বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০


করোনাকাল : করোনা ভাইরাস-ডা.মুজিবুর রহমান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.11.2020

অতিথি কলাম

টাকা ,টাচস্ক্রীন মোবাইলের উপরিভাগ,কাঁচ ,বাস বা টেক্সির হাতলে ২৮ দিন বেঁচে থাকতে পারে করোনা ভাইরাস ।অস্ট্রলিয়ার বায়োসিকিউরিটি ল্যাবরেটরির গবেষণায় সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে ।অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিপেয়ার্ডনেসের বিজ্ঞানীরা বলছেন,কোভিড ভাইরাস মারাত্মক শক্তিশালী ।মসৃন তলদেশ(সারফেস) যেমন কাঁচ কিংবামোবাইল স্ক্রিন অথবা প্লস্টিক কিংবা কাগজের টাকায় ঘরের তাপমাত্রায়(২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ২৮ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে এই ভাইরাস ।
ভাইরোলজী জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে,কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে বেশি এই ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে না ।শীতকালে এই ভাইরাসের প্রকোপ আরো বেশি বেড়ে যাওয়ার কথা বলছে এই গবেষণা এবং যার লক্ষণ আমরা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী লক্ষ করতে পারছি ।তবে পুরো গবেষণাই অন্ধকারে করা হয়েছে যাতে অতিবেগুণি রশ্মির কোনও প্রভাব না থাকে ।সরাসরি সূর্যালোক ভাইরাসকে দ্রুত নিস্ক্রিয় করে দিচ্ছে ,এমনও জানিয়েছেন গবেষকরা ।
বিজ্ঞানীদের দাবী,তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে এই ভাইরাস ।মহামারি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও এসেছে তাঁদের গবেষণায় ।গবেষণা বলছে,সারফেসে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতার স্থায়িত্ব যা মনে করা হচ্ছিল ,তার চেয়ে আরও বেশি ।তাই বার বার হাত ধোয়া এবং সারফেস স্যানিটাইজের বিষয়টি মাথায় রাখতেই হবে ।
করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে এলে কফ কাশি ,কথা বলা ,গান গাওয়া এবং শ্বাসের মাধ্যমেও অপর ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে ।পৃষ্ঠতলে ভাইরাস কণা আটকে বসলে সারফেসেও টিকে থাকতে পারে তা ।ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ফোমাইটের ভূমিকা রয়েছে ,একথাও উলে¬খ করা হয়েছে এই গবেষণায় ।
এদিকে গত আগস্টে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি পরীক্ষা করেছেন ।একাধিক সারফেসের(কাঁচ ,কাঠ ,কাপড় ,মোবাইলের স্ক্রিন )উপর এই পরীক্ষা করা হয় ।সেটি বলছে, তুলনামূলক ঠান্ডা ,কম আর্দ্র আবহাওয়ায় পাঁচ থেকে সাত গুণ বেশি সময় টিকে থাকতে পারে এই ভাইরাস ।
নন পোরাস সারফেস বা মসৃন তলদেশে(কাঁচ,টাচ স্ক্রিন) ভাইরাস বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে ।কাপড়(পোরাস সারফেস)এ ভাইরাস তুলনামূলক কম সময় বাঁচে ।কৃত্রিম মিউকাস নানা সারফেসে বসিয়ে করোনা ভাইরাস সেখানে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তা দেখা হয়েছে ।সেই গবেষণার ফল দেখে চিন্তায় পঙেছেন গবেষকরা ।যদিও সারফেস থেকে সংক্রমণের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হলেও সংক্রমণ ছড়াতে কতটা ভাইরাস প্রয়োজন তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন এখনও ।
মোবাইল ফোন ,ব্যাংক ,এটিএম,বিমানবন্দরের চেকইন ,শপিং মল, বাজার এবং দোকানপাটে সবচেয়ে বেশি মানুষের সংস্পর্শ ঘটে ।এগুলো নিয়মিত স্যানিটাইজ করা প্রয়োজন ।সাধারন ফ্লুয়ের চেয়েও এই ভাইরাস বেশিক্ষণ বেঁচে থাকে(প্লস্টিক কিংবা ধাতব)টাকা বা মুদ্রায় ।টাকা হাতে হাতে ঘুরছে ,নানা জায়গায় ঘুরছে।এটাও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বড় কারণ ।
অবশ্য এই গবেষণার বিষয়ে অনেক বিজ্ঞানী দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন,২৮ দিন সারফেসে বেঁচে থাকা একেবারেই অসম্ভব ।কারণ লালারস শুকিয়ে গেলে ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে না ।এনিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন ।প্রথমত অন্ধকারে এই গবেষণা করা হয়েছে।গবেষণাগারের পরিবেশ আর সাধারন ঘরের পরিবেশ কখনই এক নয় ।তাই মাস্ক ,দূরত্ববিধি মেনে চলা,বার বার হাত ধোয়া এ বিষয়গুলোতেই গুরুত্ব দিতে হবে ।কারণ এই ভাইরাসটি নতুন ।তাই এই নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন ।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয় ।ইতিমধ্যে দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের অস্টম মাস পূর্ণ হয়েছে ।এই শীতে করোনাভাইরাসেরসংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ।তাই এই সময়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি সমূহ যথাযথ ভাবে মেনে চলার বিকল্প কিছু নেই ।
লেখক : সাবেক পরিচালক,কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।