বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০


কুমিল্লায় রসমালাইয়ের বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.10.2020

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
কুমিল্লার রসমালাইয়ের সুখ্যাতি দেশজুড়ে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় কুমিল্লার রসমালাই। দেশে ব্যাপক চাহিদা কুমিল্লার রসমালাইয়ের। ব্যবসাও ছিল তুমুল। কিন্তু করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ঐতিহ্যবাহী রসমালাইয়ের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। বিক্রি কমে গেছে ৬০ শতাংশ।
করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পূর্বে প্রতিদিন কমপক্ষে ২টনের মতো রসমালাই বিক্রি হতো কুমিল্লার মিষ্টি প্রস্তুতকারী সমিতির অধীনস্ত ২২টি প্রতিষ্ঠানে। যার বাজার দর পাঁচ লাখ টাকার মতো। বছরে ১৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার রসমালাই বিক্রি হতো এসব প্রতিষ্ঠানে। করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর ১২০ দিন রসমালাইয়ের উৎপাদন বন্ধ থাকে কুমিল্লা জেলায়। এতে লোকসান হয় ৬ কোটি ৩লাখ টাকা। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর রসমালাইয়ের উৎপাদন শুরু হলেও বিক্রি কমে গেছে ৬০ভাগ। আবার কয়েকটি রসমালাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন এখনও শুরু করেনি। এখন প্রতিদিন সাত থেকে আটশ’ কেজি রসমালাই বিক্রি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন পাঁচ লাখ টাকার রসমালাই বিক্রি হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে দুই লাখে।
এদিকে মিষ্টি প্রস্তুতকারী সমিতির বাইরেও জেলার আরও অন্তত ৪০টি প্রতিষ্ঠান রসমালাই উৎপাদন করে। হাইওয়ে সংলগ্ন বড় বড় রেস্টুরেন্টগুলোও রসমালাই তৈরি করে থাকে। করোনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ধস নেমেছে।
কুমিল্লায় ৭০ বছর ধরে রসমালাই বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মিষ্টি ভান্ডারের ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান,‘করোনার পূর্বে সারাদেশ থেকে মানুষ এসে এখানে রসমালাই ক্রয় করতো। ভ্রমণে আসা অধিকাংশ পর্যটক কুমিল্লার রসমালাই নিয়ে যেতো। ভারত থেকেও প্রচুর ক্রেতা আসতো রসমালাই নিতে। সাধারণ ছুটি শেষে রসমালাইয়ের উৎপাদন শুরু হলেও পরিস্থিতির কারণে এসব ক্রেতারা আসতে পারছেন না। তাই বিক্রি কমে গেছে ৬০ ভাগ।’
কুমিল্লার শীতল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী প্রবীর ঘোষ জানান, ‘৯০ বছর ধরে আমরা, ভগবতী পেড়া ভাÐার ও মাতৃ ভাÐার; এ তিনটি প্রতিষ্ঠান এখানে রসমালাইসহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করছি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে এত খারাপ সময় আর পার করতে হয়নি। তারপরও কোরবানির ঈদের পর থেকে ব্যবসায় কিছুটা গতি এসেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়তে থাকবে।’
জলযোগের স্বত্বাধিকারী তপন রায় বলেন,‘ আমাদের রসমালাই বিক্রি ৭০ভাগ বিক্রি কমে গেছে ।’
কুমিল্লা মিষ্টি প্রস্তুতকারক সমিতিরি সভাপতি মামুনুর রশিদ জানান, ‘কুমিল্লার মাতৃভান্ডারে বিক্রি ৫০শতাংশ কমেছে। বাকিগুলোতে বিক্রি কমেছে গড়ে ৬০ভাগ। কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও উৎপাদন যায়নি।’
তিনি জানান,‘ কুমিল্লার মানুষ আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে গেলে রসমালাই নিয়ে যেতো। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে কুমিল্লার রসমালাই কিনতো। শখ করে নাস্তার টেবিলে রসমালাই রাখতো। এখন মানুষের আর্থিক সঙ্গতি অনেক কমে গেছে। বিয়ে-শাদিসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান ছোট পরিসরে করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার কারণে অধিকাংশ অভিভাবক গ্রামে রয়েছেন, তাই বিক্রি কমে গেছে।’
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে প্রথম কুমিল্লায় বাণিজ্যিকভাবে রসমালাই উৎপাদন শুরু হয়। কুমিল্লার মাতৃভান্ডার, ভগবতী পেড়া ভান্ডার ও শীতল ভান্ডার ১৯৩০ সাল থেকে রসমালাই বিক্রি করে আসছে। কুমিল্লা মিষ্টি ভান্ডার ১৯৫০ সালে রসমালাইয়ের ব্যবসা শুরু করে। বংশ পরম্পরায় চলছে রসমালাইয়ের ব্যবসা।