শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচন মাঠ চষে বেড়াচ্ছে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা, সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি


চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচন মাঠ চষে বেড়াচ্ছে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা, সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.10.2020

আবদুর রহমান ও আবুল বাশার রানা।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এখনো এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বর্তমানে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে এ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখনো রয়েছে সিদ্ধান্তহীনতায়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, অন্য কোন দলের খুব একটা দৌড়ঝাপ না থাকলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন প্রার্থী নিয়মিত মাঠে রয়েছেন। অনেক প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আবার অনেকে এরই মধ্যে এলাকায় জনসংযোগও শুরু করে দিয়েছেন। আলোচিত প্রার্থীদের নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও সরব হয়ে উঠছে। আবার অনেক প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় ঘরোয়া মিটিংও করছেন দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে। তারা এখন কর্মীদের সমর্থন নিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, এ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বর্তমান পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী (এনাম পাটোয়ারী), চৌদ্দগ্রাম ফ্রেন্ডস হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যুবলীগ নেতা মো.ফারুক আহমেদ খাঁন শামীম ও উপজেলা যুবলীগে যুগ্ম-আহবায়ক ও ব্যবসায়ী মাহাবুবুল হক মোল্লা (বাবলু মোল্লা)। এছাড়া আরও কয়েকজনও দলের মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাপ করছেন বলে জানা গেছে।
তবে সকল প্রার্থীদের একই ভাষ্য হলো, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনের সকলে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন সাবেক রেলপথ মন্ত্রী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চৌদ্দগ্রামের এমপি মুজিবুল হক মুজিব। মুজিবুল হকের নির্দেশনা সকল প্রার্থী মেনে নিবেন বলেও জানান।
বর্তমান পৌর মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, দুই মেয়াদে গত ১০ বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি। পৌরসভার উন্নয়নের পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করেছি। পুরো পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আশা করছি আমার কাজের মূল্যায়ন করে দল আমার উপরই আবারও আস্থা রাখবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমার পরিবার থেকেই এই চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু হয়েছে। গত নির্বাচনেও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম, কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। দলের জন্য বারবার নির্যাতিত হয়েছি। ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আশা করছি এসব কাজের মূল্যায়ন করে দলের মনোনয়ন আমাকে দেওয়া হবে।
উপজেলা যুবলীগ নেতা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী ওরফে এনাম পাটোয়ারী বলেন, গত পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছি। এরপর ফলাফল মেনে নিয়ে গত ৫ বছর জনগণের পাশে ছিলাম। দলের জন্য কাজ করেছি। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। দল আমার উপর আস্থা রাখলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো। আর দল ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
পৌর যুবলীগ নেতা মো.ফারুক আহমেদ খাঁন শামীম বলেন, কারো বিরুদ্ধে নয়, আমি আমার পক্ষে। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা ভালো, কিন্তু প্রতিহিংসা আমি পছন্দ করি না। রাজনীতি যেহেতু পৌরবাসীর কল্যাণের জন্যই করি সেহেতু কারো ক্ষতি হোক আমার জন্য সেটা আমি চাই না। রাজনীতি করতে রাজত্ব লাগে না, প্রয়োজন শুধু মানসিকতার। রাজত্বের চিন্তা করলে মানুষের কল্যাণ করা যায় না। তাই দুর্নীতিমুক্ত একটি আধুনিক পৌরসভা গঠন করাই আমার মূল লক্ষ্য। যেখানে সাধারণ মানুষ সব সময় সেবা নেওয়ার জন্য ছুটে আসবে নিঃসংকোচে। আশা করছি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
উপজেলা যুবলীগ নেতা মাহাবুবুল হক মোল্লা ওরফে বাবলু মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছি, মাঠে থেকে মানুষের পাশে আছি। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। বিগত দিনে পৌরসভায় উন্নয়নে বৈষম্য হয়েছে। দলের মনোনয়নে মেয়র হলে আশা করছি কোন উন্নয়নে বৈষম্য থাকবে না। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে আমার জোরালো ভূমিকা থাকবে।
এদিকে, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক জি এম তাহের পলাশী বলেন, আমাদের এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি এই নির্বাচন নিয়ে। দলীয় মতামত পেলে প্রার্থী দিবো। তবে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হতে চায়নি।

ছবি ঃ কুমিল্লা: মিজানুর রহমান, আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, ইমাম হোসেন পাটোয়ারী (এনাম পাটোয়ারী), ফারুক আহমেদ খাঁন শামীম, মাহাবুবুল হক মোল্লা (বাবলু মোল্লা)।