শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনলাইনে কৃষকের জন্য আমন ধান কেনার উদ্যোগ


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনলাইনে কৃষকের জন্য আমন ধান কেনার উদ্যোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.11.2020

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে চলতি আমন মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনলাইনে ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমার পাশাপাশি কৃষকের সময়, খরচ, হয়রানি ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। এদিকে অনলাইনে ধান বিক্রির সুযোগ করে দেয়ায় খুশি বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝেও। তাদের মতে, সাধারণত দালাল কিংবা ফড়িয়াদের জন্য তারা শতকষ্টে উৎপাদিত ধানের মূল্য পেতেন না। তবে সরকারি গোদামে ধান বিক্রির সুযোগ হওয়ায় সে সব ভোগান্তি অনেকটা কমেছে। চলতি আমন মৌসুমে (২০২০-২০২১) জেলায় সরকারিভাবে প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। এর মধ্যে জেলা সদর ও সরাইলে অনলাইনে “কৃষকের অ্যাপের” মাধ্যমে ৫৮৩ মেঃ টন ধান কেনা হবে। এ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করতে চলছে ব্যাপক প্রচার- প্রচারণা। আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত কৃষক নিবন্ধন ও ধান বিক্রয়ের আবেদনের শেষ তারিখ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতিমধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান ক্রয়সহ জেলা থেকে সরকারি চাহিদা অনুযায়ী ধান সংগ্রহে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন চলছে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা। প্রায় প্রতিদিনই মাইকিং করে ধান বিক্রির বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করা হচ্ছে। তবে ধান সংগ্রহরে ক্ষেত্রে বিশেষ নজর কেড়ছে জেলা সদর ও সরাইলে অনলাইনে ধান সংগ্রহ। জেলা সদরে কয়েক বছর আগেই অনলাইনে ধান কেনা শুরু হলেও সরাইল উপজেলায় প্রথমবারের মতো কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে ধান সংগ্রহ করা হবে। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে বেশ উৎসাহ বিরাজ করছে। এই পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ‘কৃষকের অ্যাপ’ নামে অ্যাপটি ডাউনলোড করে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর ও কৃষক উপকরণ সহায়তা কার্ড নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ধানের নাম, জমির পরিমাণ, কী পরিমাণ ধান বিক্রি করতে চান, তা জানিয়ে ঘরে বসেই সরকারের কাছে ধান বিক্রির আবেদন করতে পারবেন। বরাদ্দের আদেশ ও মূল্য পরিশোধ সম্পর্কিত তথ্য এবং বিক্রির জন্য কোন তারিখে, কোন গুদামে যেতে হবে সেসব তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে কৃষক জানতে পারবেন। নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। এ পদ্ধতিতে ধান কেনার উদ্যোগ নেয়ায় কৃষকরাও খুশি। কৃষক জমির আলী বলেন, অন্যান্য বছর দালালদের কারণে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হতো। ধান বিক্রি করে সঠিক সময়ে টাকাও পাওয়া যেত না। তবে সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ায় বিক্রিত ধানের টাকা আমরা সহজেই পেয়ে যাব। কৃষক রহিস উদ্দিন বলেন, আড়ৎদারদের কাছে ধান বিক্রি করে মাসের পর মাস টাকার জন্য ঘুরতে হয়। এ ছাড়া সঠিক দামও পাওয়া যায় না। কৃষক জামাল মিয়া বলেন, অনলাইনে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে যেন প্রকৃত কৃষকরাই নিবন্ধিত হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কোন দালাল বা ফড়িয়ারা যেন কৃষক সেজে কৃষকের এই সুবিধা না নিতে পারে সেদিবে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুবির নাথ চৌধুরী বলেন, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিমণ ধান এক হাজার চল্লিশ টাকা দরে ক্রয় করা হবে। ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই পদ্ধতিতে ধান কেনার ফলে প্রকৃত কৃষকরা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে। বিক্রিত ধানের মূল্য সরাসরি কৃষকের ব্যংক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।