সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০


লক্ষ্মীপূজা ৩০ ও ৩১ অক্টোবর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.10.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।

লক্ষ্মীপূজা ৩০ ও ৩১ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, লক্ষ্মী হলেন ধন সম্পদের দেবী। ধন সম্পদের আশায় এবং সংসারের মঙ্গল কামানায় বাঙালি হিন্দুদের ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা হয়ে থাকে। অনেকেই সারা বছর প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী পূজা করে থাকেন। লক্ষণীয় বিষয় হল খরিফ শস্য ও রবি শস্য ঠিক যে সময় হয় ঠিক সেই সময় বাঙালি হিন্দু মেতে ওঠে লক্ষ্মীর আরাধনায়। তবে পূজার উপাচারে পরিবর্তন হয় মাস ভেদে। ধান, চাল, অন্ন, খাদ্য শস্য হলো লক্ষ্মী দেবীর প্রতীক। তাই যারা খাদ্য অপচয় করেন, তাঁদের ওপর দেবী লক্ষ্মী কখনোই তুষ্ট হন না বলে মনে করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ধানখেতের আশেপাশে ইঁদুর বা মূষিকের বাস এবং এরা ধানের ক্ষতি করে থাকে। পেঁচক বা পেঁচার আহার হল এই ইঁদুর। প্রচীন রীতু অনুসারে গোলাঘরকে লক্ষ্মীর প্রতীক বলা হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হিন্দু বাঙালিদের একটি বার্ষিক জনপ্রিয় উৎসব। নারী ও পুরুষ সকলেই এই পূজায় অংশগ্রহণ করে থাকে। এই দিন সকলে সন্ধ্যায় নতুন কাপড় পরে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে। মহিলারা লক্ষ্মীর পাঁচালী পরে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা করে এবং সারারাত জেগে লক্ষ্মীদেবীর পুজো করে থাকে।
এদিকে, লক্ষ্মী দেবীকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তুলে রাতদিন ব্যস্ততম সময় পার করছেন কুমিল্লা ঠাকুরপাড়া বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন কালীগাছতলা কালী বেদী ও শিব মন্দির প্রাঙ্গণে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর থেকে আগত ষোলঘর গ্রামের মৃত নারায়ণ চন্দ্র রুদ্রপালের বড় ছেলে রমেশ পাল ও শংকর পালসহ বিভিন্ন জেলা হতে আগত মৃৎশিল্পীরা। শিল্পীদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় খড়, মাটি, পাট আর কাঁদায় তৈরি প্রতিমা ওঠে দাঁড়াতে শুরু করেছে। শুধু বাকি পরিপাটি করে সাজানোর কাজটুকু।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাবেক প্রচার সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন- করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিস্তাররোধে লক্ষ্মীপূজায়ও থাকবে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি। পূজারী, পুরোহিত, দর্শনার্থীকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে এবং প্রত্যেককে অন্তত: তিনফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তা- ছাড়াও লক্ষ্মীপূজায় পটকা কিংবা আতশবাজি ফাটানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি মাইক কিংবা পিএ সেট বাজানো যাবে না। ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্যকোন সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে পূজার অংশ হিসেবে ঢাক-ঢোল, কাঁসা বাজানো যাবে।