বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » পদ্মবিল জুড়ে শরতের শুভ্রতা হৃদয় কাড়ছে সৌন্দর্য পিপাসুদের


পদ্মবিল জুড়ে শরতের শুভ্রতা হৃদয় কাড়ছে সৌন্দর্য পিপাসুদের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.09.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

যেন শরতের শুভ্রতা নেমে এসেছে পুরো পদ্মবিল জুড়ে। প্রায় দুইশ একরের এই পদ্ম বিলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে শুধুই সাদা আর গোলাপি পাপড়ির মিশেলে থাকা পদ্মফুলের সমাহার। পড়ন্ত বিকেলের মৃদমন্দ আবহাওয়ায় বিলের পানির ঢেউয়ের তালে মাথা উঁচু করে থাকা একেকটা পদ্ম যেন প্রকৃতির সাথে মিতালিতে মেতেছে।

বিলজুড়ে থাকা অসংখ্য পদ্ম নজড় কাড়ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমিদের। অনেকেই নৌকায় চড়ে পুরো বিল ঘুরে দেখছেন। আবার কেউ বিলের পাড়ের গাছ তলায় চুপটি করে বসে উপভোগ করছেন এই সৌন্দর্য। যতটুকু দু’চোখের দৃষ্টি যায় পদ্মের সমারোহ মনকে প্রফুল্ল করে তুলে। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাষু ও প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে এখন নতুন ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ঘাগুটিয়া ও মিনারকুট পদ্মবিল। আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত প্রায় পাঁচমাস পদ্মফুল ফুটে থাকে।
সূর্য উঁকি দেয়ার সাথে সাথে একেকটা পদ্ম কলি ভেদ করে পাপড়ি মেলে নিজের সৌন্দর্যের জানান দেয় প্রকৃতির মাঝে। সেই সৌন্দর্যকে যেন আরো নৈসর্গিক করে তুলে খাবার সংগ্রহের জন্য দল বেঁধে ছুটে আসা শালিক পাখির দল। তাদের কিচির মিচিরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিল। প্রতিটি পদ্ম পাতার উপরে মুক্তার মত টল মল করতে থাকা পানি যেন প্রকৃতির সৌন্দর্যের অলংকার। পদ্ম বিলের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যাক দর্শনার্থীরা ভিড় করে। তাদের কেউ কেউ ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ান বিলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।

বিল ঘুরতে আসা কলেজ ছাত্র সোহেল রানা ও মো. ইউসুফ বলেন, ঘাগুটিয়া পদ্মবিলের নাম শুনেছি। সরেজমিনে এসে দেখি খুবই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। আমরা তিন বন্ধু মিলে ডিঙ্গি নৌকা ভাড়া করে পুরো বিল ঘুরে অনেক আনন্দ উপভোগ করেছি। তবে যাত্রা পথে কর্নেল বাজার থেকে ঘাগুটিয়া পর্যন্ত সড়কে খানাখন্দ থাকায় এবং সড়কটি সরু হওয়াই যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা হয়। সড়কটি সংঙ্কার ও প্রশস্ত করা হলে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা হবে। কলেজ ছাত্রী শামীমা ইয়াছমিন বলেন, এই পদ্মবিলের চারপাশে গাছপালা রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে সবাই আসতে পারে।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েক যুগ ধরে এই বিলে পদ্মফুল ফুটছে। এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন প্রতিনিয়ত আসছে। বিল সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অনেক দর্শনার্থীরা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে আনন্দের ছলে ফুলগুলো ছিঁড়ে ফেলে। এতে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদের প্রতি আহবান জানাই তারা যেন এই বিলের ফুলগুলো না ছিঁড়ে। ভ্রমণ মৌসুমে সুদিন ফিরে পাওয়া ডিঙ্গি নৌকার মাঝি জয়নাল মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে তেমন কোন কাজকর্ম থাকে না। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছিল। তবে ভ্রমন মৌসুম হওয়ায় ছোট নৌকা নিয়ে বিলের পাড়ে বসে থাকি। বিভিন্ন লোকজন নৌকায় করে বিল উপভোগ করে। এতে আমাদের প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকার রোজগার হয়। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালই চলতে পারি।