বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » এক পরিবারে চার চেয়ারম্যান তবুও সংস্কার নেই গ্রামের সড়কের


এক পরিবারে চার চেয়ারম্যান তবুও সংস্কার নেই গ্রামের সড়কের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.10.2020

ছবিঃ সরওয়ার নাঈম।

আবদুল্লাহ আল মারুফ।।
তিন ভাই ও তাদের বাবাসহ একই পরিবারের ৪ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একজন বর্তমান, আর দুই ভাই ও তাদের বাবা একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। কিন্তু তাদের নিজ গ্রামের সড়কটিই আজও কংক্রিটের ছোঁয়া পায়নি। ভাঙা রাস্তা দিয়েই বাবার পর তিন ছেলের চলাচল। এই সড়কে চলাচল করে ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষ। কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ২ কিলোমিটারের এই সড়কের নাম গ্রামের মানুষ রেখেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজুল হক সড়ক। এই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজুল হকের নামানুসারেই এ সড়কের নাম রাখা হয়।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. আউয়াল হোসেন জানান, আমাদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজুল হকের নামে আমরা সড়কটির নাম করেছি শহীদ সিরাজুল হক সড়ক। যাতে তাকে স্মরণ করে মানুষ। কিন্তু রাস্তার দুর্ভোগের কথা আর কী বলার! ১২ মাসই আমাদের এই ভাঙা রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। রাস্তাটা পাকা করলে আমাদের আশাপাশের গ্রামগুলো অনেক বড় ভোগান্তি থেকে বাঁচবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেদওয়ান আহমেদ শাওন জানান, সিঙ্গুরিয়া, বদরপুর, নোয়াপাড়াসহ পাঁচ গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করে। বর্ষায় বৃষ্টি হয়ে পানি উঠে যায় সড়কটিতে৷ দুর্ভোগ পোহাতে হয় ১২ মাসই। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতেও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর বর্ষায় কেউ মারা গেলে আমরা জানাজা দিতেও সমস্যা পোহাতে হয়।
বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে জানান, চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে ইউনিয়নের বহু মানুষ আমার বাড়িতে আসে। তারাও এ সড়ক নিয়ে সমালোচনা করে।
তিনি আরও জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমার বাবা হাজী আলী আজগর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তারপর আমার বড়ভাই ফজল হক ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন। তিনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় গ্রামের সড়কটির উন্নয়নের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তারপর আমার মেজ ভাই তাজুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হয়ে তিনিও চেষ্টা করেন সড়কটির সংস্কার কাজ করার জন্য। সেবারেও কোন কাজ হয়নি। তারপর ২০১৬ সালে আমি নির্বাচিত হই । ২০১৬ সাল থেকেই টেন্ডার হবে হবে বলে আর হয়নি। আমি জনগণের সেবক, কিন্তু আমার বাড়ির সড়কই আজও পাকা হয়নি।
এই বিষয়ে বরুড়া উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী ফুয়াদ হাসান জানান, এই সড়কের কোন আইডি নম্বর নেই। তবে আইডি নম্বরের জন্য আবেদন পাঠিয়েছি।
তিনি আরও জানান, যদি আইডি নম্বর চলে আসে আমি ব্যবস্থা নিতে পারবো। এর আগে এই বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেও নি। যদি ইউপি সদস্য আমাকে অবহিত করে, তবে তার জন্য কোন না কোন ব্যবস্থা করবোই।