শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » লিড নিউজ ১ » আমাদের কুমিল্লাকে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর -কেউ অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হয় না


আমাদের কুমিল্লাকে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর -কেউ অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হয় না


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.10.2020

 

# করোনাকালীন সময়ে ২,৯০০ এনআইডি দিয়েছি
# বয়স্কদের লাইনে দাঁড়াতে হয় না,তাদের জন্য নাশতার ব্যবস্থা করেছি
# কিছুটা দুর্বল প্রার্থীরা সব সময় অভিযোগ করেন

 

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
কুমিল্লা জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ও আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,আসন্ন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও বরুড়ার একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেউ ন্যূনতম অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অবাধ,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নির্বাচনকে কেউ যদি বিঘ্ন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করে তাহলে তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এজন্য জেলা নির্বাচন অফিস,জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসনসহ আমরা সকলেই একযোগে সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। জেলা নির্বাচন অফিসের পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌকস এই নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন, কুুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসে এখন কোন সিনিয়র সিটিজেন সেবা নিতে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। আমরা এই বয়স্ক সেবা গ্রহীতাদের জন্য আলাদা রুমে বসার পাশাপাশি নাস্তা খাওয়ারও ব্যবস্থা করেছি। গত ১১ অক্টোবর সকালে দৈনিক আমাদের কুমিল্লার সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

কুমিল্লা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। ১৯৯৫ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন । ২০০৮ সালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদেন জাহাঙ্গীর আলম। বেশ কয়েকটি উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তার কাজ করার পর সর্বশেষ ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে কুমিল্লার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন । কুমিল্লায় কাজ করার চ্যালেঞ্জ, চলমান নির্বাচন ও উপনির্বাচনসহ নির্বাচন সর্ংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তার সাথে।
আমাদের কুমিল্লা: কুমিল্লার মতো বড় ও চ্যালেঞ্জিং জেলায় কাজ করছেন। কেমন লাগছে?
জাহাঙ্গীর হোসেন: চ্যালেঞ্জ সবসময় থাকে। তারপরও উপভোগ করছি। কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে খাপ খাইয়ে নিয়েছি। এখন কোনো কিছু অসম্ভব মনে হয় না।
আমাদের কুমিল্লা: করোনায় জনগণ কেমন সেবা পেয়েছে?
জাহাঙ্গীর হোসেন: করোনাকালীন ২৯০০ এনআইডি দিয়েছি। সেবাগ্রহীতাদের ইমেইলে কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। তারা প্রিন্ট করে নিয়ে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এছাড়া অনলাইনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ করেছি।
আমাদের কুমিল্লা: সরকারি পরিষেবার বাইরে নতুনত্ব কী এনেছেন?
জাহাঙ্গীর হোসেন: এখানে বয়স্কদের লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নিতে হয় না। তাদের জন্য আলাদা সেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এমনকি অফিস থেকে নাশতার ব্যবস্থা করেছি, যাতে বয়স্করা কোনো প্রকার কষ্ট না পান। সরকারি সুবিধাভোগীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা নিয়েছি।
আমাদের কুমিল্লা: ২০ অক্টোবর দাউদকান্দি উপজেলায় উপনির্বাচন। আপনি রিটার্নিং কর্মকর্তা। কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
জাহাঙ্গীর হোসেন: নির্বাচনী আচরণবিধির যাতে লঙ্ঘন না হয়, সে জন্য রোববার থেকে আমাদের চারজন ম্যাজিস্ট্রেট তদারকি অভিযান পরিচালনা করছেন। নির্বাচন সংক্রান্ত এ দিন জেলায় একটি মিটিং করেছি। গতকাল সোমবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে মিটিং হয়েছে। ১৮ তারিখ থেকে প্রতি তিন ইউনিয়নে একজন ম্যাজিস্ট্রেট বা তারও বেশি ম্যাজিস্ট্রেট রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
আমাদের কুমিল্লা: প্রতিকেন্দ্রে কতজন পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে?
জাহাঙ্গীর হোসেন: প্রতিকেন্দ্রে পাঁচজন সশস্ত্র পুলিশ, দশজন আনসার সদস্য (নিরস্ত্র) ও দুইজন সশস্ত্র আনসার সদস্য থাকবে। এর বাইরে প্রতি তিন থেকে পাঁচ কেন্দ্রে মোবাইল টিম ও একাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে।
আমাদের কুমিল্লা: মোট কেন্দ্র ও ভোটারের সংখ্যা কত?
জাহাঙ্গীর হোসেন: দাউদকান্দিতে ১০২টি কেন্দ্র ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ৭৩ হাজার ৫০১জন।
আমাদের কুমিল্লা: ক্ষমতাসীন দলের বাইরের প্রার্থীরা প্রায়সময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বাস্তবায়ন হয় না বলে অভিযোগ করেন। দাউদকান্দিতে এমন অভিযোগ কী পেয়েছেন?
জাহাঙ্গীর হোসেন: পেয়েছি, মৌখিক। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।
আমাদের কুমিল্লা: ২০ অক্টোবর বরুড়াতেও ইউপি নির্বাচন হবে। সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবে ওই স্থানে কি আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
জাহাঙ্গীর হোসেন: এটা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। সকল নির্বাচন গুরুত্বসহ শেষ করি। এটাও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার চেষ্টা করব।
আমাদের কুমিল্লা: নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিয়ে মাঝেমাঝে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ওঠে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট নিয়েও। বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করেন?
জাহাঙ্গীর হোসেন: কিছুটা দুর্বল প্রার্থীরা এমন অভিযোগ করেন। তারা ঠিকভাবে এজেন্টও দিতে পারেন না। কিন্তু নির্বাচন শেষে বা মাঝখানে সংবাদ সম্মেলন করে বসেন। তারপরও কেউ অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হয় না। অনিয়মের অভিযোগে দুই-একজনের চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও কেউ গোলোযোগ সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের কুমিল্লা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
জাহাঙ্গীর হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।