বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০


মাছ কেটে মাসে আয় অর্ধলক্ষ টাকা !


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.10.2020

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি ।।

নগর কুমিল্লার রাজাগঞ্জ মাছ বাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা সরগম থাকে। মাছ নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতা দর কষাকষি করেন। তখন পাশে দাড়িয়ে দেখে কয়েকজন যুবক। মাছ কেনা হলে ক্রেতাকে বলেন ভাই মাছ কাটবেন। ক্রেতা যখন হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়েন, ওই যুবকরা মাছের ব্যাগটি নিয়ে যায়। ব্যাগ থেকে মাছ নামিয়ে নেয়। কেউ বটি নিয়ে বসেন। কেউ বা মাছের আঁশ ছাড়ানোর যন্ত্রটা হাতে নেন। শুরু হয় মাছ কাটা। পাশে দাড়িয়ে থাকেন মাছ ক্রেতা। আঁশ ছাড়ানো শেষ হলে কেউবা মাছটি টুকরো করেন। কখনো ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মাছের টুকরা কাটতে হয়। মাছ কাটা শেষ হলে ব্যাগে তুলে দেন। এভাবে পালা করে মাছ কেটে দেয় তারা। আর মাছ কেটে দিয়ে মাসে অন্তত ৫০ হাজার টাকা আয় করেন তারা।
শনিবার সরেজমিনে রাজগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছ বাজারের একদল যুবকের ব্যস্ততা। ক্রেতার পাশে ঘুরঘুর করেন। তাদের পেশা মাছ কাটা।


দীর্ঘ আট বছর ধরে কুমিল্লা রাজগঞ্জ বাজারে মাছ কাটেন জাকির হোসেন। মাছ কেটে মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। জাকির জানান, কিভাবে এলেন এ পেশায়। তখন ২০১২ সাল। সপ্তম শ্রেনীতে পড়তো জাকির হোসেন। বাবা জয়নাল আবেদীন মাছ বিক্রি করতেন। ওই সময় বাবার পাশে দাড়িয়ে জাকির হোসেন মাছ কাটার দৃশ্য দেখতেন। পরিবারে অভাব অনটন দেখা দিলে জাকির হোসেনও পড়াশোনা ছেড়ে মাছ কাটা পেশায় যোগ দেন। শুরুতে মাছ কাটতে গিয়ে কয়েকবার হাত কেটে যায়। এখন মাছ কাটতে সিদ্ধহস্ত জাকির হোসেন মুহূর্তেই বড় বড় মাছ কেটে ফেলেন।

প্রতি কেজী মাছ কাটার জন্য ১০ টাকা করে নেন । জাকির জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গড়ে আড়াই’শ কেজী মাছ কাটেন। ১০ টাকা করে কেজী প্রতি পারিশ্রমিক নেয়। আড়াই’শ কেজী মাছ কাটলে প্রতিদিন আড়াই হাজার টাকা পায়। সে হিসেবে মাসে ৭৫ হাজার টাকা আয় হয়। এই টাকার মধ্য গড়ে ২৫ হাজার টাকা জাকিরের সহকারী ও বাজারের খাজনা বাবদ ব্যয় হয়। বাকি ৫০ হাজার টাকা জাকিরের মাসিক আয়।

জাকির হোসেনের ৫ জন সহকারী আছে। তারা প্রত্যেকেই বেতনভুক্ত। সহকারী যারা আছে তারা যদি একবেলা মাছ কাটে তাহলে তিনশ টাকা দেন। কেউ যদি পুরো দিন মাছ কাটে তাকে ৬’শ টাকা দেন।

রনি নামে জাকির হোসেনের এক সহকারী জানান, যে দিন সে অর্ধেক দিন কাজ করে সেদিন সে ৩ শ টাকা পায়। আর যখন সারা দিন মাছ কাটায় সময় দেন তখন ৬ শ টাকা পান। প্রতিদিনের টাকা তার মালিক প্রতিদিনই দেন।
জাকির হোসেন আরো জানান, এখনো বিয়ে করেন নি। মা বাবার সাথেই থাকেন। অভাবের মধ্যে শুরু করলেও এখন অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এসেছে। এখন নিজের আয় দিয়ে বাবা-মা’ কে নিয়ে ভালোই আছেন।

নগরীর ঝাউতলা এলাকার গৃহবধূ আসমা বেগম। একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরী করেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজগঞ্জ বাজারে এসেছেন। ১০ কেজী রুই মাছ কিনেছেন। আসমা বেগম বলেন, মাছ কাটা অনেক ধৈর্য্যের কাজ। বাসায় মাছ কাটতে ছাঁই লাগে। বাসায় সব সময় ছাঁই থাকে না। এছাড়াও কই ও শিং মাছ কাটা অনেক কষ্ট সাধ্য। বাজারের যারা মাছ কাটেন তারা খুব সহজেই যে কোন মাছ খুব কম সময়ে কেটে দেন। বিষয়টা কর্মজীবী মানুষের জন্য অনেক উপকার হয়।
কুমিল্লা রাজগঞ্জ দৈনিক বাজারের সাবেক কোষাধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন জানান, অন্তত ১৫ জন যুবক মাছ কাটা পেশার সাথে যুক্ত আছে। তাদেরও সহকারী আছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, যারা মাছ কাটা পেশায় যুক্ত আছেন তারা মানুষের সেবা করার মধ্যে দিয়ে নিজেদের অর্থসংস্থান করছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও অনুকরণীয়।
কুমিল্লা নগরীর ১১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত রাজগঞ্জ বাজারটি৷ ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর আল আমিন সাদি বলেন, মাছ কাটা পেশায় যুক্ত আছেন ১০/১৫ যুবক। তারা মাছ কাটেন। বিনিময়ে প্রতিকেজী মাছ কাটার জন্য ১০ টাকা করে নেয়।বাজারের খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে তারা কাজটি করেন। তাদের এ কাজে যেমন আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ব্যস্ত নাগরিকদের সেবাও দিচ্ছে।