শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কোভিডের থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী আশুগঞ্জ লালপুরের শুঁটকি পল্লি


কোভিডের থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী আশুগঞ্জ লালপুরের শুঁটকি পল্লি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.11.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের শুঁটকি পল্লি দেশের কয়েকটি শুঁটকি পল্লির মধ্যে অন্যতম।
প্রতি বছর শতবছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এ পল্লি থেকে শতাধিক কোটি টাকার শুঁটকি বাজারজাত করা হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বছরের মার্চ মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার লালপুর গ্রামের শুঁটকি পল্লিতে কাজ চলে পুরোদমে। করোনাভাইরাসের কারণে এবছর শুঁটকি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা মহামারিতে অবিক্রিত থাকা শুঁটকি নষ্ট হয়ে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এর ফলে পুঁজি সংকটে নতুন মৌসুমের জন্য শুঁটকি তৈরি করতে মাছ কিনতে পারছেন না তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শতবছর ধরে লালপুর গ্রামের পল্লিতে শুঁটকি তৈরি করে আসছেন স্থানীয়রা। গ্রামের তীরবর্তী মেঘনা নদীর পূর্বপাড়ে ছোট-ছোট মাঁচায় শুকানো হয় এসব শুঁটকি। গুণগত মান বজায় থাকায় এখানকার শুঁটকির কদর সবখানে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাতকরণের পাশাপাশি ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয় লালপুরের শুঁটকি। মূলত দেশিয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের শুঁটকি তৈরি হয় লালপুর শুঁটকি পল্লিতে। এর মধ্যে পুঁটি, শৈল, টাকি, ট্যাংরা ও বাইম অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ কিনে এনেও শুঁটকি তৈরি করা হয় এখানে।
বর্তমানে আকার ভেদে প্রতি কেজি শৈল শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত। টাকি শুঁটকি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা, বাইম শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা আর ট্যাংরা শুঁটকি প্রতি কেজির দর ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে লালপুর শুঁটকি পল্লির কয়েকশ পরিবার শুঁটকি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে কেউ মাছ কিনে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেন, কেউবা মাছ প্রক্রিয়াজাত করে শুঁটকি উৎপাদনের কাজ করেন। আর এ পল্লিতে ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে ব্যবসায়ী আছেন তিন শতাধিক পরিবার। শুঁটকি ব্যবসায়ী নিদন পাল ও হোসেন মিয়া জানান, অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শুঁটকি ব্যবসার মৌসুম ধরা হয়। বছরের এই সময়টাতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায় বাজারে। আর এসব মাছ সংগ্রহ করেই চলে শুঁটকি তৈরির কাজ। তৈরিকৃত শুঁটকির মধ্যে কিছু শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করে রাখা হয় বছরের বাকি ছয়মাস বাজারজাতকরণের জন্য। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে অধিকাংশ শুঁটকি বাজারজাত করা যায়নি। দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থাকার কারণে বেশিরভাগ শুঁটকি নষ্ট হয়ে গেছে। আরেক শুঁটকি ব্যবসায়ী সুকমল দাস বলেন, করোনাভাইরাসের আগে স্টক করা বেশিরভাগ শুঁটকি এখন পড়ে আছে। পাইকাররা শুঁটকি পল্লিতে আসছেন না শুঁটকি নিতে। স্টকে এখনও ১০-১২ লাখ টাকার শুঁটকি আছে। এই শুঁটকিগুলো ৩-৪ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হবে। তিনি বলেন, এখন হাতে টাকা নেই। সেজন্য নতুন মাছ কিনতে পারছি না। আমাদের এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যাংকার্স ফোরামের সভাপতি ইকবাল হোসেন ভূইয়া বলেন, করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য চার শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।