বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » শিগগিরই ঘোষিত হচ্ছে কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি


শিগগিরই ঘোষিত হচ্ছে কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.09.2020

কমিটি গঠনে থাকছে চমক !

 

শাহাজাদা এমরান।।
অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি আসছে শিগগিরই। প্রথমে পূর্নাঙ্গ কমিটির কথা ভাবা হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আহবায়ক কমিটি করার। এই কমিটিকে অবশ্যই আগামী তিন মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্মেলন করে পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে হবে। তবে কবে নাগাদ কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলার আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের কোন সূত্রই নির্দিষ্ট তারিখ বলতে নারাজ। তবে খুব শিগগিরই ঘোষনা হবে এবং কুমিল্লায় আহবায়ক কমিটিই হচ্ছে এ কথা পৃথক ভাবে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই জন সদস্য,যুগ্ম মহাসচিব একজন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এক জন সদস্য।গতকাল বুধবার বিএনপির এই কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে পৃথক পৃথক কথা বলে এ সকল তথ্য জানা গেছে। তবে কেউই এই মুহুর্তে নাম পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নয়।তাদের বক্তব্য, সব কিছুই দেখভাল করছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কুমিল্লা বিএনপির গত ২০/২৫ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম একটি বড় চমক থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা ।
গত কয়েকদিন ধরে কুমিল্লা মহানগর ও জেলা দক্ষিণ বিএনপির কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মধ্যম ও শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের কাছে দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে কুমিল্লা বিভিন্ন কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক জেলা।সংসদীয় আসন গুলোর মধ্যে ১১টি আসন রয়েছে এই জেলায়। ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের প্রায় শতাধিক কিলোমিটার রয়েছে এই জেলার উপর দিয়ে। যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে এই জেলার গুরুত্ব অনেক।বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারণী কমিটিতেও সব সময় এই জেলার একাধিক সদস্য থাকে। রাজনৈতিক ও ভৌগলিক নানা কারণে দেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দল গুলোই কুমিল্লাকে একটু বেশী প্রধান্য দেন । তবে এর মধ্যে দলীয় অবস্থান ও সরকারের মন্ত্রী সভায় অংশ গ্রহণের দিক থেকে অন্য দল গুলোর তুলনায় কুমিল্লাকে বিএনপি একটু বেশী প্রধান্য দিয়ে থাকে। এসব কারণে বিএনপির বর্তমান হাই কমান্ড কুমিল্লাকে একটু বেশী গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।
কুমিল্লার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে , কুমিল্লা মহানগর বিএনপির প্রথম কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে সম্ভাব্য যাদের নাম জানা গেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। এ ছাড়াও দলের আরো কিছু তরুণ নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। তবে তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে মহানগর বিএনপিকে সাজানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আহবায়ক হিসেবে তরুণ কোন নেতাকে না রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সভাপতি রাবেয়া চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম, কেন্দ্রীয় ত্রান ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা সেক্রেটারি হাজি আমিন উর রশীদ ইয়াছিন, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। তবে জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে কেউ কেউ আবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীর নামও বলছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী এক সদস্য নিজের নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ন দেখভাল করতেছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান । আমি কুমিল্লার কমিটির বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি এখনি পূর্নাঙ্গ কমিটি হবে না। প্রথমে আহবায়ক কমিটি হবে। পরে সম্মেলন করে পূর্নাঙ্গ কমিটি করা হবে। শুধু কুমিল্লা না দেশের অনেক জেলাতেই কমিটি ঘোষনা করা হবে। করোনার কারণের বিলম্ব হয়েছে। এখন আস্তে আস্তে কমিটি গুলো ঘোষনা করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘোষিত কমিটি গুলোও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নিবে।
