রবিবার ১৭ জানুয়ারী ২০২১


ফেল করা প্রার্থীকে নিয়োগ: প্রশ্নবিদ্ধ কুবি ভিসি!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.10.2020

মহিউদ্দিন মাহি, কুবি।।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল করার পরও এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স¤প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন পদে বেশ কিছু কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। নিয়োগের পর হতেই নানা অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। একই সাথে প্রশ্ন উঠেছে কুবি ভিসির সততা নিয়েও। একজন প্রার্থী একটি পদে ফেল করার পরে তাকে অন্য একটি পদে নিয়োগ দেওয়া কোন ভাবেই স্বচ্ছতার পরিচয় বহন করে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থানীয় এক প্রভাবশালীর প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে এ লঙ্কাকান্ড ঘটিয়েছে। বিষয়টি ভিসি স্বীকার করলেও এক পদে ফেল করায় অন্য পদে দিয়েছেন বলে গোঁজামিল দিয়ে দায় এড়িয়ে যান। এদিকে নিয়োগে এতবড় অসঙ্গতির বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে নিয়োগ প্রত্যাশীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলাফলে উর্ত্তীণদের মৌখিক পরীক্ষা ১১ এবং ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১৮ অক্টোবর এই তিন পদে চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই এই নিয়োগের নানা অসংগতিনিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে ‘০৫’ রোল নম্বরধারী প্রার্থী নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে তাকে কৃতকার্য দেখিয়ে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্য আরেক সূত্র জানায়, শুধু একজন না এমন আরও চারজন ফেল করার পরও তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে তাকে যে পদে দেয়া হয়েছে সে পদে ওই প্রার্থী আবেদনই করেননি বলে জানা যায়।

এছাড়াও ফেল করার বিষয়টি ভিসি স্বীকার করলেও প্রকাশিত ফলাফলের তালিকায় তাকে পাস দেখানো হয়েছে। পাস করা প্রার্থী থাকার পরও ফেল করা প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ায় অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কর্মচারী নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষায় ফেল করার পরও প্রার্থীকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদানের ঘটনায় সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে। এ নিয়োগ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করে যেসব প্রার্থীকে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, এ কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ ক্ষুণœ হয়েছে, এটি একটি গর্হিত অপরাধ। এ অসঙ্গতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর মানুষ আস্থা হারাবে। যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। এছাড়াও এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের।

তাদের দাবি, বেশ কয়েকজন কর্মচারী যথাযথ অনুমোদন নিয়ে এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করে ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করে। কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষায় অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের বাদ দেয়া হয়। আর যে কয়েকজনকে দেয়া হয় তাদের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ না করে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করে জ্যেষ্ঠ প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও ফলাফলে পাস দেখিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, যেহেতু আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত না তাই এ বিষয়ে আমার কথা না বলাই ভাল।
তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ফেল করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই প্রার্থী অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার টাইপিস্টের ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করায় কম্পিউটার টাইপিস্টের যোগ্যতা নেই বলে তাকে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ আপগ্রেডেড যে পদ ওটাও স্থায়ী এবং একই পদ। যদি শূন্যপদে
অভ্যন্তরীণ লোকদের নিয়োগ দেই তাহলে নতুন লোক নিয়োগ দিতে পারতাম না।