বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০


২২ দিন পরও উদ্ধার হয়নি শিশু উর্মি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.09.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।
অপহরণের ২২ দিনেও উদ্ধার হয়নি ১৪ বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা উর্মিকে। আটক করতে পারেনি অপহরণকারী কুমিল্লা মহানগরের নূরপুর এলাকার আরমানসহ (২২) অপহরণ কাজে সহযোগীদের কাউকে।
গত ৮ নভেম্বর রাত ১০টা নূরপুর এলাকার চাঁন মিয়া সরদার বাড়ির সামনে থেকে ইবনে তাইমিয়া হাই স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী উর্মিকে এলাকার আরমানসহ সহযোগীরা সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। উর্মির পিতা মাইনুল ইসলাম ও মাতা নাজমা আক্তার সে-রাত ১২টায় কোতয়ালী থানায় মামলা করতে গেলে থানার ডিউটি অফিসার মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। এমনকি তিনি জিডিও করতে দেননি। তিনি উর্মির বাবা ও মাকে অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। অভিযোগ গ্রহণের পর থানার ইন্সপেক্টর তানজীর হোসেন অপহরণকারী আরমানের বাড়িতে যান। তিনি আরমানের মা ও ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তারা উর্মির অপহরণের কথা স্বীকার করে। ইন্সপেক্টর তানজীর হোসেন আরমানের মা’কে পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে অপহৃতা উর্মিকে থানায় হাজির করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরদিন অপহরণকারী আরমানের মা আলেয়া বেগম ও ভাই ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ধারণা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আরমানের মা ও ভাইকে আটক করলে অপহৃতা উর্মিকে উদ্ধার ও অপহরণকারী আরমানকে আটক করা সহজ হতো।

এদিকে ১০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শওকত আকবর পরদিন বাদ এশা উর্মিকে উদ্ধার ও অপহরণকারী আরমানকে হাজির করার প্রতিশ্রæতি দেন। ৯ তারিখ রাত ১০টায় তিনি এ ব্যাপারে অপারগতা স্বীকার করেন এবং উর্মির বাবা-মাকে আইনী আশ্রয়ের পরামর্শ দেন। পুলিশ ও সাবেক কাউন্সিলের রহস্যজনক আচরণে হতাশাগ্রস্থ উর্মির পিতা মাতা ১৩ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ শিশু অপহরণের মামলা দায়ের করেন। আদালত ওইদিনই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন পিবিআই-কে ভিকটিম উদ্ধারসহ ২০০০ইং সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের আইনের ২৭(১ক) (ক) ধারা অনুযায়ী অনুসন্ধান করে ৭ দিনের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পিবিআই এর ইন্সপেক্টর মোঃ তহিদুল ইসলাম ১৮ নভেম্বর জানান, অপহরণের বিষয়টি নিয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। এখন পিবিআই-এর কোনো দায়িত্ব নেই। তখন উর্মির পিতা মাইনুল ইসলাম ও জেঠা সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মাহবুব জিজ্ঞেস করেন থানায় মামলা হয়েছে আপনি জানেন কিভাবে? তিনি বলেন, বাবু ভাই আমাকে থানার মামলার কপি দিয়ে গেছেন। কে এই বাবু ভাই জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি এলাকার একজন ব্যবসায়ী। কি ব্যবসা করেন-এর সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। কোতয়ালী থানায় মামলা গ্রহণ না করায় ১১ তারিখ সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মাহবুব জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর আমীর আলী চৌধুরীকে সাথে নিয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় গিয়ে অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আনোয়ারুল হকের সাথে দেখা করেন এবং শিশু উর্মিকে উদ্ধার ও অপহরণকারী আরমানসহ সহযোগীদের আটকের অনুরোধ জানান। কিন্তু পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআই কেউ এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।

১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়ের এবং ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় অপহরণের সংবাদ প্রকাশের পর কোতয়ালী মডেল থানায় ১৭ নভেম্বর মামলা গ্রহণ করা হয়। সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মাহবুব অপহরণের এ ঘটনা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানকে জানিয়েছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম উর্মি অপহরণের ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বর সাথে দেখছে বলে জানান। তিনি বলেন, অপহরণের ক্ষেত্রে পুলিশ জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন জানিয়েছেন, শিশু উর্মি উদ্ধারের জন্য ডিবি পুলিশ কাজ করছে। তিনি বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।

সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মাহবুব বলেছেন তিনি এ ঘটনাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ জাহাংগীর আলমকেও জানিয়েছেন। মোঃ জাহাংগীর আলম পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানকে এ ব্যাপারে টেলিফোন করেছেন বলে জানিয়েছেন। এরপরও পিবিআই-এর তদন্ত কাজ স্থগিত ও আদালতে প্রতিবেদন দাখিলে অপারগতা প্রকাশ রহস্যজনক। এদিকে আদালত ও থানা থেকে মামলা উঠিয়ে না নিলে উর্মির বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিতছে শিশু উর্মির অপহরণকারী আরমানের ভাই আল-আমিনসহ তার সহযোগীরা।