মঙ্গল্বার ২৪ নভেম্বর ২০২০


নগর জুড়ে তারের জঞ্জাল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
21.10.2020

অনুমোদন নিয়ে ব্যবহার করছি- ক্যাবল টিভি
কোন অনুমোদন ছাড়াই বৈদ্যুতিক খুঁটি ব্যবহার-পিডিবি
পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ-সনাক
সবাইকে নিয়ে আগামী সপ্তাহ বসবো-কুসিক মেয়র

রুবেল মজুমদার।।
কুমিল্লা নগরের অলিতে গলিতে বিদ্যুৎ খুঁটিতে তার আর তার। বছরের পর বছর ধরে জালের মতো জড়িয়ে রয়েছে এইসব অরক্ষিত তার। মোবাইল ফোন কোম্পানি, ডিসের লাইন, ইন্টারনেট লাইনসহ বিভিন্ন লাইন গিয়ে মিলেছে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে। এই তারের কারণে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন কাজ করতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কান্দিরপাড়, রানীবাজার, বিশ্বরোড, রেইসকোর্স, রাজগঞ্জ, পুলিশ লাইন, শাসনগাছা, বাদশা মিয়া বাজার, ধর্মপুর, চকবাজার, মদিনা বাস স্টেশন, ঝাউতলা, ধর্মসাগর রোড, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোড, দৌলতপুর, ফৌজদারি, বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় তারের জঞ্জাল।
ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ খুঁটি ব্যবহার করে দেদার চালিয়ে আসছে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন না নিয়ে ব্যবহার করছে বিদ্যুৎ খুঁটিগুলো। পিডিবির বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে এলোমেলো বৈদ্যতিক তার চাদরের মতো জড়িয়ে রেখেছে শহরের প্রাণ কেন্দ্র কান্দিরপাড় এলাকাকে। একই সাথে রয়েছে ক্যাবল নেটওয়ার্কের তারসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংযোগ। প্রতিটি খুঁটি ঘিরে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সংযোগ লাইন থাকার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। খুঁটির দিকে তাকালে কোনটি কোন লাইনের তা বোঝা মুশকিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা বলেন, যদিও তাদের লাইসেন্স দেওয়ার সময় বলা থাকে যে, সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব খুঁটি ব্যবহার করতে হবে। এ কথা তারা মেনে চলে না। লোকজনকে কাজ করতে এসে চরম বেগ পেতে হয়। এতে যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এই জটের কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়ে নগরীর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বাহার মার্কেটের এক কাপড় ব্যবসায়ী মামুন মিয়া অভিযোগ করেন, এমনিতে কান্দিরপাড় বৈদ্যুতিক ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি। তার উপর ক্যাবল ও ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা কারণে শহরে ফুটপাত ও মার্কেটগুলো সামনে তারের জটলায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নগরীরে রেইসকোর্সের বাসিন্দা সৌরভ মাহমুদ হারুন বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। যারা ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা প্রভাবশালী। অবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মের তোয়াক্কা না করে এইসব বিদ্যুৎ তারের সাথে যুক্ত করে এলাকায় পরিবেশ নষ্ট ও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, নগরে অপরিকল্পিত তারের জঞ্জালের কারণে ভবিষ্যতে বড় অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি শহরের পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহসায় সিটি করপোরেশন,জেলা পুলিশ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
কুমিল্লা ক্যাবল টিভি ও নেটওয়ার্কের পরিচালক আফজল হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে মৌখিক অনুমোদন নিয়ে আমরা বিদ্যুৎ খুঁটি ব্যবহার করছি। ইন্টারনেট ও সেবাদান প্রতিষ্ঠানগুলো এসব তারের জঞ্চাল সৃষ্টি করে থাকে। সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা পেলে অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।
কুমিল্লা পূর্বাঞ্চলের ডিস ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে বিদ্যুৎ খুঁটি ব্যবহারের জন্য অফিসের সঙ্গে কারও লিখিত চুক্তিপত্র নেই। এখানে আমাদের তার ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদেরও তার আছে। আপনারা তাদের সাথে যোগযোগ করেন।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার প্রধান প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমাদের খুঁটি ব্যবহার করলে বাৎসরিক ফির মাধ্যমে একটি চুক্তিপত্র করতে হয়, কিন্তু কুমিল্লায় কোন সংস্থা আমাদের সাথে চুক্তি করেনি। ক্যাবল নেটওয়ার্কের তার ব্যবহারে মৌখিক অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই জঞ্জাল মাঝে মধ্যে আমরা অপসারণ করি। অচিরেই এর অপসারণ করা হবে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের(কুসিক) মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, তারের জঞ্জাল অপসারণ নিয়ে আগামী সপ্তাহ আমরা ইন্টারনেট সেবা ও ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেতাদের সাথে নিয়ে মিটিংয়ে বসবো । শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় নাগরিকদের সেবার কথা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সিলেট করপোরেশনের আদলে মাটির নিচ দিয়ে কীভাবে তারগুলো নেওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।