বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০


দেবিদ্বারে বিদ্যালয়ের ফটকে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.11.2020

আবদুর রহমান।।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি দলখ করে ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণ করেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। আর ওই চেয়াম্যানের অবৈধ কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলার মোহাম্মদপুর এ আর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে। অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যানের নাম সিরাজুল ইসলাম সরকার। তিনি উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।
এদিকে, এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে খাস সম্পত্তি দলখকারী ওই চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ‘এটা তার ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়, নেতাকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে পার্টি অফিস করা হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকার এলাহাবাদ ইউনিয়নের মগপুস্কুরীণী মৌজার মোহাম্মদপুর বাজারে খাস জমি দখলের পর ব্যক্তিগত কার্যালয় স্থাপন করেছেন। তিনি মোহাম্মদপুর এ আর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের পাশেই ওই জায়গা দখল করে কার্যালয় নির্মাণ করেন। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম ঘটছে। ওই কার্যালয়ে বসে নিয়মিত এলাকার সালিশি বৈঠক করছেন তিনি। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর এ আর উচ্চ বিদ্যালয়টি অর্ধশত বছরের পুরোনো। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের ফটকের খাস জায়গা দখল করে কার্যালয় নির্মাণে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের ফটকে এমন দখলের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকার দলীয় প্রভাবশালী এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বির্তকিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে সরকারি জায়গা দখল না করতে ওই চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দিলেও তিনি কাউকেই পাত্তা দেননি। এছাড়া স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকজনও রহস্যজনক কারণে এ ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন, এখানে আগে বাজার ছিলো। ১৯৮৮ সালে ওই বাজার ভেঙে ফেলা হয়। আর যেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, এখানে আগেও আমার ভাইয়ের একটি পরিত্যক্ত দোকান ঘর ছিলো। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে দলীয় অফিস করা হয়েছে। মূল কথা হলো এটা আমার ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়, পার্টি অফিস।
তবে স্থানীয় এলাহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, সিরাজুল ইসলাম সরকার দলের মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অবৈধভাবে স্কুলের ফটকের সরকারি জায়গা দখল করে দলীয় কার্যালয় নয়, তার ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণ করেছেন। এতে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা কৃষকলীগের সদস্য সচিব মো.সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সিরাজুল ইসলাম চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে খুব একটা যান না। আগে তিনি বাজারের বিভিন্ন দোকান বসে সালিশি বৈঠক করতেন। এখন স্কুলের ফটকের সামনের খাস জায়গা দখল করেছেন। সেখানে ব্যক্তিগত কার্যালয় বানিয়ে এখন নিয়মিত সাালিশ-দরবার করছেন। এখন আবার ব্যক্তিগত কার্যালয়কে দলীয় কার্যালয় বানানোর চেষ্টা করছেন নিজেকে রক্ষার জন্য।
উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো.ইউনুছ বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব খাসের জায়গা দখল করে একটি ঘর নির্মাণ করেছে বলে আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে আমি কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করবো? এছাড়া ওই বাজারে অনেকেই এমনভাবে সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে। আমি তো ইচ্ছা করলে এককভাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না, আমি ব্যবস্থা নিলে সকলের বিরুদ্ধেই নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহিদা আক্তার বলেন, সরকারি জায়গা দখলকারী যে-ই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমি রোববার এ বিষয়ে খোঁজ পেয়ে চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিয়েছি জায়গা খালি করার জন্য। এরপরও তিনি সরে না গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।