বুধবার ৩০ †m‡Þ¤^i ২০২০


করোনার ধস কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.09.2020

আবদুর রহমান।। কুমিল্লার ঐতিহাসিক প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর এলাকা বছরজুড়েই নানা বয়সী দেশি-বিদেশি পর্যটক আর শিক্ষার্থীদের কোলাহলে খুবই মুখর থাকত। শুধুমাত্র শালবন বিহার আর ময়নামতি জাদুঘরই নয়, প্রাণচাঞ্চল্যময় থাকতো কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ঐতিহ্যবাহী লালমাই পাহাড় ঘিরে গড়ে ওঠা সরকারি প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন ও ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্কগুলোও। কর্মব্যস্ত থাকতেন পর্যটন সংশ্লি¬ষ্ট সকল ব্যবসায়ীরাও।
কিন্তু গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিগত প্রায় সাড়ে ৫ মাস ধরে কুমিল্লার ‘পর্যটন নগরী’ খ্যাত কোটবাড়ি এলাকায় ছিলো না কোন কোলাহল। কর্মব্যস্ততা ছিলো না পর্যটন সংশ্লি¬ষ্ট ক্ষুদে ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের। করোনাভাইরাসের প্রকোপে কুমিল্লার সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পর্যটন স্পষ্টগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ধস নামে জেলার পর্যটন ব্যবসায়। দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে খুলতে শুরু করেছে জেলার সকল পর্যটন স্পষ্টগুলো। আর এর মাধ্যমেই করোনার ধস কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা এখন সকলের।
সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত ১০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সংক্রমণ এড়াতে এর আগেই গত ১৭ মার্চ থেকে কুমিল্লা জেলার পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এ ঘোষণার পরই জেলার পর্যটন স্পটগুলো একেবারেই ফাঁকা হয়ে যায়। আর পর্যটন স্পটগুলোর বেশির ভাগ কর্মী গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পার্ক বন্ধ থাকায় ঋণের বোঝা টানতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন বেসরকারি পার্কগুলোর মালিকরা। তাঁরা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দিতেই হিমশিম খেতে শুরু করেন। কোনো কোনো পার্ক ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাইও করেন। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েন অনেকেই। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্কগুলো তাদের বিভিন্ন রাইড ও নানা ধরনের স্থাপনা পরিস্কারপরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কিছু কর্মীকে অর্ধেক বেতনে কাজে রাখেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট জেলা প্রশাসককার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার সকল বিনোদন কেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতœতত্ত¡ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার লালমাই ও ময়নামতি পাহাড় এলাকায় অন্তত ২৩টি প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উন্মোচিত হওয়া ১২টির মধ্যে শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর থেকে সরকার রাজস্ব আয় করছেন। অন্যগুলো এখনো বিনা খরচে দেখতে পারছেন পর্যটকরা। শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮১৫ টাকা। আর করোনা মহামারির আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪৪৫ টাকা এবং ফেব্রæয়ারি মাসে ২৬ লাখ ২৩ হাজার ২৮০ টাকা রাজস্ব আয় হয়। এছাড়া মার্চ মাসের প্রথম ১৬ দিনে ৯০ হাজার ৩৯০ জন পর্যটকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় হয় ১১ লাখ ১৫ হাজার ৮১৫ টাকা। ওই আড়াই মাসে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ৫০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪০ টাকা। তবে করোনা মহামারির কারণে গত প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে এখান থেকে কোনো রাজস্ব আয় নেই সরকারের।
কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার সালমানপুরে অবস্থিত ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক, কুমিল¬া নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকার ফান টাউন পার্কসহ বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্কগুলোর উদ্যোক্তারা বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পার্কগুলোর মালিকদের প্রায় সকলেরই ব্যাংকঋণ রয়েছে। করোনার কারনে গত সাড়ে ৫ মাসে সব তছনছ হয়ে গেছে। এখন সব কিছু আবারও চালু হচ্ছে নতুন করে। এখন সকলেরই স্বপ্ন একটা, সেটা হলো আবারও ঘুরে দাঁড়ানো।
ময়নামতি জাদুঘর এলাকার খুদে ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, আমার খাবার হোটেলের ব্যবসা ছিলো। কিন্তু করোনা আমার সেই ব্যবসা কেড়ে নিয়েছে। এখন সব খুলছে শুনে ফুচকা ও চটপটির ব্যবসা শুরু করেছি। আশা করছি সব কিছু ঠিক থাকলে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।
আরেক খুদে ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার কুটির শিল্পের দোকান রয়েছে। গত সাড়ে ৫ মাস দোকান বন্ধ থাকায় লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মানবেতর দিন কাটিয়েছি। এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে আবার সব শুরু করছি নতুন করে।
কুমিল্লা ভিক্টোরি ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ পাটোয়ারি বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জেলা কুমিল্লার পর্যটন অনেক আগ থেকেই সম্মৃদ্ধ। কুমিল্লার পর্যটন স্পটগুলো থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া গেলে কুমিল্লার সরকারি-বেসরকারি পর্যটন খাত আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতœতত্ত¡ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক (কুমিল্লা কার্যালয়) ড.মো.আতাউর রহমান বলেন, করোনা মহামারির কারনে আমরা কিছুদিনের জন্য থেমে গিয়েছিলাম। তবে আশা করছি সব কিছু ভালোভাবে শুরু করা গেলে, কুমিল্লার সরকারি-বেসরকারি পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকলেই আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, গত মাসের শেষ সপ্তাহে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আমাদেরকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে প্রতœতত্ত¡ স্থানগুলো খোলা রাখা যাবে কিনা সেই ব্যাপারে আমাদের মতামত চাওয়া হয়। পরে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতœতত্ত¡ স্থানগুলো খোলার পক্ষে মতামত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। তবে এরপর আমরা এখনো কোন নির্দেশনা পাইনি। তবে আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। নির্দেশনা পেলে যে কোন সময় থেকে আমরা সব চালু করতে পারবো।