বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » কুমিল্লায় আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে সাবেক সেনা সদস্যের জমি দখলের অভিযোগ


কুমিল্লায় আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে সাবেক সেনা সদস্যের জমি দখলের অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.09.2020

দখলের পর নির্মাণ করেছেন দু’টি ঘর, কেটে নিয়েছেন শতাধিক গাছ

আবদুর রহমান ।।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক ল্যান্স নায়েকের প্রায় ৩৫ শতক ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর আগে ওই সম্পত্তি ক্রয় করেছিলেন। দখলের পর হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন মেম্বার নামে ওই আওয়ামী লীগ নেতা সেনা সদস্যের রোপণ করা শতাধিক কাঠ গাছ কেটে নিয়েছেন। সম্প্রতি দখলকৃত সম্পত্তিতে দু’টি টিনের ঘরও নির্মাণ করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের ধনমুড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের পিতার নাম মৃত হাসমত আলী।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন মেম্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের পদে রয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার হুমায়ুন ওই ইউনিয়নের লালমতি গ্রামের মৃত দুলাল মিয়া মুন্সীর ছেলে। তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতার দাবি- তিনি যেই জায়গায় ঘর তুলেছেন, সেটা তার পৈতৃক সম্পত্তি।
এদিকে, অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই আওয়ামী লীগ নেতা ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের কাঠ গাছের বাগান থেকে শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে উল্টো তাকেই হয়রানি করছেন। তিনি তার ভাতিজা মেহেদী হাসানকে দিয়ে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে গাছ কাটার একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন সদর দক্ষিণ থানায়। তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতার দাপটে ও ভয়ে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য হয়েও আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না তিনি।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ধনমুড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সামনের অংশের প্রায় ৩৫ শতক সম্পত্তি দখলে নিয়েছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। সেখানে দু’টি টিনের ঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। একটি ঘর নির্মাণ করেছেন জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির মাটির ঘর ঘেঁষেই। আর দখলকৃত অন্য সম্পত্তিতে ওই আওয়ামী লীগ নেতা এখন হলুদের চাষ করছেন।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের বলেন, সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৯৭ সালে এখানে মোট ১০৬ শতক সম্পত্তি ক্রয় করে আমি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি। গত প্রায় ৬/৭ বছর আগে হুমায়ুন মেম্বার আমার কাছ থেকে কিছু সম্পত্তি কিনতে চায়। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি। এরপর থেকেই হুমায়ুন মেম্বার আমার পেছনে লাগেন। তিনি সম্পত্তি লিখে নিতে এ পর্যন্ত দুইবার আমাকে অপহরণ করেছেন। মারধর করে খুন করার হুমকিও দিয়েছেন। কয়েকবার আমার বাড়িতেও হামলা করেছেন। ওই সময় বিষয়গুলো স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু হুমায়ুন মেম্বার কাউকেই পাত্তা না দিয়ে আমার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, আমি দীর্ঘ ২৩ বছরের বেশি সময় ধরে এই সম্পত্তি ভোগদখল করছি। আমাকে এখান থেকে উচ্ছেদ করে হুমায়ুন মেম্বার পুরো সম্পত্তি গিলে খেতে চাচ্ছেন। তিনি গত মাসে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির প্রায় ৩৫ শতক জায়গা তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে দখল করে নেন। এরপর তিনি আমার কাঠ গাছের বাগান থেকে কয়েক লক্ষ টাকা মূল্যের শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে এখন উল্টো আমার নামে থানায় অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানি করছেন। আমার সম্পত্তিতে জোরপূর্বক দু’টি ঘর তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কথাও বলা যায় না। তিনি হুমকি দিয়েছেন এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকে পরিবারসহ জানে মেরে ফেলবেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রুইদাশ বলেন, এই সম্পত্তি দীর্ঘ বছর ধরে জাহাঙ্গীর আর্মী ভোগদখল করে আসছেন। গত মাসে দেখি তার বাগান থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছেন ওই পক্ষের লোকজন। এখন আবার তার জায়গায় ঘর তুলেছে তারা। তবে এর বেশি কিছু জানি না।
স্থানীয় বিজয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকা বলেন, জাহাঙ্গীর একজন ভালো মানুষ। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি বিষয়টি সমাধানের জন্য। কিন্তু হুমায়ুন মেম্বাররা আমাদের কারও কথাই শুনেন না। তবে বর্তমানে কি হয়েছে সেটা আমাকে কেউই জানায়নি।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন মেম্বার বলেন, এগুলো আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। গত ২০০ বছর ধরে এই সম্পত্তি আমার পরিবারের দখলে। জাহাঙ্গীর সম্পর্কে আমার জেঠাতো বোনের ছেলে। সে যেসব অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি নিজের জায়গায় ঘর তুলেছি। বরং সে অবৈধভাবে আমাদের সম্পত্তি থেকে গাছ কেটেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে আমার ভাতিজা মেহেদি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার বলেন, কোন ব্যক্তির অন্যায়-অপরাধের দায় দল নিবে না। দলীয় পরিচয়ে অপকর্ম করার কোন সুযোগ নেই। আমি ঘটনাটি প্রথম শুনলাম। আপনি ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরকে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলুন। আমি সুপারিশ করবো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।