কুমিল্লা মহানগর ও জেলা কমিটির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, স্থায়ী কমিটির অপর একজন সদস্য,একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন যুগ্ম মহাসচিব প্রায় অভিন্ন ভাষায় পৃথক ভাবে জানান, যারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ভুমিকা রেখেছে, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাদের ভুমিকায় দল এবং দলীয় হাই কমান্ড সন্তুষ্ট এমন সব নেতারাই বিএনপির আগামী দিনের কমিটিতে স্থান পাবে। এটা শুধু কুমিল্লা না সারা দেশের জন্যই একই বার্তা। বিএনপির এই নেতৃবৃন্দ পরিস্কার ভাবে বলেন, দলীয় পদ পদবী কিংবা জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ার পেয়েও দলের জন্য কাজ করেননি, তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন বর্তমান দলীয় হাই কমান্ডের কাছে তিনি কোন ভাবেই যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এমন সকল নেতা এবার দলীয় পদের ব্যাপারে হতাশ হবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পর্যায়ের এক নেতা বলেন, যতটুকু জানতে বা বুঝতে পেরেছি এবার কোন ভাই ধরে বা উপহার দিয়ে কমিটি আনা যাবে না। ইচ্ছে করলেই কোন স্থায়ী কমিটির সদস্য কোন কমিটির বিষয়ে নাক গলাতে পারবেন না। তবে তারা পরামর্শ দিতে বা সুপারিশ করতে পারেন। কমিটি দিবেন সর্বোচ্চ হাই কমান্ড।তিনি সারা দেশে নিজস্ব লোক দিয়ে অসংখ্য কমিটি ,উপ কমিটি করে মাঠ পর্যায়ে তাদের এনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তার পর কমিটি ঘোষনা করবেন বলে আমি এতটুকু বলতে পারি। টাকা দিয়ে কিংবা ভাই ধরে এবার কমিটিতে আসা যাবে না।
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি দলের কাছে একটি কমিটি জমা দিয়েছি। দল যদি আমার কমিটি দেয় দিবে। না দিলেতো আমার কিছু করার নেই। আমি তো আর অন্য দল করব না। যত দিন বাঁচি বিএনপিই করব। এর বেশী আর আমার বলার কিছু নেই।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, কমিটি ঘোষনার ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। এটা সরাসরি আমাদের চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন বলতে পারবেন। তারা কমিটি দিবেন। এই বিষয়ে কাজ চলছে এতটুকু বলতে পারি। কমিটিতে কারা আসতে পারে জানতে চাইলে সাবেক এই ছাত্রদল নেতা বলেন, যারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ভুমিকা রেখেছে , নির্বাচনে দলের জন্য কাজ করেছে তাদেরকেই প্রাধান্য দিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, কমিটি দেওয়ার দায়িত্ব একমাত্র কেন্দ্রের। কেন্দ্র যে দিন কমিটি ঘোষনা করবে সেদিনই আমরা আপনাদের জানাব ইনশাল্লাহ। কমিটিতে কে আসতে পারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় বিএনপির এই নেতা বলেন, ভাইরে, এটা তো আমি বলতে পারব না। আমাদের দলীয় হাই কমান্ড নিশ্চয়ই জেলা এবং মহানগরের সব খবরাখবর রাখেন। আমাদের দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় বিএনপি যে ভাবে ভাল মনে করবেন সেভাবেই কমিটি ঘোষনা করবেন । আমাদের কাজ হচ্ছে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে দলের জন্য কাজ করা , যাতে হারানো গণতন্ত্র আমরা উদ্ধার করে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।
এ দিকে, কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা বিএনপির ইতিহাসে সম্ভবত এবারই প্রথম কমিটি ঘোষনার বিষয়ে একটি চমক থাকতে পারে। তবে চমকটি কি হতে পারে তা বলেননি সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
কবে কমিটি ঘোষনা হবে জানতে চাইলে সূত্রগুলো জানান, চলতি মাসে কমিটি ঘোষনা করার ৭০ ভাগ সম্ভাবনা রয়েছে। কোন কারণে এর মধ্যে না হলে নভেম্বর মাসের প্রথম দিকেই আসতে পারে জেলা ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি।