যায় হাইওয়ে পুলিশ গাড়ি আটক করে নিয়ে যায়। পরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে হয়। আবার সময় তাদেরকে মাসিক চাঁদা দিয়েও চলাচল করতে হয়।
সামছুল আলম, কবির হোসনসহ মহাসড়কের বেশ কয়েকজন বাস চালক জানান, অবৈধ এসব তিন চাকার যানবাহনের অনেক চালক আছে তারা জানেই না কিভাবে মহাসড়কে গাড়ি চালাতে হয়। অনেক সময় তারা হুট করে দ্রত গতির গাড়ির সামনে চলে আসে। যখন ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে একটি বাস চলে তখন এসব নিষিদ্ধ যান হুট করে সামনে চলে আসলে আমাদেরকে হার্ডব্রেক করে গাড়ি থামাতেও বেকায়দায় পড়তে হয়। এতে প্রতিনিয়ন দুর্ঘটনার আশংকা থাকে চালকদের মাঝে।
জেলার চৌদ্দগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল জলিল রিপন বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ অবৈধ তিন চাকার যানবাহনের দখলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা। এতে করে মহাসড়কে চলাচলরত দূরপাল­ার যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলোকে যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে । যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এসব প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো.নজরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনগুলো অনেক সময় চুরি করে গোপনে চলতে চায়। তবে আমাদের এসব নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সারা বছরই ব্যবস্থা চলমান আছে। আমরা অনেক সময় এসব গাড়িগুলো আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এছাড়া মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।