শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০


মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে ভেঙে পড়ছে গ্রাম


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.11.2020

স্টাফ রিপোর্টার।।কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রসাদেরচর এলাকায় মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীতে ভেঙে পড়ার আশংকায় এলাকাবাসী। গত ২১ অক্টোবর বালু মহাল বন্ধের দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নিকট ওই এলাকার অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক ভাবে রামপ্রসাদের চর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য মেঘনা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এছাড়াও একই প্রসঙ্গে ৪ অক্টোবর রামপ্রসাদের চরের মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া, ইমাম হোসেন ও মাইনুদ্দিন মেম্বারের নেতৃত্বে শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ মেঘনা উপজেলা সহকারী কমিশনারের নিকট দাখিল করেন। তাদের পৃথক দুটি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মেঘনায় বৈধ দুটি বালু মহাল রয়েছে, মেসার্স নার্গিস ট্রেডার্স ও ভূঁইয়া ট্রেডার্সের নামে। তবে মেসার্স নার্গিস ট্রেডার্স তাদের নির্ধারিত দুটি মৌজায় বালু উত্তোলন করলেও মেসার্স ভূঁইয়া টেডার্স তাদের নির্ধারিত স্থানে বালু উত্তোলন না করে রামপ্রসাদের চর এলাকায় বালু উত্তোলন করায় গ্রামটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রামপ্রসাদের চর গ্রামের প্রবীণ আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি নিজের জন্মস্থান, মা মাটি রক্ষায় এ পর্যন্ত বহু জাতীয় পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় ও বই আকারে পুস্তিকা প্রকাশ করেছি এবং গত ২১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নিকট সাক্ষাত করে বলেছি আমাদের গ্রামে কোনো সরকারি বালু মহাল নেই, তারপরও নলচর গ্রামের হুমায়ূন,সানাউল্লাহর নেতৃত্বে কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় স্থানীয় চালিভাঙ্গা ইউনিয়নর বেশ কিছু ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল, বসত ঘর বাড়ি ইতিমধ্যে নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। ২১ অক্টোবরের কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নির্দেশের আলোকে ৩১ অক্টোবর মেঘনা উপজেলার সহকারী ভূমি ও মেঘনা থানা অফিসার ইনচার্জ এবং উপজেলা সার্ভেয়ার রামপ্রসাদের চর এলাকায় পরিদর্শন করে, তারা তাৎক্ষণিক রামপ্রসাদের চর এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য মেসার্স ভূঁইয়া ট্রেডার্সকে নির্দেনা দেন। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা না মেনে তারা পুনরায় রামপ্রসাদের চর এলাকায় বালু উত্তোলন করলে ১ নভেম্বর রবিবার এ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মেঘনা থানা অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এ বিষয়ে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ সরকার বলেন, ভূঁইয়া ট্রেডার্স তাদের নির্ধারিত স্থানে বালু উত্তোলন না করে যে এলাকায় তাদের ইজারা নেই,সেই এলাকায় এসে জোরপূর্বক,অন্যায়ভাবে বালু উত্তোলন করার প্রতিবাদে এলাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আশকর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন।
মেঘনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রবীর কুমার রায় বলেন, ইজারা স্থানের ব্যাতীত অন্য স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করায় ভূঁইয়া ট্রেডার্সকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। মেসার্স নার্গিস টেড্রার্সের প্রোপ্রাইটার নুরুল আমিন বলেছেন, ভূঁইয়া ট্রেডার্স অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় মেঘনা নৌ-পুলিশ তাদের লাইসেন্সর মালিক আফছার উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ভূঁইয়া ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটার আফছার উদ্দিন ভূঁইয়ার বক্তব্য না পেলেও তার পক্ষে সানাউল্লাহ বলেন, আমরা সরকারি ভাবে ডাক নিয়ে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করছি, আমরা কারো এলাকায় গিয়ে বালু উত্তোলন করছি না।