শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » ধর্ষণ মামলায় জেল খাটেন এসআই আকবর, শাস্তির দাবি আশুগঞ্জবাসীর


ধর্ষণ মামলায় জেল খাটেন এসআই আকবর, শাস্তির দাবি আশুগঞ্জবাসীর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.10.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনার পর দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইঁয়া। পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বগৈর গ্রামে। বাবা জাফর আলী ভূঁইয়া স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা জেল খেটেছেন তিনি। তবে পরিবারের দাবি এ মামলাটি ছিল ষড়ষন্ত্রমূলক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সালে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৫ সালে উপজেলার ফিরোজ মিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন আকবর। ২০০৭ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি নেন তিনি। কয়েক বছর চাকরি করার পর উপপরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরির জন্য পরীক্ষা দেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এসআই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে আকবর ও তার পরিবারের ভাগ্য। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় আকবর। পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর নিজ গ্রামে বাড়ি ও জায়গা-জমিসহ অঢেল সম্পদ গড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুরোনো ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে আলিশান বাড়ি। ইতোমধ্যে বাড়ির প্রথম তলার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে আধুনিক ফটক তৈরির কাজ। কীভাবে আলিশান বাড়িসহ এত সম্পদের মালিক হয়েছেন সে আলোচনা এখন গ্রামের সবার মুখে। অনেকে পুলিশ কর্মকর্তা আকবর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বগৈর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পুলিশে চাকরি হওয়ার পরই অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন আকবর। তিনি যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং আশুগঞ্জের মানুষের জন্য কলঙ্ক। আশুগঞ্জকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য বন্দরবাজার ফাঁড়ির ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের ছোট ভাই আরিফ ভূঁইয়া বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আমার ভাই এ ধরনের কাজ করতে পারে না। আমরাও চাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমার বিশ্বাস, ভাই টাকার জন্য কাউকে মারতে পারে না। আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বলেন, আকবর যে ঘটনা ঘটিয়েছে- সেটি পুরো আশুগঞ্জের জন্য লজ্জার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আকবর যদি দোষী প্রমাণিত হন তাহলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাই।