বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » কুবিতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ২৬ জন কর্মচারী!


কুবিতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ২৬ জন কর্মচারী!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.10.2020

কর্মকর্তা পরিষদ নেতাদের অসন্তোষ

মহিউদ্দিন মাহি, কুবি ।।
উচ্চ মাধ্যমিক পাস দেখিয়ে চাকরি নিয়েছেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে। কিন্তু অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে পদোন্নতি নিয়ে হচ্ছেন প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা।
একই সুযোগে কর্মকর্তা হতে পারবেন মাধ্যমিক পাস করে চাকরি নেয়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও। মনগড়া নীতিমালা করে নিয়মবহির্ভূত এমন পদোন্নতির ঘটনাই ঘটছে কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ে
চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে আবেদনের জন্য ক্ষেত্রভেদে
ন্যূনতম স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস করতে হয়। কিন্তু প্রশাসনের আশীর্বাদে অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চাকরি নেওয়া অন্তত দু’ডজন কর্মচারী। বিষয়টিকে প্রশাসনের তামাশা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পাশের সনদপত্র দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির চাকরিতে
প্রবেশ করেন বর্তমানে কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া অন্তত ২৬ জন কর্মচারী। চাকরি চলাকালীন সময়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাশের সনদপত্র জমা দিয়ে কর্মকর্তা বনে যাচ্ছেন তারা। একই পদ্ধতি অবলম্বন করে মাধ্যমিক পাস করে চতুর্থ শ্রেণিতে চাকরি নেয়া কর্মচারীরাও হতে পারবেন কর্মকর্তা। যেখানে সর্বমোট তিনটি পদোন্নতি নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে তাদের চাকরি জীবন শেষ করার কথা। সেখানে নামে মাত্র সনদপত্র দেখিয়ে মনগড়া নীতিমালার আশীর্বাদে সহকারী রেজিস্ট্রার পর্যন্ত হতে পারবেন এ কর্মচারীরা।
বিশ^বিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পদোন্নতি পাওয়া এসব কর্মকর্তাদের অধিকাংশের ফলাফলই খুবই নিম্নমানের। অভিযোগ রয়েছে সনদপত্র এনে কর্মকর্তা হবেন এমন আশায় নিজের কাজকে ছোট কাজ বলে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের কথা শুনতেও নারাজ কর্মচারীরা।
অপরদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে আবেদন করেও চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যোগ্য প্রার্থীরা। এদিকে ৭১তম সিন্ডিকেটে সেকশন অফিসার পদে
আবেদন করা ১২ জনকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে আবেদনকৃত পদে না দিয়ে তাদের পদে ডিগ্রি পাসের সনদপত্র জমা দেয়া এমন অনেক
কর্মচারীদের পদোন্নতি দিয়ে সেকশন অফিসার বানানো হয়। ফলে যোগ্যতা অধিক হওয়ার পরও বঞ্চিত হন তারা। সেসময়ে নিয়োগ পাওয়া এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের হাইকোর্টে রিট করার কথা ছিল। কিন্তু করা হয়নি। এখন ভাবছি আমাদের অধিকার আদায় করতে তা করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আশরাফ ৫২ তম সিন্ডিকেটে নীতিমালা সংশোধনের নাম করে নিজের মন গড়া এমন সিদ্ধান্ত নেন। কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী কর্মচারীকে বিশেষ সুবিধা দিতে এমন লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানা যায়। যার নজির অনেক
বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়েও পাওয়া যায়নি। এদিকে বর্তমান উপাচার্য এমন বিধিমালা পরিবর্তন না করে উল্টো প্রথম শ্রেণির সেকশন অফিসার পদে আবেদনকারীদের দ্বিতীয়
শ্রেণিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন। আর সেই শূন্য পদে কর্মচারীদের পদোন্নতি দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
গুঞ্জন রয়েছে, এমন সুযোগ থাকায় ডিগ্রি পাসের সনদপত্র আনার হিড়িক পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মাঝে। এদিকে কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা হওয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতার
বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আমাদের উপরের পদে হলেও অনেক সময় তাদের কাজ আমাদের করে দিতে হয়। কারণ তারা অনেক কিছুই বুঝে না। এটা খুবই বিব্রতকর। এ নিয়ে কর্মকর্তা পরিষদের নেতাদের চরম মাত্রায় অসন্তোষ থাকলেও নির্বাচনে ভোট হারানোর ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ তারা।
কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি জিনাত আমান বলেন, এখানে অনার্স এবং ডিগ্রির একটা পার্থক্য রাখা দরকার ছিল যেটা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। তা আমরা করি নাই। কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছি কিন্তু এটা বন্ধ করতে পারি নাই।
নিয়মবহির্ভূত এ নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এই নীতিমালা আমার সময় করা হয় নাই। আমরা এটা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি
কমিশনে পাঠাবো। প্রয়োজন হলে সিন্ডিকেটে তুলে সঠিক ব্যবস্থা নিবো।