শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০


চলেই গেলেন মেসি !


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.11.2020

মাহফুজ নান্টু।। হতাশায় ঘিরে ধরে ছিলো। কাউকে বলতে পারেনি। অনেকটা চাপা অভিমান নিয়ে বিষপান করে। পরে বাঁচতে অনেক আকুতি মিনতি করে। তবে শেষে হেরে যায় মৃত্যুর কোলে। কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার রাজমেহের এলাকার আবদুল বারেকের ছেলে মাহমুদ হাসান। শনিবার সন্ধ্যায় সবার অলক্ষ্যে বিষপান করে। পরে রাত দশটায় তার মৃত্যু হয়। রবিবার ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট মাহমুদ হাসান। সরকারি টির্চাস ট্রেইনিং কলেজ, কুমল্লা বিএড (অনার্স) অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলো। নানান কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলো। এর আগেও কয়েকবার ঘুমের ঔষধ খেয়েছিলো। ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ায় তাকে এলাকার সবাই ‘মেসি’ বলে ডাকতো।

মাহমুদ হাসানের স্বজনরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় কীটনাশক বড়ি খায় মাহমুদ। এ সময় বন্ধুদের ডেকে এনে বলে তাকে মাফ করে দেয়ার জন্য বলে। বন্ধুরা দুষ্টামি মনে করে। পরে মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রথমে তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তার শরীরজুড়ে বিষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মাহমুদের স্বজনরা ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার উদ্দেশ্য রওনা হয়। পথিমধ্যে এ্যাম্বুলেন্সে বাঁচার জন্য চিৎকার করে বাবা এবং ভাইয়ের কাছে আকুতি জানাচ্ছিলো। আল্লাহ আমাকে বাঁচাও আমি ভুল করেছি। এমন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের কাছে যেতেই রাত ১০ টায় মারা যায় মেহেদী হাসান।
কুমিল্লা সরকারী টির্চাস কলেজের শিক্ষক কাজী বেলায়েত উল্লাহ জুয়েল জানান, মাহমুদ হাসান শিক্ষার্থী হিসেবেও অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী ছিলো।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল আনোয়ার বলেন, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিষপান করে মাহমুদ হাসান। রাত দশটায় ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পথে মারা যায়। আজ রবিবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।