শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০


দু’শতাধিক কবর খোড়া আনোয়ারের একটা ঘর নেই


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.11.2020

মাহফুজ নান্টু||

স্বাধীনতার আগে জন্ম। দিন তারিখ খেয়াল নেই। শুধু বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ছোট ছিলেন। নগরীর ছোটরা এলাকার আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন। ছোটরা বা আশেপাশের এলাকায় কেউ মারা গেলে ডাক পড়ে কবর খোড়ার জন্য। কখনো কখনো ডাকতে হয় না। নিজেই এগিয়ে যান। কবর খুড়ে দেন। কৈশোর বয়স থেকে কবর খুড়ছেন। এখন পর্যন্ত দু শতাধিক কবর খুড়েছেন। এত মানুষের কবর খোড়া লোকটার কোন ঘর নেই। তিরপল দিয়ে ঘেরা একটি ছাপড়া ঘরে থাকেন। রোদ বৃষ্টি ঝড়ে কষ্ট পান। তবুও কেউ এগিয়ে আসেনা। একটা ঘর বানিয়ে দেয় না।

কথা হয় আনোয়ার হোসেনের সাথে। তিনি জানান, তার ৪ মেয়ে ২ ছেলে। বড় ও মেঝো মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। দুই মেয়ে এখনো বিয়ের বাকি। এক ছেলে অটোরিকশা চালায়। আরেক ছেলে ইপিজেডে চাকরী করে।

আনোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত অন্তত দু’শ লাশের কবর খুড়েছেন। বিনিময়ে হয়তো খাবার জুটেছে। এর বেশী কিছু না। ছেলে মেয়েরা কোন রকম দুটি ঘর ভাড়া করে থাকেন। তাদের সাথে অবিবাহিত দু বোন থাকেন। তবে জায়গার সংকুলান হয় না বলে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী খোলা আকাশের নীচে একটি ছাপড়া নীচে থাকেন।

আক্ষেপ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীনদের ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমাকেও যদি একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতেন। ছোট্ট একটা ঘর। আমার আমার স্ত্রীকে নিয়ে থাকতাম।

কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড.সৈয়দ নুরুর রহমান বলেন, আনোয়ার আমার প্রতিবেশী। কবর খুড়েই চলে তার জীবন। তার থাকার ঘরটা ভেঙ্গে গেছে। নতুন করে ঘর তুলবেন সে সামর্থ্য নেই। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আনোয়ারের সহযোগিতা করছি। মানুষের জন্য কাজ করা আনোয়ারের জন্য যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসে তাহলে বাকি জীবনটা হয়তো আর রোদে পুড়ে বৃষ্টি ভিজে কাটাতে হবে না।