বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০


আবদুল মান্নান: একজন জেলা জজ ও মুক্ত বিহঙ্গ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.11.2020

শাহাজাদা এমরান।।
বিচারকরা সাধারণত নিভৃতচারী। লোকসমাগম এড়িয়ে চলেন, থাকেন রাশভারী। সাধারণ্যে তাদের খুঁজে পাওয়া দায়। তারাও যে অন্য দশটা লোকের ন্যায় এই সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এটা নিজেরাও ভুলে যান। আমাদের দেশে এমন চিত্র জনগণ দেখে আসছে এবং এটা দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু এই অলিখিত ও প্রচলিত নিয়ম ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বর্তমানে আমাদের বিচার ব্যবস্থায় এমন একজন ব্যক্তিকে এই সমাজ খুঁজে পেয়েছে, যিনি নিজ ব্যক্তিত্ব দিয়ে এক অনন্য বিচারক হিসেবে নিজকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি হলেন মো.আবদুল মান্নান। কুড়িগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ। গত ২২ মার্চ ২০২০ তিনি পিরোজপুর থেকে কুড়িগ্রামে বদলি হয়ে আসেন। একজন বিচারক হয়েও কীভাবে সাধারণ মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন তিনি এবং কীভাবে চাকরির বিধিবিধান পরিপূর্ণ করে সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবা পরিমণ্ডলে নিজকে মেলে ধরছেন মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় তা জানতে এবং দেশবাসীকে জানাতেই এই প্রতিবেদক কথা বলেন তার সাথে।
মো.আবদুল মান্নান। পিতা আজিম উদ্দিন বিশ্বাস এবং মাতা আমেনা খাতুন। দুই জনেই আজ জান্নাতবাসী। ১৯৬৮ সালের ৮ এপ্রিল তিনি দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খাস রানীনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতামাতার ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। খাসরানী নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে শৈলকূপা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৫ সালে ঝিনাইদহ সরকারি কে সি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি অনার্স ও ১৯৯০ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে বরাবরই মেধাবী এবং ডিসিপ্লিন মেনে চলা একজন আদর্শ ছাত্র হিসেবে শিক্ষকদের কাছে প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাসদ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তৎকালীন ঝিনাইদহ জেলা জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর হাত ধরে তিনি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক অধিকারগুলো প্রশাসন থেকে আদায় করার মানসে ছাত্ররাজনীতিতে নিজকে নিয়োজিত করেন। পরবর্তী পর্যায়ে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করার জন্য লায়ন্স ক্লাব অব বৃহত্তর যশোর ক্লাবের যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছেন। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স বাংলাদেশের এপেক্স ক্লাব অব বগুড়ার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেবা, সৌহার্দ্য ও সুনাগরিক-এই তিনটি মোটোকে ধারণ ও লালন করে নিবেদিতভাবে মানুষের কল্যাণে এপেক্স অঙ্গনে নিজকে নিয়োজিত রেখেছেন।
১৯৯২ সাল থেকেই তিনি ঢাকা জজকোর্টে আসা যাওয়া শুরু করেন। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা কোর্টে আইনজীবী হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হন। সে সময় তাঁর সিনিয়র ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম আর হাইকোর্টে সিনিয়র ছিলেন কুমিল্লার কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। স্বাধীনচেতা জীবনের অধিকারী মো. আবদুল মান্নান বিসিএস কিংবা পরবর্তীতে চাকরিতে যোগ দিতে চাননি। কিন্তু পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের চাপে একবারে শেষ দিনে বিসিএস পরীক্ষার ফরম জমা দেন। ১৩তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাট উপজেলার সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক জীবনে প্রবেশ করেন। ২০১৬ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল বগুড়ার আদালতে জেলা জজ হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি পিরোজপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদেন। পরবর্তী পর্যায়ে ২০২০ সালের ২২ মার্চ কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ,যোগ্যতা , অভিজ্ঞতা,সততা ও সাহসিকতা দিয়ে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন।
