বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কুমিল্লার পুস্তক ব্যবসায়ীরা


করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কুমিল্লার পুস্তক ব্যবসায়ীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.09.2020

মাহফুজ নান্টু 

ছয় মাস ধরে কারো দোকানের ভাড়া বাকি। কেউ বা কর্মচারী বিদায় করে দিয়েছেন। নিজেই মালিক নিজেই কর্মচারী হয়ে বই বিক্রি করছেন। কেউবা ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে বাড়ি থেকে পুঁজি এনে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবেই কোন রকম করে গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে প্রাণান্তকর চেষ্টায় ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছেন কুমিল্লার পুস্তক বিক্রেতারা। সারা দেশের মত করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কুমিল্লার পুস্তক বিক্রেতারা।

সরেজমিনে নগরীর কান্দিরপাড় মসজিদ মার্কেট ও রাজগঞ্জ পুস্তক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের কষ্টের কথা। কান্দিরপাড় বই বিক্রির দোকান লেখাপড়ার স্বত্বাধিকারী ইয়াছিন আরাফাত জানান, আমার বাবা ও আমি মিলে বই দোকানটি পরিচালনা করি। বিগত দিনে এত খারাপ সময় যায় নি তাদের। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কবে খুলবে তাও জানেন না। বেঁচা বিক্রি একেবারেই কম। বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এই বিক্রিতে মুনাফা হবে দেড়শ টাকা।

পাশের নিউ সিটি লাইব্রেরির ম্যানেজার আমির হোসেন। তিনি জানান, বই ব্যবসায়ে এত করুণ অবস্থা আগে দেখেন নাই। তাদের দোকানের গত ৫ মাসের ভাড়া বাকি। সারা দিনে দু’তিন জন ক্রেতা আসেন। আমির হোসেন বলেই এভাবেই কোন রকম করে আছি আমরা বই বিক্রেতারা।

কান্দিরপাড় মসজিদ মার্কেটের আইডিয়েল লাইব্রেরির বিক্রয়কর্মী মোহসিন জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ৩০/৪০ হাজার টাকা বই বিক্রি হতো। করোনার কারনে গত ছয় মাস ধরে গড়ে ২/৩ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। খুব সমস্যায় আছি আমরা।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কুমিল্লা জেলা সভাপতি আবদুল হান্নান বলেন, চরম দুঃসময পার করছি আমরা পুস্তক বিক্রেতারা। মার্চ মাসে করোনা প্রার্দুভাব শুরু। তার মধ্যে দু’মাস একেবারেই দোকান বন্ধ ছিলো। এখন গত ৪ মাসে আমাদের ব্যবসায়ে চরম ধস নামে। স্কুল কলেজ বন্ধ। কবে খুলবে তাও জানি না। একেবারেই বিক্রি নেই। আমার নিজের দোকানের কর্মচারী বিদেয় করেছি। খুব অস্থির সময় পার করছি।