বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » আশুগঞ্জ মোকামে নেই পর্যাপ্ত ধান, লোকসানে চাতাল মালিকরা


আশুগঞ্জ মোকামে নেই পর্যাপ্ত ধান, লোকসানে চাতাল মালিকরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.09.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
শত বছরের পুরানো ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জের ধানের মোকাম।যেখানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাতাল মালিক ও ধানের ব্যাপারীদের বেচা-কেনায় উৎসব মুখর হয়ে থাকত। কিন্তু বর্তমানে ধানের ময়ালে (কৃষকের গোলায়) ধান না থাকায় ধান সংকটে ভুগছে চাতাল মালিকরা। মোকামে সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামেই ধান কিনতে হচ্ছে তাদের। বর্তমানে হাটে বিআর-২৮ জাতের এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২২০ টাকা ও বিআর-২৯ জাতের ধান ১১০০ থেকে ১১৩০ টাকা এবং হীরা ধান বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১০২০ টাকা মণ। তবে হাটে সংকট তৈরির আগে বিআর-২৮ জাতের প্রতিমণ ধান বিক্রি হয়েছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা ও বিআর-২৯ ধান ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং হীরা ধান প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা পযন্ত দরে। এখন হাটে সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই বেশি দরে ধান কিনতে হচ্ছে চাতালকল মালিকদের।

মাধবপুরের ধানের বেপারী শাহজাহান মিয়া জানান, বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনেন তিনি। কিন্তু এখন কৃষকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ধান পাচ্ছেন না। এতে করে প্রভাব পড়ছে ধানের দামে। ফলে চালকল মালিকরা চাহিদা মতো ধান কিনতে পারছেন না। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এলাকার ধান ব্যাপারী কাঞ্চন জানান, তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিওসি ঘাটের হাটে ধান নিয়ে আসছেন। প্রতি মৌসুমে ধান কিনে হাটে বিক্রি করেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে চাহিদা অনুযায়ী ধানের যোগান নেই। কৃষকদের কাছে ধান না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রতিবছরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাতালকল মালিকদের সঙ্গে সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের জন্য চুক্তি করে খাদ্য বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী গত ৭ মে থেকে শুরু হয়ে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চলতি বছর আশুগঞ্জ থেকে ২৭ হাজার ৩শত ৩১ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে পারেনি চালকল মালিকরা। কিন্তু এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সগ্রহ করতে না পারায় আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছে খাদ্য বিভাগ।
আশুগঞ্জের বেশ কয়েকজন চাতাল মালিক বলেন, প্রথম থেকেই লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করছি। এখন বাজারে ধানের সংকট তৈরি হওয়ায় দাম আরও বেড়েছে। এর ফলে আমাদের লোকসানও বাড়ছে। আশুগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি জোবায়ের হায়দার বুলু বলেন, ধানের বাজার প্রথম থেকেই চড়া। সরকার আমাদের যে দর দিয়েছে, বাজার দর তারচেয়ে অনেক বেশি। সেজন্য আমরা লোকসান দিয়েই সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ময়নুল হোসেন ভূইয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যা ও করোনাভাইরাসের প্রভাবে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালকল মালিকদের লোকসান হচ্ছে। আশা করছি আগামী মৌসুমে এটি ঠিক হয়ে যাবে।