বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০


চালের বাজারে অস্থিরতা কমছে না


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.10.2020

আবদুল্লাহ আাল মারুফ।।
সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লায়ও চালের বাজারের অস্থিরতা কমছে না। গতকাল শনিবার কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি দোকানগুলোতে প্রতি বস্তা বিভিন্ন পর্যায়ের চাল বেড়েছে ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা দোকানে এই দাম বৃদ্ধির হার আরো বেশি।
বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, চালকল মালিক এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট যেন পরিবহন সেক্টরের সিন্ডিকেটের মতো শক্তিশালী হয়ে গেছে। নানান অজুহাতে নিজেদের খেয়ালখুশি মতে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনকে তোয়াক্কাই করছে না। চালের দাম বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে দফায় দফায়। দাম নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বারবার মিল মালিকদের প্রতি নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করার জন্য জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপরও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না চালের বাজার। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের দাম বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকরাই দায়ী।
জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, মিল মালিকরা চাল সংরক্ষণ করছেন। চালের যে পাইকারি দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি তারা তা না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের সভায় পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশের মিলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ওই বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী প্রথমে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম ২,৬০০ টাকা এবং আটাশ চালের দাম ২,৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু চাল ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগের দামে চাল বিক্রির নির্দেশ দেন। এরপরও চালের দাম এখনো চড়া।
খাদ্য অধিদপ্তর বলছে, চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় মিটিং করে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনোভাবেই যেন চালের দাম বৃদ্ধি না পায়। একদিকে ব্যবসায়ীদের চালের দাম বৃদ্ধি না করতে নির্দেশ; অপরদিকে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে চালের বাজারে নজর রাখতে বলা হয়। এ জন্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়।
সূত্র আরো জানায়, সুপার কোয়ালিফাই মিনিকেট চাল প্রতি ৫০ কেজি ওজনের বস্তা ২,৫৭৫ টাকায় ও মিডিয়াম কোয়ালিফাই মিনিকেট ২,২৫০ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনোভাবে ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।
গতকাল শনিবার কুমিল্লা নগরীর রাণীর বাজার, নিউ মার্কেট বাজার, রাজগঞ্জ বাজার, চক বাজার, বাদশা মিয়ার বাজার ও টমছম ব্রিজ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে স্থানীয় আটাশ চাউলের বস্তা ছিল ২২৮০ টাকা এই সপ্তাহে তা ২৩৫০ টাকা বিক্রি করছেন? শেরপুরের আটাশ গত সপ্তাহে ছিল ২৩০০ টাকা কিন্তু এই সপ্তাহে তা ২৪০০ টাকা। মিনিকেট রজনীগন্ধা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০০ বর্তমান দাম ২৭০০ টাকা। নাজিরশাইল ২৬০০ টাকা ছিল গত সপ্তাহে, চলমান সপ্তাহে তা ২৬৫০ টাকা। সিরাজ মিনিকেট গত সপ্তাহে ছিল ২৬৮০ টাকা বর্তমান সপ্তাহে তা ২৭৫০ টাকা। কাটারিভোগ গত সপ্তাহে ছিল ২৯০০ এই সপ্তাহে তা ২৯৫০ বিক্রি হচ্ছে। মোজাম্মেল মিনিকেট ২৭০০ টাকা ছিল। বর্তমানে তা ২৭৪০ টাকা। চিনি গুড়া ৪৩০০ ছিল। এখন ৪৩৫০ টাকা। তবে সাগর মিনিকেট, মিলন মিনিকেট ও রুবেল মিনিকেটের দাম একই আছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
চকবাজারের চাল ব্যবসায়ী, গিয়াসউদ্দিন রাইস হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল আউয়াল জানান, চালের এই দামগুলো হলো পাইকারি। খুচরা আরও বেশি বিক্রি করতে হয়। কখনও বস্তা প্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২০০টাকা।
প্রকাশ শারমা। নামকরা এক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। সাক্ষাৎ হয় কুমিল্লার রাণী বাজারের এক চালের দোকানে। তিনি জানান, লকডাউনে তার বিক্রিও কমেছে আর তার মাইনেও কমেছে। কিন্তু পরিবারের চাহিদা তো আর কমেনি। দুমুঠো খেয়ে দিন পার করছেন কোনরকমে। এর মধ্যে বেড়েছে চালের দাম। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজিও। মুখটা মলিন করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছেন চালের দোকানের সামনে। দরাদরি করে শেষ মেষ ৫০ টাকা দিয়ে সিরাজ মিনিকেটের ৫ কেজি চাল কিনে বাড়ি ফেরেন।
এ দিকে,মিল মালিকদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পূর্বের মূল্যের চেয়ে কমমূল্যে চাল বিক্রি করছেন তারা। তবে খুচরা বাজারে কেন দাম কমছে না? এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, মিলারদের কাছ থেকে কম মূল্যে ক্রয় করে রিটেইলার এবং পাইকারি বিক্রেতারা বেশি মূল্যে বিক্রি করছে। ফলে খুচরা বাজারে চালের দাম কমেনি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সরকারকে বাজার মনিটরিংয়ে জোর দিতে হবে।