বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০


বরুড়ায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
30.09.2020

ধামাচাপা দিতে তৎপর প্রভাবশালী চক্র-

 

আবদুর রহমান ।।
কুমিল্লার বরুড়ায় প্রতিবন্ধী এক বৌদ্ধ তরুণীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও দুই দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত ধর্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শীলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামে।
এদিকে, ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং ধর্ষককে বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠেছে এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র। ওই চক্রটি ইতিমধ্যে সালিশের নামে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতিতা তরুণীর বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং স্ট্যাম্প উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় ধর্ষক ইমাম হোসেনকে আসামি করে গত সোমবার রাতে বরুড়া থানায় মামলা হলেও সালিশের নামে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া প্রভাবশালীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লগ্নসার গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে ইমাম হোসেন একই গ্রামের হতদরিদ্র মা হারা এক প্রতিবন্ধী বৌদ্ধ তরুণীকে তার বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে ইমাম হোসেন ফের একই কাজে লিপ্ত হলে নির্যাতিতার বৃদ্ধ পিতা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং ধর্ষককে বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠে।
ওই বৌদ্ধ প্রতিবন্ধী তরুণীর পিতা জানান, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গত রোববার রাতে ওই এলাকার খলিলুর রহমান মুন্সি, নয়ন মিয়া, আবু তাহের, লিটন বড়–য়াসহ কয়েকজন আমার বাড়িতে আসে। এরপর ঘটনাটি মিটমাটের জন্য তারা সালিশ বসায়। এ সময় তারা আমাকে চল্লি¬শ হাজার টাকা দেবে বলে আমার কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। যদিও তারা আমাকে কোন টাকা দেয়নি। শুনেছি তারা ধর্ষক ইমাম হোসেনের কাছ থেকে মিমাংশার নামে ২ লাখ টাকা নিয়েছে। আমি তাদের ভয়ে কোন কথা বলতে পারিনি। তাদের ভয়েই খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় থানায় মামলা হলেও এখনো তাদের আতংকে আছি। তারা এখন আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ধর্ষকের সঙ্গে ওইসব লোকদেরও বিচার হওয়া দরকার। যারা চেয়েছিলেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং ধর্ষককে বাঁচাতে।
বরুড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল বাহার জানান, সোমবার রাতে ওই তরুণী ও তার বাবাকে পুলিশের সহযোগিতায় থানায় আনার পর তরুণীর বাবার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানা হয়। পরে রাতেই ইমাম হোসেন নামে একজনকে আসামি করে ধর্ষিতা তরুণীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে টাকা দিবে বলে খালি স্ট্যাম্পে তরুণীর বাবার কাছ থেকে স্বাক্ষর আদায় করেছে বলে মামলায় উলে¬খ করা হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় কারো সংশি¬ষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের (প্রভাবশালী চক্র) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়–য়া জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আমরা ওই তরুণীর বাবার কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।