মো.আবদুল মান্নান। নানামুখী গুণের অধিকারী। তিনি পেশাগত জীবনে একজন বিচারক। যতক্ষণ তিনি বিচারিক চেয়ারে থাকেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি আপাদমস্তক একজন বিচারক। নিজের বিবেক ও দেশের সংবিধান তার একমাত্র রক্ষাকবচ। তিনি যত বড়ই হোন না কেন এবং যে কোন পর্যায়ের ক্ষমতাসীন হোন না কেন তিনি কোনদিন রাগ,অনুরাগ কিংবা আদেশ, নির্দেশ এবং অনুরাধের বশবর্তী হয়ে কোন বিচারকার্য করেন না বলে জানিয়েছেন। তার সাফ কথা , আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে নিম্ন আদালত নিয়ে বরাবরই কিছুটা প্রশ্ন থেকে যায়। কিন্তু আমি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি , এমনকি আমার চরম শত্রুরাও একথা নির্দ্বিধায় বলবে যে, আমি আজ পর্যন্ত কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। আমি কোন তদবির শুনি না। এ জন্য আমাকে যে কিছুটা মূল্য দিতে হয়নি, তা নয়। তারপরেও আমি ন্যায় বিচারে সব সময় আপোষহীন থেকেছি। ফলে আমি দেশের যে কোন স্থানেই চাকরি করেছি, প্রথম অবস্থায় সেই সকল জেলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আমাকে পছন্দ করতেন না। স্বাভাবিক কারণেই তারা তো দীর্ঘদিন ধরে একটি সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে এই পর্যন্ত এসেছে। কিন্তু একটা পর্যায়ে যখন দেখছেন, আমি কোন অন্যায় সুপারিশ বা আবদার রাখিনি এটা যেমন সত্য, ঠিক তেমনি এটাও বিবেচ্য বিষয় যে, আমার দ্বারা নীতির মধ্যে থেকে তাদের যে সহযোগিতাটুকু করা দরকার সেটা করতে কখনো আমি কৃপণতা করি না বা তাদের অযথা হয়রানি করি না । তখন তারা আবার আমার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠছে।
জেলা জজ মো.আবদুল মান্নানের সবচেয়ে বড়গুণ হলো তিনি প্রচণ্ড অতিথিপরায়ণ মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন মানুষ। এটা তিনি তার মমতাময়ী মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন বলে জানিেেয়ছেন। তার বাংলোতে কোন স্বজন,পরিচিত বন্ধু বান্ধব কিংবা সংগঠনের কোন লোকজন গিয়েছে আর না খেয়ে আসছে এমন ঘটনা খুব বিরল। বাংলোতে একাধিক সেবাদানকারী লোক থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজ হাতে অতিথিদের খাওয়াতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ভুলেই যান তিনি একজন উচ্চপদস্থ বিশেষ শ্রেণির প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তার অমায়িক ব্যবহার,সংবেদনশীল মন সহজেই যে কাউকে আপন করে নেয়। আইনের ছাত্র হলেও রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগসহ এমন কোন শাখা নেই যেখানে তার বিচরণ নেই। প্রচুর বই পড়েন এবং সকল বিষয়েই তিনি জ্ঞানগর্ব কথা বলাতে পারদর্শী। তার বহুবিধ জ্ঞানের পাণ্ডিত্য কাছে না গিয়ে কথা না বললে বুঝা অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে। তিনি কোন সংগীত শিল্পী নন। কিন্তু সংগীতের নানাবিধ ধারা উপধারায় তার রয়েছে সাবলিল বিচরণ অসংখ্য ধারার গান তিনি গাইতে পারেন, গলাও বেশ ভাল। তবে রবীন্দ্রসংগীত তার বেশ প্রিয় বলে তিনি জানান।
আত্মনির্ভরশীল মনোভাব থাকার কারণে তিনি নিজের কাজ নিজেই করতে পছন্দ করেন। তার জামা কাপড় পরিষ্কার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাজগুলো নিজেই সম্পন্ন করেন। এজন্য কাউকেই তিনি এ কাজে সম্পৃক্ত করেন না। গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যা করা তার অন্যতম একটি শখ। স্বাস্থ্যের প্রতি বেশ সচেতন তিনি। গত চৌদ্দ বছর ধরে রাতে শর্করা জাতীয় কোন খাবার খান না। শুধু ফল খেয়েই ডিনারের কাজ সেরে ফেলেন। প্রতিদিন অফিস থেকে এসে এক ঘণ্টা হাঁটা তার অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের সাথে সুযোগ পেলেই চলে আড্ডা।
আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স ক্লাবস অব বাংলাদেশের তিনি বগুড়া এপেক্স ক্লাবের ফ্লোর মেম্বার। তিনি এপেক্স বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রির্সোস পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রমিত উচ্চারণ , কথা বলার ঢং এবং রঙে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের কাছে সহজেই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন। একজন জেলা ও দায়রা জজ হওয়ার পরেও আর্তমানবতার সেবায় এপেক্সের মাধ্যমে তিনি সারা দেশ চষে বেড়ান। শুধু এপেক্স আন্দোলনেই নয়, যেকোন সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে যথাযথভাবে ডাক পেলেই ছুটে যান তিনি। তাঁর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সময়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা। সময়ের সঠিক মর্যাদা দেয়ার মধ্যে দিয়েই তিনি বিনির্মাণ করতে চান অবক্ষয় এবং অপসংস্কৃতিমুক্ত একটি যুক্তিবাদী সোনার বাংলাদেশের।
