বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০


মানব ভোগান্তির অপর নাম টমছমব্রিজ-পদুয়ার বাজার সড়ক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.09.2020

আবু সুফিয়ান রাসেল।।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে টমছমব্রিজ পর্যন্ত তিন কোলো মিটার সড়ক দীর্ঘদিন বেহাল। দশ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ হয়নি। জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নিমার্ণ কাজ শেষ হলেও শৃঙ্খলা ফেরেনি। এ সড়কে নগরীর দুইটি কালভার্ট নিমার্ণের কাজ চলমান থাকার ফলে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। বৃষ্টিতে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশার যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সন্ধ্যার পর এ সংকট আরও বেড়ে যায়। কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্নয়ন চলাকালে কিছুটা ভোগান্তি মেনে নিতে হবে।

স্থানীয় সূত্রমতে, পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড থেকে জাঙ্গালিয়া ভায়া টমছমব্রিজ সড়ক প্রায় তিন কিলোমিটার। দুই বছর আগে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। যথাসময়ে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নিমার্ণধীন সড়কের একাংশে কাজ চলমান অন্যপাশ দিয়ে যান চলাচল করে, ফলে যানজট তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে সড়কে বৈদুতিক খুঁটির কারণে বাস স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারে না। জাঙ্গালিয়া থেকে টমছমব্রিজ একই সাথে দুটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলার কারণে ভোগান্তি লেগেই থাকে। বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে।
খন্দকার হক মার্কেটের ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, এখানে আট দশ মিনিটের পথ একঘণ্টা জ্যামে থাকতে হয়। ১৫ টাকার ভাড়া দিতে হয়, ৩০ টাকা। আর রাত আটটার পর হলে তো কথায় নেই। তখন আমরা ড্রাইভারদের কাছে জিম্মি হয়ে যাই। এ সড়কটি দ্রæত নিমার্ণ কাজ শেষ করা দরকার। যানজন যেন না হয়, পরিকল্পিত ভাবে নগরকে সাজানো দরকার।
নগরীর দিশাবন্দ এলাকার বাসিন্দা পদুয়ার বাজার- কান্দিরপাড় সড়কের সিএনজি চালক আব্দুল জলিল বলেন, বিশ্বরোড-টমছমব্রিজ বহু দিন নাজেহাল। এ রাস্তায় মানুষ চলে, যা গরু চলে কারও কোন খবর নাই। সাপ্তাহ শেষ না হতে গাড়িতে তিন হাজার-সাড়ে তিন হাজার টাকার কাজ করাতে হয়। প্রতিদিন ১১০ টাকা জিবি দিতে হয়। নিজের খরচ, মালিকের ভাড়াসহ অতিরিক্ত খরচের কারণে যাত্রীদের থেকে বেশি ভাড়া নিতে হয়। যদি এ রাস্তাটি দ্রæত কাজ শেষ হয়, আশাকরি কোন সমস্যা থাকবে না।
জেলা ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. কামাল উদ্দিন জানান, কুমিল্লায় ট্রাফিক পুলিশ সংকট রয়েছে। ফলে পুরো জেলা দেখাশোনা করা খুবই কষ্টের। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩০ জন পুলিশ ১৫জন করে দুই শিফটে ডিউটি করে। এখানে জনবল বাড়ানো খুবই প্রয়োজন। তাহলে জাঙ্গালিয়া বিশ্বরোড এলাকায় ট্রাপিক পুলিশ দেওয়া সম্ভব হবে। আর শুধু পুলিশ দিলেই হবে না সড়কে সবার সহযোগিতা দরকার। টার্মিনালের কাজ শেষ হয়েছে, তবু বাস চালকরা রাস্তায় বাস রেখে দেন। এখানে কোন শৃঙ্খলা নেই। যদি নোয়াখালী-কুমিল্লা ফোর লেন হয়ে যায়, তবে এ রোডে যানজট থকাবে না।
কুমিল্লা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে মানুষ যেমন কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের গাড়িরও ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তা সমস্যার কারণে এক ঘণ্টার পথ যেতে তিন ঘণ্টা লাগে। বাসগুলো বিকল হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে বলে লাভ নাই, কেউ কারও কথা শুনে না। যেহেতু এটি একটি মহাসড়ক সুতরাং এ কাজ নিয়ে বছরের পর বছর বসে থকালে হবে না। দ্রæত কাজ শেষ করতে হবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর শওকত হোসেন বলেন, দুইটি ড্রেনের কাজ চলমান। কাজটি প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। আশা করি আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, জমি অধিগ্রহণের কারণে লেট হচ্ছে। চলতি বছর কাজের মেয়দ শেষ হওয়ার কথা ছিলো, পরে তা সময় বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে আমরা চিঠি দিয়েছি, তাদের যে খরচ যাবে সে খরচ দিয়েছি। যদি তারা দ্রত খুঁটিগুলো অপসারণ করে, সড়ক নির্মাণের কাজে গতি আসবে। যে কোন উন্নয়ন কাজ চলাকালে কিছুটা ভোগান্তি হয়, এ ভোগান্তি মেনে নিতে হবে। কাজ শেষ হয়ে গেলে আশা করি যানজট বা অন্যকোন সমস্যা থাকবে না।