বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০


আজ শুভ মহালয়া


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.09.2020

তাপস চন্দ্র সরকার
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মহামারীর দিনে দুর্গোৎসবে ২৬ দফা নির্দেশনা মহামারীতে এবার রঙ হারাচ্ছে দুর্গোৎসবও মহামারীর দিনে এবারের দুর্গোৎসবে সেই আড়ম্বর আর থাকছে না, মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় এই উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকবে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি। হিন্দু আচার অনুযায়ী- মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। সাধারণতঃ আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন হয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আশ্বিন মাসের এই শুক্ল পক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের শুরু হয় যে অমাবস্যায়, সেদিন হয় মহালয়া; সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সেদিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দেবী দুর্গা। এবার মহালয়া আজ ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বিশ^কর্মা পুজোরদিন। কিন্তু পঞ্জিকার হিসাবে এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’, মানে “অশুভ মাস”। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসাবে এবার দেবী দুর্গা ‘মর্ত্যে আসবেন’ মহালয়ার ৩৫ দিন পরে। পঞ্জিকা অনুুযায়ী- ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন, দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা। পরদিন সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিমা তৈরি থেকে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভক্ত-পূজারি ও দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা, সকলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা, দর্শনার্থীদের মধ্যে ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, পূজামন্ডপে নারী-পুরুষের যাতায়াতের আলাদতা ব্যবস্থা করা, বেশি সংখ্যক নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখার কথা বলা হয়েছে এ সব নির্দেশনায়। সারাদেশে পূজা কমিটিগুলোকে বলা হয়েছে, ‘সন্দেহভাজন’ দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশির ব্যবস্থা রাখতে হবে। আতশবাজি ও পটকা ফাটানো থেকে বিরত থাকতে হবে। পূজামন্ডপে রাখতে হবে সিসি ক্যামেরা। ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান যেন বাজানো না হয়, মাইক বা পিএ সেট যেন ব্যবহার করা না হয়, পূজামন্ডপে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত দীর্ঘ সময়’ কোনো দর্শনার্থী যেন না থাকে এবং সন্ধ্যার বিরতির পর দর্শনার্থীদের প্রবেশে যেন নিরুৎসাহিত করা হয়- সেসব বিষয়ও আছে নির্দেশনায়। এ ছাড়া সব ধরনের আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করা, সম্ভব হলে বাসা/বাড়িতে থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভক্তদের অঞ্জলি দেওয়া, খোলা জায়গার অস্থায়ী প্যান্ডেলে স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা, প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মন্ডপকেন্দ্রিক ‘শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি’ গঠন, গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা এবং প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করার নির্দেশনা রয়েছে ২৬ দফার মধ্যে। এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগ ছোঁয়াচে হওয়ায় সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, ভিড় এড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে এবার বাংলা নববর্ষ এবং ঈদেও উৎসবের আমেজ ছিল না। ঠিক অন্যান্য বছরের মতো এই বছরটা নয়। তাই ঠিক অন্যান্য বারের দুর্গাপুজোর মতোও এ বছর প্রাক দুর্গা পুজোওর রেশ একই মেজাজে নেই! তবুও উমা ফিরবেন ঘরে, তাই বাঙালি এই বিশ্বজোড়া সংকটের মধ্যেও ঘরের মেয়েকে যথাসাধ্য বরণ করে নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে। সাধারণত মহালয়া ও যষ্ঠীর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধান থাকলেও এবার প্রায় ৩৫ দিনের ফারাক থাকছে। এক মাসের মধ্যে দুটো অমাবস্যা পড়ায় এই বিপত্তি। সাধারণত এমন মহালয়া ও দুর্গাপুজোর দিন ক্ষণ দেখা যায় না। তবে এটাই প্রথম বার নয়, এর আগেও ১৯৮২ ও ২০০১ সালে একই কারণে মা দুর্গা এসেছিলেন দেরিতে। এ বছর দুর্গাপুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হলো মহালয়ার প্রায় ৩৫ দিন পর মা দুর্গা মর্ত্যে পা রাখছেন। আর সেই মতো, আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া অন্যদিকে বিশ^কর্মা পূজাও। পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের শুরুর এই কাঙ্খিত ভোর সতেরো সেপ্টেম্বর এবং দুর্গাপুজো ২১ অক্টোবর শুরু হবে। এ বছর দুর্গাপুজো আশ্বিন নয়, ৪ঠা কার্তিক (২১ অক্টোবর) বুধবার পঞ্চমী পড়েছে ও ৭ কার্ত্তিক (২৪ অক্টোবর) কুমারী পুজো ও সন্ধিপুজো এবং দশমী পড়ছে ৯ই কার্ত্তিক (২৬ অক্টোবর) সোমবার। ওই দিনই বিকেল থেকে শুরু হবে সিঁদুর খেলা।

লেখক পরিচিতিঃ আইনজীবী,সাবেক প্রচার সম্পাদক: বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, কুমিল্লা শাখা।