বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » চান্দিনায় টানা বৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজি চারার ব্যাপক ক্ষতি


চান্দিনায় টানা বৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজি চারার ব্যাপক ক্ষতি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.10.2020

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা।।
কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লার চান্দিনাসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তলিয়ে গেছে মাঠ-ঘাট, ফসলি জমি ও বীজতলা। সপ্তাহ ব্যাপী ভারী বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকদের শীতকালীন অনেক শাক-সবজি খেত। টানা বৃষ্টির পর রোদের খরতাপে আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক। এতে সবজির জেলাখ্যাত কুমিল্লা শীত মৌসুমে শীতকালীন আগাম শাক-সবজি বাজারে সরবরাহ করতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকেই এ উপজেলার কৃষক শীতকালীন আগাম শাক-সবজি রোপণ করতে শুরু করছিলেন। তাদের শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, লাল শাক ও পালং শাক অন্যতম।
সপ্তাহ ব্যাপী বৃষ্টি শুরু হওয়ার মাত্র ৫/৭দিন পূর্বে ওইসব জমিগুলোতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, লাউ, মুলার চারা রোপণ এবং শাকের বীজ বপন করেছে কৃষক। এরই মধ্যে টানা ভারী বর্ষায় অধিকাংশ জমির চারা ও বীজ পঁচে গেছে। সেসব জমিতে আবারও নতুন করে বীজ ও চারা রোপণ করার স্বপ্ন দেখছে কৃষক সম্প্রদায়। এতে একদিকে যেমন পিছিয়ে পড়েছে শীতকালিন সবজির আগামী চাষাবাদ অপরদিকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক।

চান্দিনার হারং গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া জানান, এক একরেরও বেশি জমিতে ফুলকপি ও মুলার চারা রোপণ করেছি। চারা রোপণের এক সপ্তাহ পর থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। ওই বৃষ্টিতে পঁচে গেছে অধিকাংশ চারা। জমি চাষ থেকে শুরু করে চারা রোপণ পর্যন্ত প্রায় আমার ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
মনির ও ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আমরা প্রায় এক একর ২০শতাংশ জমিতে টমেটো ও মুলার চাষ করেছি। বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ অক্টোবর থেকে শীতকালিন সবজি চাষাবাদের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও এ জেলায় শীতকালিন আগামী শাক-সবজি চাষাবাদ করেন কৃষক সম্প্রদায়। যার ফলে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে লাল শাক, পালং শাক, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি চাষাবাদ করেছে এ জেলার কৃষক।
এছাড়া শুধুমাত্র চান্দিনা উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম শাক-সবজি চাষাবাদ করেছিল কৃষক।
সরকারি হিসাব মতে চলতি বর্ষা মৌসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে তিন শত হেক্টর জমির শাক-সবজি আক্রান্ত হয়েছে। তবে ওই সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করছেন কৃষকরা।

চান্দিনা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সারওয়ার হোসেন জানান, প্রচুর বৃষ্টিতে অধিকাংশ মুলা ও ফুলকপির জমি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে যেসব টমেটো খেত থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে সেগুলো এখনও ভাল আছে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরজিৎ দত্ত জানান, আমরা এখনও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করিনি। সকল উপজেলা থেকে তালিকা নিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবো। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে সহযোগিতা করবো।