বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০


বাসে আটকে তরুণীকে ধর্ষণ করে চালক সুপারভাইজার ও হেলপার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.09.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লায় তিশা প্লাস নামে যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লা নগরীতে আসা এক তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার। এ ঘটনায় পুলিশ বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার বাস চালক আরিফ হোসেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নেউরা গ্রামের শরীফ হোসেনের ছেলে ও হেলপার বাবু শেখ ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কামিনারবাগ গ্রামের শেখ ওয়াজেদের ছেলে। তারা দুজনই সদর দক্ষিণ উপজেলার নোয়াবাড়ি (পদুয়ার বাজার) ও মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকায় বসবাস করে। বৃহস্পতিবার আদালতে উভয়ের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এর আগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্যাতিত তরুণীর চিকিৎসা, ডাক্তারী পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি প্রদানের পর তাকে তার মায়ের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত অপর ধর্ষক বাসের সুপারভাইজার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আটচাইল গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে আলমকে (৩২) গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ, মামলার বিবরণ ও মেয়েটির সাথে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণী (১৬) কিছু দিন আগে ঢাকার আবদুল্লাহপুরস্থ তার জেঠাতো বোনের বাসায় যায়। গত সোমবার বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বিকালে জেঠাতো বোনের বাসা থেকে বের হয় এবং আবদুল্লাহপুর হতে লোকাল বাসযোগে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছে। ওই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হতে তিশা প্লাস পরিবহনের একটি বাসযোগে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছার উদ্দেশ্যে রওনা করে। পথিমধ্যে ওই তরুণী বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে শাসনগাছা বাস স্টেশনে তাকে নামিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানালে তারা তাকে এ বিষয়ে টেনশন করতে নিষেধ করে। কিন্তু ওই বাসের চালকসহ তারা তরুণীকে নগরীর শাসনগাছা নামিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে তাকে না নামিয়ে অন্যান্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয়ার পর কৌশলে বাসটি জেলা সদরের অদূরে সদর দক্ষিণ থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের আল-শাকিল হোটেলের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে ওই তরুণীকে বাসের হেলপার বাবু শেখ (২২), চালক আরিফ হোসেন (২৬) ও সুপারভাইজার আলম (৩২) তাকে ধর্ষণ করে। পরে বাসের হেলপার বাবু শেখ ও সুপারভাইজার আলম তরুণীকে বাস থেকে নামিয়ে পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস হেলপার বাবু শেখের বসতঘরে নিয়ে পুনরায় তাকে ধর্ষণ করে। সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় ঘর থেকে বের করে দিয়ে চলে যেতে বলে। ওই তরুণী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মাকে জানান। এ বিষয়ে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ওইদিন রাতে তিন ধর্ষকের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

তরুণীর মা জানান, তার মেয়ে গাজীপুরের একটি গার্মেন্ট চাকরি করতো। করোনার কারণে পাঁচ মাস আগে বাড়ি চলে আসে। গত শুক্রবার চাকরির সন্ধানে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে জেঠাতো বোনের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনার শিকার হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসার পর বুধবার রাতে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। তিনি তার মেয়ের ওপর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এদিকে তিশা প্লাস পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওই গাড়ির মালিক দুলাল হোসেন অপু জানান, ঘটনার পর আমরা তিশা প্লাস গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩৯৮) চালক ও হেলপারসহ দুই আসামিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, মামলা দায়েরের পর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে চালক বাবু শেখ ও হেলপার আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে উভয়ের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া মামলার ভিকটিম ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। সে আদালতে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার অপর আসামি আলমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।