শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০


জরুরি ওষুধ পাওয়া যায় না চান্দিনায়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.10.2020

চান্দিনার মহিচাইল ইউপি নির্বাচনে আ'লীগ প্রার্থী জয়ী - banglanews24.com

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা।।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের ফার্মেসিগুলোতে জরুরি ওষুধ সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

চান্দিনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আওতায় থাকা কমপক্ষে একটি ফার্মেসি ২৪ ঘণ্টা ওষুধ সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন করেনি কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।

এদিকে ফার্মেসিগুলো কিছু কিছু ওষুধ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে ওষুধ বিক্রি করছে ফার্মেসিগুলো। এছাড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যেও ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

চান্দিনা বাজার মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. বাহারুল ইসলাম বাহার বলে, শনিবার ভোর ৫টায় আমার জরুরি প্রয়োজনে চান্দিনা বাজার ফার্মেসিগুলো থেকে ওষুধ কিনতে পারিনি। দত্ত মেডিকেল হল, সাহা মেডিকেল হল, নাহা মেডিকেল হল, মেডিসিন কর্নার এই দোকানগুলোতে অনেক ডাকাডাকি করলেও কেউ দোকান খোলেনি। মানবিক কারণে কমপক্ষে একটি দোকানে ২৪ ঘণ্টা ওষুধ বিক্রি করা প্রয়োজন।

হারং গ্রামের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফার্মেসিগুলোতে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে ওষুধ বিক্রি হয়। আগে ১০-১২শতাংশ কম মূল্যে ওষুধ বিক্রি হতো। সিন্ডিকেট করে তারা সর্বোচ্চ মূল্য নিচ্ছে। এছাড়া কিছু কিছু ওষুধ সরবরাহ নেই দাবি করে গায়ের রেটের চেয়ে বেশি মূল্যে ওষুধ বিক্রি করছে। এতে রোগী ও তার স্বজনরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এব্যাপারে মেডিসিন কর্নারের মালিক পিযুষ সাহা বলেন, আমাদের কোন সিন্ডিকেট নেই। কোন ওষুধ সরবরাহ না থাকলে কেউ কেউ হয়তো বেশি দাম নেয়। কিন্তু এর সংখ্যা একেবারেই কম। আমরা খুচরা মূল্যের কিছুটা কমেই বিক্রি করি।

চান্দিনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এরশাদ আলী ভূইয়া বলেন, ব্যবসায়ী সমিতির সভায় আমরা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আওতায় থাকা কমপক্ষে একটি ফার্মেসি ২৪ ঘন্টা ওষুধ সেবা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। সেই অনুযায়ী সমিতির সভাপতির মালিকানাধীন দত্ত মেডিকেল হলে বিশেষ প্রয়োজনে রোগী বা তার স্বজনরা ডাক দিলে দোকান খুলে ওষুধ দেওয়ার কথা ছিলো। তারা কেন এটা বাস্তবায়ন করেনি আমি জানি না।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি ও দত্ত মেডিকেল হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার দত্ত বলেন, আমি ব্যবসায়ী সমিতির কথা মতো রাত ১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখি। এর পর কারো ওষুধের প্রয়োজন হলে সাইনবোর্ডে আমার নম্বর দিয়ে রেখেছি। ফোন দিলেই আমরা দোকান খুলে ওষুধ দিয়ে থাকি। শনিবার ভোরে আমাকে কেউ ফোন করেনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কোন সিন্ডিকেট নেই। গায়ের দামেই ওষুধ বিক্রির নিয়ম। তারপরও রোগীদের স্বার্থে আমরা কিছুটা কম মূল্যেই ওষুধ বিক্রি করি।