জেলা ও দায়রা জজের মত প্রজাতন্ত্রের একজন উচ্চ পর্যায়ের পেশাজীবী হয়েও আপনি কিভাবে সামাজিক বিভিন্ন কাজে নিজকে সম্পৃক্ত রেখেছেন জানতে চাইলে মো.আব্দুল মান্নান বলেন, দেখুন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে নিজকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। কখনো সরকারি চাকরি করব ভাবিনি। আইনের বিষয় নিয়েছি স্বাধীন পেশা হিসেবে আইনজীবী হওয়ার জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি খণ্ডকালীন সময়ে ইউএনডিপিতে চুক্তিভিত্তিক জব করতাম, যাতে বাড়ি থেকে টাকা এনে পড়াশোনা না করতে হয়। এই ইউএনডিপিতে চাকরি করেই মূলত আমি আত্মনির্ভরশীল হতে শিখেছি। আর আপনি যদি আমার পেশাগত বিষয়ে বলেন তবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের বিচারকদের নিয়োগবিধিতে কোথায়ও লেখা নেই যে, আমি সামাজিক কাজ করতে পারব না। আমি মানুষের কল্যাণে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারব না। আমি ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা’র কাছ থেকে শিখেছি, মানবসেবা থেকে বড় কোন পুণ্যের কাজ এই পৃথিবীতে আর নেই। আর এই সেবাটি এককভাবে কখনো পূর্ণতা পায় না। দরকার সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। সুতরাং আমি আমার চাকরিজীবনে যখন যেখানেই সুযোগ পেয়েছি সেখানকার সামাজিক সংগঠনগুলোর সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কথা যদি বলেন, তাহলে বলব, কোন জাতি কতটা সভ্য তা নির্ভর করে সে জাতির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ওপর। অতএব আপনাকে সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত হতে হবে এবং উন্নত করতে হবে।
আমি আমার দীর্ঘ বিচারিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যে এলাকার মানুষজন সামাজিক সাংস্কৃতিক দিক থেকে অগ্রসর সে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক ভাল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল হলেই অপরাধ প্রবণতা কমবে,মামলার সংখ্যা কমে আসবে।
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে আজ ১৪ বছর হতে চলল, কিন্তু এখনো মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমেনি বরং ক্ষেত্র বিশেষ বেড়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো.আবদুল মান্নান বলেন, গত চৌদ্দ বছরে লোক সংখ্যাও বেড়েছে আবার মামলাও বেড়েছে। তবে এটা ঠিক,আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি মামলার জট কমানোর জন্য। কিন্তু মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা খুবই কম। বিচারক না বাড়ালে মামলা কমবে কীভাবে। আবার আদালতে অবকাঠামোগত সমস্যাও একটি বড় সমস্যা। তার ওপর রয়েছে বিচারপ্রার্থী মানুষের অনগ্রসরতা। সবকিছু মিলেই মামলার জট বাড়ছে। তবে আমরাও চেষ্টা করছি সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে কীভাবে মামলার জট কমানো যায়।
এ পর্যন্ত আপনার বিচারিক জীবনে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা কোনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবচেয়ে কষ্ট লাগে যখন চেষ্টা করেও কোন সংসার টিকাতে পারি না। বিশেষ করে এমন অনেক পরিবার কোর্টে আসে যাদের একাধিক বাচ্চা রয়েছে। আবার দুধের শিশু নিয়েও স্বামী-স্ত্রী কোর্টে আসে। যখন সমস্ত চেষ্টা করেও সংসারটি টিকাতে পারি না, বাধ্য হয়ে ডির্ভোসের সিদ্ধান্ত দিতে হয় তখন খুব কষ্ট লাগে। বেদনায় মনটা নীল হয়ে ওঠে।
একজন জেলা ও দায়রা জজ হয়েও আপনি যেভাবে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে যাচ্ছেন, নিজেও অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন এবং গান গেয়ে সবাইকে বিনোদন দিচ্ছেন এতে আপনার চাকরিগত কোন সমস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে মো.আবদুল মান্নান বলেন, সব কিছু নির্ভর করবে আপনার নিয়তের ওপর। আপনি কোন নিয়তে কোন কাজটি করছেন, এটাই হলো সব চেয়ে বড় কথা। আমি সরকার তথা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য রেখে শতভাগ সততার সাথে দায়িত্ব পালন করি। আর মনের সুখের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কাজ করছি। সংগীত পরিবেশন করে যে শুধু আমি অন্যদের বিনোদন দিচ্ছি তা-ই না,আমি নিজেও কিন্তু বিনোদন পাচ্ছি। মনে রাখবেন,সংগীত আপনার মনের পশুত্বকে নষ্ট করে প্রফুল্ল থাকতে প্রেরণা যোগায়।
লেখাটি শেষ করার আগে একটি কথা বলতে চাই, আসলে আইন মানুষের জন্য। মানুষের জন্য আইন না। সুতরাং ইচ্ছে করলে মনের শক্তি থাকলে নিজের মধ্যে সততা থাকলে নিজের পেশার বাইরেও সমাজের জন্য অনেক কিছু করা যায় কুড়িগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো.আবদুল মান্নান তার জ¦লন্ত উদাহরণ। এই দেশে মো.আবদুল মান্নান সাহেবের মতো আরো অনেক বিচারক সৃষ্টি হোক। যারা কাজ করবে মানবতার কল্যাণে। সার্বিকভাবে অবদান রাখবে দেশের উন্নতি আর সমৃদ্ধিতে।
লেখক : সাংবাদিক,সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ।মোবাাইল ফোন :০১৭১১-৩৮৮৩০৮। ংধযধলধফধধসৎধহ@ুধযড়ড়.পড়স