বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০


কুমিল্লায় চালের বাজার অস্থিতিশীল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.09.2020

# এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০-২৫০ টাকা
# চালের বাজারের প্রতি আমাদের নজর আছে – ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
# দাম বাড়ার কারণ জানেন না ব্যবসায়ীর

আবদুল্লাহ আল মারুফ।।
পেঁয়াজের পর এবার বেড়েছে চালের দাম। ভোক্তা অধিকারের অভিযানের মধ্যেও প্রতিনিয়তই কুমিল্লায় চালের দাম বেড়েই চলছে। অস্বাভাবিক হারে চালের দাম বাড়াতে কুমিল্লার খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নাভিশ্বাস হয়ে উঠার উপক্রম হয়েছে। চাল ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটসহ নানা অজুহাতে দিন দিন বেড়েই চলছে কুমিল্লায় চালের দাম। পাইকারি বিক্রেতারা বলছে দাম বেশিতে কেনা তাই বিক্রিও বেশি। আর খুচরা বিক্রেতারা বলছে পাইকারি বেশি কেনাতে খুচরোও বেশি দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে। তবে কীভাবে বা কেন দাম বাড়তি তা কোন পক্ষই বলছে না। তবে দুই পক্ষই বলছে চালের দাম বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা নগরীর রাণীর বাজার, নিউ মার্কেট, রাজগঞ্জ বাজার, চক বাজার, টমছম ব্রিজ বাজার ঘুরে দেখা গেছে গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে সব ধরনের চালের দামেই বড় পরিবর্তন এসেছে৷ ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় কোনটিতে বেড়েছে ২০০ টাকা আবার কোনটিতে বেড়েছে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
কুমিল্লা নগরীর রাণীর বাজারের রুবেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রুবেল জানান, গত সপ্তাহে আঠাশ চাউলের দাম ছিল প্রতিবস্তা ২,৩৫০ টাকা কিন্তু এই সপ্তাহে তা ২৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে৷ আর রজনীগন্ধা চালের প্রতিবস্তা ২৬২০ ছিল এই সপ্তাহে ২৭৫০ টাকা। সিরাজ চাল গত সপ্তাহে ছিল ২৬৫০ বর্তমানে তা ২৮০০ টাকা। নাজিরশাইল চাল গত সপ্তাহে ছিল ২৬২০ টাকা বর্তমানে ২৭৫০ টাকা। কাটানীভোগ চাল গত সপ্তাহে ছিল ২৬৫০ এই সপ্তাহে ২৯০০ টাকা। বাশমতী গত সপ্তাহে ছিল ২৯৫০ টাকা, এই সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০০ টাকায়।
রাজগঞ্জ বাজারের আবির এন্টারপ্রাইজের মালিক স্বত্বাধিকারী ইমদাদুল হক, চকবাজার পাল ট্রেডার্সের মালিক ও মোগলটুলী ভৌমিক ট্রেড়ার্সের মালিক একই দামের কথা জানান৷ তবে কী কারণে চালের দাম এত বেড়েছে তা কেউই জানে না বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু নগরীর টমছম ব্রিজের চাউল ব্যবসায়ী চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বলছেন , আমি আগের দামেই বিক্রি করছি। কারণ আমার আরও দুই সপ্তাহ বিক্রি করার মত চাল আছে।
রাণীর বাজারে চাল কিনতে আসা রিকশাচালক আবুল কাশেম বলেন , এমনিই করোনা আইয়া রুজি কইমা গেছে। তার ওপরে চালের এত দাম! বাঁচার উপায় নাই।
এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম জানান, চালের বাজারে সিন্ডিকেটের খবর আমরা শুনেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত। কুমিল্লায় কোন সিন্ডিকেটের জায়গা হবে না। চালের বাজারের প্রতি আমাদের নজর আছে।
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বগতিশীল বাজারকে স্থীতিশীল রাখতে প্রতি নিয়তই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কুমিল্লা জেলা কাজ করে যাচ্ছে।
কুমিল্লায় চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর দৈনিক আমাদের কুমিল্লাকে বলেন, আমি বাজারে না গিয়ে তো এ বিষয়ে বলব না। আমি আগে জেনে নেই।